খুলনায় পারিবারিক কলহে তিন খুনের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিহত দুই শিশুর মা ফাতেমা বেগম মেরিকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি নগরীর হরিণটানা এলাকায় তার বোনের বাড়িতে থাকছেন।
গতকাল সোমবার সকালের দিকে তিনি একবার ঘটনাস্থল ভাড়া বাসায় এসে ঘরের বাইরে পড়ে থাকা খাটের জাজিমসহ অন্য মালামাল ঘরে তুলে রাখেন।
তবে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিলেও স্থানীয়দের অভিযোগ ফাতেমা বেগম মেরিকে ঘিরেই। তারা বলছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে তার মা ও দুই সন্তান নিখোঁজ ছিল। পাশের ঘরে তালাবদ্ধ তিন লাশের সঙ্গে শুক্রবার ও শনিবার পুরো দিন কাটিয়েছেন তিনি। এখন কিছুই না জানার ভান করলেও হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে পুলিশের দাবি–স্ত্রীর প্রথম সংসারের দুই সন্তানকে মেনে নিতে না পারা, শাশুড়ি ও সন্তানদের সঙ্গে ঝগড়া এবং অপমানের প্রতিশোধ নিতেই তিনজনকে হত্যা করে মেরির দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল হাওলাদার। তাকে গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।
গত শনিবার রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুল আমান মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বেবী বেগম (৬২), শামীম (১৩) ও মুস্তাকিম (৪) নামে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে দুই ভাই শামীম ও মুস্তাকিমকে শ্বাসরোধ করে এবং তাদের নানি বেবী বেগমকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। মা বেবী বেগম ও দুই সন্তানকে নিয়ে সোনাডাঙ্গার ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ফাতেমা বেগম মেরি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশু দুটির প্রথম বাবা মাসুম ব্যাপারী বাদী হয়ে রফিকুল হাওলাদারকে আসামি করে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে মেরি পুলিশকে জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠে মেরি দেখেন তার শোবার ঘরের বাইরে থেকে তালা দেওয়া। তখন দরজায় ধাক্কা দিলে রফিকুল দরজা খুলে দেয়। তিনি মেরিকে জানান, সকালে তিনি বাড়িতে প্রবেশ করে দেখতে পান তার মা, দুই সন্তানকে নিয়ে বাইরে যাচ্ছেন। যাওয়ার সময় তার ঘর ও নাতিদের ঘরে তালা মেরে গেছেন।
দুপুরের পরও তারা না ফেরায় মেরি ও রফিকুল আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেন এবং পরদিন কবিরাজের কাছে গিয়ে সন্ধানের চেষ্টা করবেন বলে আলোচনা করেন। মেরি কয়েকবার দরজার তালা ভাঙতে গেলে রফিকুল বাধা দেয়।
সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মন্ডল জানান, মেরি বেগম ও রফিকুল মাদকাসক্ত। বৃহস্পতিবার রাতে হত্যার সময় শব্দ হলেও নেশার কারণে মেরি কিছু টের পাননি। এখন পর্যন্ত রফিকুলকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তার করলে জানা যাবে হত্যাকাণ্ডের সময় অন্য কেউ উপস্থিত ছিল কি-না। জিজ্ঞাসাবাদের পর দুই সন্তানের মা মেরিকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।