‘ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত/ আমরা আনিব রাঙা প্রভাত।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের তারুণ্যদীপ্ত আদর্শে আমরা বলীয়ান। বিজ্ঞানমনস্ক, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন নতুন এই সংবাদপত্রের প্রত্যয় ও অঙ্গীকার। মুক্তচিন্তার স্বাধীন দৈনিক- এই স্লোগান আমরা হৃদয়ে যেমন ধারণ ও লালন করি, তেমনি সেটা বাস্তবে পরিণত করবার জন্যও নিরন্তর প্রচেষ্টায় ব্যাপৃত। বৃহত্তর পাঠকসমাজের আস্থা ও নির্ভরতার জায়গাটা আমরা নির্মাণ ও বিকশিত করার প্রত্যয়ে যত্নবান। নিরেট সত্য ও প্রকৃত তথ্য পরিবেশন করে পাঠকের সংবাদতৃষ্ণা মেটানো আমাদের কর্তব্য ও দায়। সত্য প্রকাশে আমরা নির্ভীক।
সমাজের অবহেলিত, নিগৃহীত মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই। এটা নিছক প্রতিশ্রুতিই নয়, দৃঢ় অঙ্গীকারও। আমরা অনুসন্ধান করব খবরের নেপথ্যের খবর। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির দিকেও আমাদের বিশেষ নজর থাকবে।
কোভিড-উত্তর নিও নরমাল যুগে মানুষের জীবনাচরণ যেমন পাল্টেছে, তেমনি পাঠাভ্যাসসহ অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আমরা লক্ষ করি। প্রতিদিনকার ঘটনা আমরা মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াসহ অন্যান্য মাধ্যম থেকে জানতে পারছি। সে ক্ষেত্রে সংবাদপত্র নতুন আর কী দিতে পারে বা দেওয়া সম্ভব? এই জিজ্ঞাসার জবাব অনুসন্ধান এবং পাঠকের নতুন মাত্রিক চাহিদা পূরণও আমাদের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ। ঘটনা-পরবর্তী নিবিড়-গভীর ফলোআপের ওপর বিশেষ ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হবে সদ্যোজাত দৈনিক খবরের কাগজ-এ। প্রতিদিনই এক একটি নতুন মাত্রার পরিপূর্ণ সংবাদপত্র উপহার দেওয়া আমাদের অন্বিষ্ট ও অভীষ্ট। আমরা সত্য, সুন্দর, ন্যায়নীতি, কল্যাণের পক্ষে। আমরা একই সঙ্গে প্রিন্ট মাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া নিয়ে সংবাদপিপাসুদের সামনে হাজির হচ্ছি। যাত্রারম্ভের এই শুভক্ষণে আমাদের পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও প্রীতি জানাই।
নবীন এই সংবাদপত্রটির কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই। নেই কোনো গোষ্ঠীস্বার্থ, দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের গোপন লিপ্সা বা আকাঙ্ক্ষা। গুজব-প্রভাবিত বর্তমান সমাজে আসল তথ্য জানতে গিয়ে পাঠক, শ্রোতা-দর্শক বিভ্রান্তির চোরাবালিতে নিমগ্ন হন। আমরা সেই কুয়াশাচ্ছন্ন অস্পষ্টতা ও সংশয় দূর করতে চাই। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনার পাশাপশি দুর্নীতি, অন্যায়, অসঙ্গতি, অপকর্ম, নারী নিগ্রহ, শোষণের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও দৃঢ়। শোষিতের সপক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত নীতি অনুসরণে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। যাবতীয় অপশাসন, ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, কূপম-ূকতা, মানবাধিকারের লঙ্ঘন, সাম্প্রদায়িকতাসহ সব ধরনের সংকীর্ণতা, মূঢ় প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে আমরা উচ্চকণ্ঠ, আপসহীন। নিপীড়িতের ন্যায্য প্রতিবাদের ভাষা আমাদের সামনে এগিয়ে চলবার শক্তি, সাহস এবং পাথেয়। উচ্চশিক্ষিত শুধু নন, যারা সামান্য অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন নাগরিক, তাদের সবাই হবেন আমাদের সম্মানিত পাঠক। দেশের পশ্চাৎপদ, অনগ্রসর জনপদের লোকজীবন, সংস্কৃতি-আচার-ঐতিহ্য, স্বপ্ন, প্রতিকূলতা, জীবনসংগ্রামের কথা আমরা তুলে আনতে চাই। বলতে চাই তাদের অভাব-অভিযোগ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বস্তি শান্তি ও প্রত্যয়ের খুঁটিনাটি আলেখ্য। আমরা মনে করি, বৃহত্তর জনজীবন, যেখানে প্রবাহিত হচ্ছে দেশের আনাচ-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলে, সেখানেই রয়েছে দেশের মূল আত্মা। তাদের স্বপ্ন সম্ভাবনার চালচিত্র, আশাবাদের অঙ্কুর হয়ে উঠুক নবীন এই সংবাদপত্র দৈনিক খবরের কাগজ। স্মার্ট বাংলাদেশে এখন আর মফস্বল বলে কিছু নেই। সবাই আমরা মূলধারার মানুষ। বাঙালি-পাহাড়ি মিলে সবাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। দেশটা সকলের। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে মুক্তচিন্তা লালন করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তি-সমৃদ্ধি অর্জন আমাদের লক্ষ্য।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তারুণ্যের অমিত উদ্যম, শক্তি, সংকট উত্তরণে স্পৃহা এবং সাহসী অঙ্গীকারই পারে দেশকে উজ্জ্বলতর, সত্যিকারের স্বনির্ভর করে তুলতে। বিশ্ব সমাজে সম্মানের আসনে লাল-সবুজ পতাকার দীপ্তিতে অহঙ্কৃত দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে। আমাদের তরুণদের মেধা, মনীষা, একাগ্রতা, উদ্ভাবনী প্রতিভা যে বিশ্বমানের, সেটা ইতোমধ্যেই বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ বিজ্ঞান, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ক্ষতিকর ব্রেন ড্রেন প্রতিরোধ করে তারা যাতে স্বদেশে সম্মান ও মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে পারে, সেই পরিবেশ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। মেধাবী ও দেশপ্রেমিক তরুণ প্রজন্ম ছাড়া দেশ এগোতে পারবে না। অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনেও সক্ষম হবে না। তা হলেই আমরা তাদের যোগ্যতা দক্ষতার উৎকর্ষ জাতীয় জীবনে সংযুক্ত করতে পারব। বিশ্বদরবারে রক্তমূল্যে পাওয়া বাংলাদেশ আপন ঐতিহ্য-গৌরবে অভিষিক্ত হতে পারবে।