চাঁদপুরের হাইমচরে এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারধরের এক পর্যায়ে চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওমর ফারুক (২২) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে পালিয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর ফারুক উপজেলার উত্তর চরভাঙ্গা (ঢালী বাড়ি) গ্রামের খালেক ঢালীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হত্যার শিকার ওমর ফারুক ছোট লক্ষীপুর গ্রামে তার নানা হাসমত উল্লাহ মৃধার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আজ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে হাসমত উল্লাহর পরিবারের সঙ্গে একই বাড়ির প্রতিপক্ষ কুদ্দুস মৃধা (৩০), বিল্লাল মৃধা (২৫), হাসান মৃধা (২৮) ও হাবিব মৃধাসহ (২১) কয়েকজনের এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ নিয়ে বাকবিতন্ডা ও ঝগড়া বিবাদ দেখা দেয়।
ঝগড়ার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বৃদ্ধ হাসমত উল্লাহকে মারধর করতে উদ্যত হলে নাতি ওমর ফারুক ঝগড়া থামাতে এবং বিরোধ মীমাংসা করতে এগিয়ে যান। এ সময় বিবাদীপক্ষের লোকজন হঠাৎ ওমর ফারুক ও তার নানার পরিবারের লোকজনের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। মরিচের গুঁড়ার তীব্রতায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়লে, প্রতিপক্ষের মধ্য থেকে একজন ধারালো দা দিয়ে ওমর ফারুকের গলায় কোপ দেন। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
বাড়ির লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওমর ফারুককে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর হাইমচর থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে ফারুকের মরদেহ থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত হাবিবসহ ঘটনায় জড়িত আসামিদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে। এ বিষয়ে মামলাসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ফয়েজ/নাঈম