প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ সময়ে ইলিশ শিকার, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুত করা যাবে না।
বন্ধের আগের দিন রাতে কম দামে বেশি ইলিশ কিনতে ছুটে আসেন উচ্চ থেকে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। তবে শুক্রবার বরিশালের পাইকারি মৎস্যকেন্দ্রে ইলিশের আমদানি কম থাকায় হাজারো মানুষ খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন।
শুক্রবার বিকেল থেকে রাত ১টা পর্যন্ত নগরীর পোর্ট রোডসহ বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নানান শ্রেণি-পেশার হাজারো নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড়। তাদের বেশির ভাগই ইলিশ কিনতে এলেও দাম নাগালের বাইরে থাকায় কিনতে পারেননি।
ক্রেতাদের অনেকে জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ইলিশের দাম স্বাভাবিক থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট আকারের ইলিশের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। তবে কেজির ওপরে ওজনের ইলিশের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কম দেখা গেছে। রাত ১০টার পর থেকে ভিড় কমতে থাকে, আর রাত ১টার মধ্যে বাজার প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে।
শুক্রবার রাত পোর্ট রোড পাইকারি বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২১০০ টাকায়। ৮০০–৯০০ গ্রামের ইলিশ ১৮০০, ৫০০ গ্রামের ১৬০০, ৪০০ গ্রামের ১৪০০ এবং ৩০০ গ্রামের ইলিশ ১০৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর চেয়ে ছোট আকারের ইলিশ ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে পোর্ট রোডে গিয়ে দেখি ইলিশের দাম অনেক বেশি। তাই আমার মতো হাজার হাজার মানুষ খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। বরিশাল ইলিশের আদি জায়গা হলেও কয়েক বছর ধরে সংকটের কারণে দাম বেশি থাকছে।’
ব্র্যান্ড কম্পাউন্ড রোড এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘বছর চারেক আগে এই সময়ে পোর্ট রোড থেকে সস্তায় ইলিশ কিনেছিলাম। তখন খালে প্রায় অর্ধশত ফিশিং বোর্ড ছিল, লঞ্চঘাট মোড় থেকে পোর্ট রোড ব্রিজ পর্যন্ত শতাধিক ট্রাকে ইলিশ ভর্তি ছিল। সকাল ৬টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলত। এবছর রাত ১টার মধ্যেই বাজার ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছে।’
পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী মানিক হাওলাদার বলেন, ‘ গত তিন-চার বছর ধরে বরিশালে ইলিশের আমদানি অনেক কমে গেছে। আগে এই সময়ে শতাধিক ফিশিং বোর্ড ঘাটে আসত, হাজার হাজার মন ইলিশ উঠত। দামও ছিল সাশ্রয়ী। এবার বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঘাটে মাত্র ১২টি বোর্ড এসেছে, যাতে সর্বোচ্চ ২০০ মন ইলিশ ছিল। যা চাহিদার তুলনায় ৮–১০ গুণ কম। ফলে দামও বেড়েছে। তবে এতে ব্যবসায়ীদের মুনাফা বেড়েছে।’
বরিশাল মৎস্য বিভাগ জানায়, জেলার ১০টি উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৮৫ হাজার ১৭৭ জন। এর মধ্যে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৭৫ হাজার ৪৩ জন জেলেকে সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
সবুজ/রিফাত/