রাজশাহীর জেলা প্রশাসন ঘোষিত ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী গত ২২ মে থেকে বাজারে এসেছে ‘গোপালভোগ’। এর আগে ১৫ মে থেকে গুটি জাতের আম দিয়ে শুরু হয় চলতি মৌসুমে আম পাড়া, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ। তবে ১১ দিন পার হলেও বাজারে জমেনি আমের বেচাকেনা। সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা নেই বললেই চলে। ফলে দামও গত বছরের তুলনায় কম। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনাবেচা নিয়ে মানুষ ব্যস্ত। এর প্রভাব পড়েছে আমের বাজারে। বাগানি ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের পর বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি আমের হাট পুঠিয়ার বানেশ্বর। কয়েক দিন ধরে সেখানে আম আসছে। সম্প্রতি হাটে দেখা গেছে, চারঘাট, বাঘা, মোহনপুর ও দুর্গাপুর থেকে ভ্যানে বা নছিমন-করিমনে আম এনেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। সড়কের ওপরে বসা হাটে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে কেনাবেচা।
বাজারে পাকা আমের পাশাপাশি আচার তৈরির জন্য কাঁচা আমও বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা আমের দাম প্রতিমণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা মণে। বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় দাম কম। ভোক্তারা বলছেন, দাম নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। আম বিক্রেতা সাগর হোসাইন বলেন, ‘গত বছর গোপালভোগ বিক্রি করেছি আড়াই থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায়। এবার দাম অনেক কম।’ ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি কেজি গোপালভোগ ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মৌসুম জুড়ে এমন থাকলে ভালো হবে।’
চারঘাট থেকে আম নিয়ে আসা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এবার দামও কম, ক্রেতাও কম। গত বছর এই সময় দ্বিগুণ দাম ছিল। মানুষও বেশি ছিল। এবার সবাই ঈদ নিয়ে ব্যস্ত।’ আরেক বিক্রেতা আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘গুটি জাতের আম শুরুতে বিক্রি হলেও এর চাহিদা কম। সবাই আচার বানাতে কিনেছেন। গোপালভোগে বাজার জমবে ভেবেছিলাম, কিন্তু হয়নি।’
তবে অনলাইনে কিছুটা বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে বানেশ্বর হাটে ভিড় করছেন অনলাইন উদ্যোক্তারা। চাঁদপুর থেকে আসা সৌরভ হোসেন বলেন, ‘অনলাইনে যারা অর্ডার দেন, তারা সেরা আম চান। তাই আমরাও চেষ্টা করি ভালো আম কেনার। এবার রাজশাহীতে দাম কম। এতে আমরা খুশি। লাভবান হতে পারব।’ হাটের আড়তদার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিক্রি হচ্ছে ঠিকই, তবে খুচরা ক্রেতা কম। কিছু আড়তদার আম কিনে ট্রাকে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন।’ হাট ইজারাদার মাসুদ রানা বলেন, ‘আমদানি বেড়েছে। ফলন কম হলেও দাম বেশি না।’
ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৩০ মে থেকে লক্ষ্মণভোগ ও হিমসাগর, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা, ১৫ জুন আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই বারি-৪, ১০ জুলাই আশ্বিনা, ১৫ জুলাই গৌরমতি এবং ২০ আগস্ট থেকে ইলামতি আম পাড়া যাবে। কাটিমন ও বারি-১১ সারা বছর সংগ্রহ করা যাবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে সালমা বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজশাহীতে আমের সম্ভাব্য উৎপাদন ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১৫ টন। আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে।’