জেসমিন সাধারণত আমাদের দেশে জুঁই নামে পরিচিত। জেসমিন শব্দটি এসেছে ফারসি শব্দ ‘ইয়াসমিন’ থেকে, যার অর্থ ‘উপহার’। এই ফুল থেকে তেল, প্রসাধনী ও সুগন্ধি তৈরি হয়। এর সৌন্দর্য ও সুঘ্রাণ যে কাউকে মোহিত করে।
জেসমিনের প্রায় ২০০টি প্রজাতি রয়েছে। জুঁই পত্রঝরা অথবা চিরহরিত্ উভয় ধরনেরই হতে পারে। তাদের পাতা উল্টোদিকে গজায়। ফুলগুলো সাধারণত ২.৫ সেমি হয়ে থাকে। এটি বাগানে সৌন্দর্য বর্ধনে ও সুগন্ধের জন্য গৃহস্থালী উদ্ভিদ হিসেবে চাষ করা হয়। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নারীরা সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এই ফুল চুলে লাগায়।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ককে বলা হয় ‘জেসমিনের শহর’। থাইল্যান্ডে একে মাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। ‘জেসমিন’ নামটি বিভিন্ন দেশে মেয়েদের নাম হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। কিছু দেশ ও রাজ্য জুঁইকে সম্মান করে জাতীয় প্রতীক হিসেবে। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে জেসমিন একটি জনপ্রিয় ফুল। এটি স্থানীয়ভাবে ‘পিকাকে’ নামে পরিচিত। জুঁই নিয়ে তাই হাওয়াইতে রচিত হয়েছে অনেক গান।
ইন্দোনেশিয়ায় Jasminum Sambac প্রজাতির জেসমিন জাতীয় ফুল হিসেবে গৃহীত হয় ১৯৯০ সালে। স্থানীয়ভাবে ‘মেলাতি পুতিহ’ নামে ডাকা হয় একে। ইন্দোনেশিয়ান বিয়েতে জেসমিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফুল। এটিকে ‘এরাবিয়ান জেসমিন’ নামেও ডাকা হয়।
জেসমিন ফিলিপিন্সের জাতীয় ফুল। পাকিস্তানের জাতীয় ফুল হলো সাধারণ জুঁই, যা জেসমিনিয়াম অফিশনাল নামেও পরিচিত। এটিকে পাকিস্তানে ‘চাম্বেলি’ ও ‘ইয়াসমিন’ নামেও ডাকা হয়। পাকিস্তানে জুঁই একটি খুব সাধারণ উদ্ভিদ এবং যেকোনো বাগানে এটি পাওয়া যায়।
তিউনিসিয়ার ২০১১ সালের বিদ্রোহকে ‘জুঁই বিদ্রোহ’ বলা হয়। সৌদি আরবের তিনটি জাতীয় ফুলের মধ্যে জেসমিন একটি। সেখানে এটি রয়্যাল জেসমিন নামে পরিচিত। বাংলাদেশে সাধারণত গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালে জুঁই ফুল বেশি ফোটে। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ফুল ফোটার মৌসুম চলে। তবে কিছু প্রজাতি সারা বছরই ফুল দেয় যদি সঠিক যত্ন নেওয়া হয়।
এ ছাড়া আতর তৈরির উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে জুঁই ব্যবহৃত হয়। জুঁই ফুল দিয়ে চা বানানো হয় চীনে। জাপানে এই চা ‘সানপিন চা’ নামে পরিচিত। তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহর জুঁই উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।