অনেক অনেক দিন আগের কথা। তখন মানুষ ঘোড়া, গরু আর হেঁটে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেত। তখন তো গাড়ি, বাস, ট্রেন কিছুই ছিল না। কিন্তু মানুষ ভেবেছিল—‘ইশ! যদি এমন কিছু থাকত, যেটা অনেক লোক একসঙ্গে বসে অনেক দূরে যেতে পারত।’
এই ভাবনা থেকেই একদিন তৈরি হলো ট্রেন।
প্রথম দিকে, খনি থেকে কয়লা টানার জন্য কাঠের রেলপথ বানানো হয়। মানুষ বা গরু সেই গাড়ি টানত। কিন্তু এতে সময় লাগত অনেক। তখন এক বুদ্ধিমান লোক এলেন, নাম রিচার্ড ট্রেভিথিক। তিনি ভাবলেন, ‘গরু নয়, ইঞ্জিনই টানবে গাড়ি।’
সেই ভাবনা থেকেই তিনি ১৮০৪ সালে তৈরি করলেন এক আজব ইঞ্জিন- যা ধোঁয়া ছাড়ে আর শোঁ শোঁ করে চলে। এটিই ছিল প্রথম বাষ্পচালিত ট্রেন! ভাবো তো, ট্রেন ধোঁয়া ছাড়ছে আর সবাই হাঁ করে দেখছে- ‘উফ! কী আজব জিনিস!’
তারপর এলেন আরেক বুদ্ধিমান চাচ্চু- জর্জ স্টিফেনসন। তিনি বানালেন আরও ভালো ট্রেন, নাম দিলেন লোকোমোশন নং ১। ১৮২৫ সালে ইংল্যান্ডে এই ট্রেন প্রথম যাত্রী নিয়ে চলল। মানুষের খুশি আর দেখে কে। একদল মানুষ চেঁচাচ্ছে, ‘হুররে!’ আরেক দল তো বলেই বসল, ‘এ তো জাদু!’
ধীরে ধীরে ট্রেন ছড়িয়ে পড়ল সারা পৃথিবীতে। ভারতেও এল ট্রেন। ১৮৫৩ সালে, মুম্বাই থেকে থানে চলে প্রথম ভারতীয় ট্রেন। সব যাত্রী নতুন যাত্রায় অনেক খুশি, কিছুটা ভয়ও- এই বুঝি ট্রেন উড়ে যাবে!
আর আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে? হ্যাঁ, আমাদের এখানেও এসেছে ট্রেন- ১৮৬২ সালে, প্রথম ট্রেন চলল কুষ্টিয়ার দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত। সেই ট্রেনের গতি ছিল কম, ‘ঝিক ঝিক ঝিক... ঝিক ঝিক ঝিক...’ শুনলেই ঘুম পায়, তাই না?
ট্রেন তখন কাঠের চেয়ারে বসা, জানালায় মাথা বের করা, বাতাসে চুল ওড়া আর পাশে চলা গরুর গাড়ি দেখা- একেবারে রোমাঞ্চকর ব্যাপার!
আজকাল কিন্তু ট্রেন আরও আধুনিক। এখন আছে ডিজেল ও বৈদ্যুতিক ট্রেন, আছে বুলেট ট্রেন- যা ঘণ্টায় ৩০০ কিমিরও বেশি গতিতে ছুটে চলে! এমনকি চুম্বকের মতো ভাসা ম্যাগলেভ ট্রেনও আছে!
ট্রেন এখন শুধু চলার মাধ্যম নয়- এটা একটা রোমাঞ্চ, এক গল্পের নাম।
তোমরা ট্রেনে উঠেছ? জানালায় বসে সূর্য দেখেছ? যদি না দেখে থাকো, তবে বাবাকে বলো, ‘আমরা ট্রেনে চড়তে চাই!’
কারণ ট্রেন শুধু গন্তব্যে নিয়ে যায় না, এটা নিয়ে যায় এক রোমাঞ্চকর যাত্রায়। যেখানে গল্প, খুশি আর নতুন নতুন জায়গার দেখা মেলে।
তো, তৈরি হও। ট্রেনের বাঁশি বাজছে ‘টু টু!’ চলো, আমরা একসঙ্গে ট্রেনে চড়ে যাই।