ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোল! হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিয়েলসার ক্ষোভ ইরানের রক্ষণদুর্গে আটকে গেল বেলজিয়াম গোল বাতিল ইরানের, গোলশূন্য প্রথমার্ধ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড পেলের কীর্তিতে ভাগ বসালেন ইয়ামাল জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা সৌদিকে উড়িয়ে দিল স্পেন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক

সংলাপই সমাধানের পথ

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:১৩ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৪ এএম
সংলাপই সমাধানের পথ

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে একধরনের অস্থিরতা বিরাজমান। ঠিক এমনই এক পরিস্থিতিতে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি পর্যবেক্ষক মহলের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও সুধী সমাজের সাম্প্রতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। এমন কী সফরত মার্কিন প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলও সংলাপের ওপরই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার ব্যাপারে মতামত দিয়ে দেশের বিশিষ্টজনরা বলেছেন সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সংলাপের বিকল্প নেই।

আমরা লক্ষ্য করেছি, নির্বাচন আয়োজনে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারা সার্বিক প্রস্তুতি শেষে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা দিতে পারে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাজ পুরোদমে এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। দফায় দফায় বৈঠক, মতবিনিময় কর্মশালাসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্বাচন কমিশনাররা। ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। নির্বাচনী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটার বিষয়টিও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এদিকে আগামী নির্বাচন উপলক্ষে ডিসি ও ইউএনওদের জন্য জিপগাড়ি কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সবকিছু পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সরকার নির্বাচনের দিকেই এগোচ্ছে।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য চলতি সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে ১ নভেম্বর শুরু হচ্ছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা। আর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সব প্রস্তুতি সারছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ‘খবরের কাগজ’ এর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ভোটে কারচুপি বন্ধ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে জনগণ, রাজনীতিবিদ, প্রার্থী, নির্বাচন কর্মকর্তা, পুলিশ, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রত্যাশিত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার সিভিল অ্যাভিয়েশন মাঠে এক জনসভায় বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন হবেই। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দেবে। মানুষ ভোট দিলে তিনি ক্ষমতায় থাকবেন, না দিলে নেই। আবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার মন্তব্য করেছেন, ‘কে এল, কে এল না তা নয়, জনগণ ভোট দিলেই বড় সফলতা।’ এবারের সংসদ নির্বাচনে ৪৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারবে। ইসি বলছে, আমাদের রাজনৈতিক সংলাপে সব দলকে লিখিত পত্র দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কিন্তু তেমন সাড়া পাইনি। পাশাপাশি অন্য দলগুলোর মধ্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তারা সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সেমিনার করছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নেতারা বলছেন, ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় সরকার গঠন একমাত্র সমাধান।’ খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেছেন, ‘দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।’ 

আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংকটের এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর বিদ্যমান সংকট নিরসনে নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আয়োজন করেছে নির্বাচনী সংলাপ। এটি কতটুকু ফলপ্রসূ হবে ভাববার বিষয়। নির্বাচনকালীন সময়ে কী ধরনের সরকার থাকবে এটি নিয়েই এখন বড় সংকট। বিএনপি বলছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, অপরদিকে সরকার চাইছে বর্তমান সাংবিধানিক উপায়েই সম্পন্ন হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপি অনড় অবস্থানে থাকায় তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান সরকার কাঠামোর মধ্যে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না । রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব মহলের এখন এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুটি কী শেষ পর্যন্ত গণভোটের দিকে গড়াবে; নাকি সংঘাতের দিকে যাবে। তবে জানা যাচ্ছে যে, বড় দুই দলের সমঝোতার বিষয়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্টসহ পশ্চিমা বিশ্বের চাপ রয়েছে দুই দলের ওপর। রাজপথে শক্তি প্রদর্শন হুমকি- ধমকি সবই নির্বাচনকে ঘিরে চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দলগুলোর আসা উচিত আলোচনার টেবিলে। আমরা আগেও দেখেছি এ ধরনের সংকট অনেকটাই সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। ভোটের আগে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) তৈরি করা ভীষণ দরকার। রাজনৈতিক অঙ্গনে দলগুলোর মধ্যে সৃষ্ট সাংঘর্ষিক অবস্থার নিরসনই এখন মুখ্য বিষয়।

আলোচনায় যখন এসেছে সংলাপ, তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত একটি নির্বাচন করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক সংস্কৃতির আগ্রাসন বহু আগে থেকেই এদেশে প্রচলিত ছিল এবং এখনো আছে। এভাবে ইতিপূর্বে স্বৈরশাসনের আবির্ভাব ঘটেছে। তৃতীয় পক্ষের শক্তির একটা উন্মাদনা তৈরি হতে দেখা গেছে। যা আমাদের দেশের জন্য কল্যাণকর কখনো হয়নি। সাধারণ জনগণ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশে কোনো  অরাজকতা বা বাইরের দেশগুলোর নেতিবাচক প্রভাব আসুক সেটা প্রত্যাশা করে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মেঘ অচিরেই কেটে যাক, সেটা সবাই প্রত্যাশা করে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

সম্প্রতি দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বেশ কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। যারা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তাই এখন হুমকির মুখে। অপরাধীদের ধরতে গিয়ে তারা নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজ এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় লোকজন পুলিশের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায়। স্থানীয় লোকজন আটক ব্যক্তিদের ঘর পুড়িয়ে দেয়। এ হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর), পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন। ভাঙচুর করা হয়েছে সরকারি ছয়টি গাড়ি। এদিকে রাজধানীর আদাবরে একজন বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযানে গেলে দুর্ধর্ষ হামলার শিকার হন থানার ওসি এবং একজন এসআই। একপর্যায়ে পুলিশের পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন দুই ছিনতাইকারী আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা খবরের কাগজকে জানান, এ এলাকায় ছিনতাইকারী চক্র এতটাই বেপরোয়া ও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে যে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও ভয় পায় না। প্রকাশ্যেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে। টার্গেট করে হামলা চালায় এবং সবকিছু কেড়ে নেয়। সামান্য বাধা পেলেই তারা প্রকাশ্যে মানুষকে কুপিয়ে জখম করে। মাঝেমধ্যে ছিনতাইকারী-মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও কয়েক দিনের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এভাবে এলাকায় ছিনতাইকারীরা নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধকাজ চালিয়ে যেতে পারে।

গত ১৮ জুন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের তিন সদস্য। পরে আড়াইহাজার থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অপরদিকে স্থানীয়দের দাবি, তারা পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করত। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দাবি, তারা একটি মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। গত শুক্রবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নে এক শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতার হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এভাবে সারা দেশে প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চলছে এবং তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই (জানুয়ারি-মে) পুলিশের ওপর অন্তত ২৬৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর চলতি মাসের মাঝামাঝি বড় তিনটি ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত এ সংখ্যা ৮৭০ ছাড়িয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার, অপরাধবিরোধী অভিযান কিংবা আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে এমন হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

আমরা লক্ষ করেছি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পুলিশকে নিশানা করে হামলা করা হয়েছিল। সে সময়ে পুলিশের মনোবল চরমভাবে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে থাকে। পরে সরকার পুলিশের মনোবল বাড়ানোর জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন। যারা পুলিশের ওপর হামলা করছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা আশা করছি, সরকার অচিরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে এবং তাদের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে স্থান পায়।

ছড়িয়ে পড়ছে এইডস প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

দেশে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে এইডসে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সামাজিক কুসংস্কার ও লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি অনেকে গোপন রাখেন, চিকিৎসা করাতে চান না। ফলে ক্রমেই এ সংক্রমণ অজান্তে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এইচআইভি এখন শহরেই শুধু সীমাবদ্ধ নেই, এর বিস্তার ঘটেছে গ্রাম পর্যায়েও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস, যা মানব দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আক্রমণ করে। চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ে এইডস দেখা দেয়। বর্তমানে এ রোগের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। চিকিৎসার মাধ্যমে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং আক্রান্ত ব্যক্তিও দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

চলতি বছর দেশে জেলা পর্যায়ে সমকামী তরুণদের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা যায় এইডস সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র। খবরের কাগজের বরিশাল প্রতিবেদক জানান, জেলার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ৩ হাজারের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে ২০ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনই উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের হার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে নতুন শনাক্তদের মধ্যে অবিবাহিতের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই শ্রেণিতে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এই হার চলতি বছর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি) কন্ট্রোল প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ১ হাজার ৪৩৮ জন নতুন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত হয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৯১ জনে, যা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ২০২৫ সালে এইডসে ২৫৪ জন মারা যান। অন্যদিকে চলতি বছরও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বছরের মাঝামাঝি আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। সংক্রমিতদের বড় অংশের বসবাস ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনা ও সিলেট অঞ্চলে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে অনুমিত এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৫০০। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৩১৩। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৫ জন চিকিৎসার আওতায় এসেছেন। অর্থাৎ শনাক্ত রোগীদের প্রায় ৭৪ শতাংশ চিকিৎসা পাচ্ছেন। এখনো ২৬ শতাংশ রোগী চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব, সামাজিক লজ্জা ও কলঙ্ক, পর্যাপ্ত পরীক্ষা সুবিধার সংকট এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। অন্যদিকে বিদেশগামী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। যা সংক্রমণ শনাক্তকরণকে আরও কঠিন করে তুলছে।

দেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শুধু চিকিৎসা দিলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। এ ছাড়া গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করতে হবে, যাতে সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী এইডসের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত হতে পারে।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা জরুরি জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দশমিক শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে অবস্থায় অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে গতি না এলে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাক্কলন জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে বৈশ্বিক সংকটে উত্তরাধিকার সূত্রে নির্বাচিত সরকার শিল্প-বিনিয়োগ-ব্যবসা-বাণিজ্যে কতটা গতি আনতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও আছে দশমিক শতাংশ ছাড়া অর্থনীতিতে একধরনের টানাপোড়েন চলছে দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে রপ্তানি আয়েও নিম্নমুখী প্রভাব লক্ষণীয় গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল গত মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দশমিক শতাংশ  নির্ধারণ করেছিল অবশ্য বিশ্বব্যাংকের ধারণা বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে শতাংশের কম এমনকি বৈশ্বিক অচলাবস্থা এবং ইরান-ইসরায়েল আমেরিকার সংঘাতের ফলে আগামী বছরও বিশ্ব অর্থনীতি ধীরগতিতে চলমান থাকবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে

দেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি, ঢাকা চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাংক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসার উচ্চ খরচকে বিনিয়োগ মন্থরতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পেয়েছে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না উচ্চ সুদের হার ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে, জ্বালানি বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছেমূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিট থেকে কমলেও এখনো উচ্চপর্যায়ে  রয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিনিয়োগের গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি কাঁচামালের উচ্চমূল্য আমাদের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে অবস্থায় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আয়-ব্যয়ের যে বরাদ্দ ধরা হয়েছে, তা যদি ৭০-৮০ শতাংশ অর্জিত হয়, তাহলে জিডিপির প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব হবে না তবে সেটা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাজেটের পাশাপাশি শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুৎ সরবরাহ, ঋণের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা, করকাঠামো সহজীকরণ; ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস; নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতিতে সংকট চলছে এমন প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশের নতুন সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আগামীতে শিল্প-বিনিয়োগ-কর আদায় বাড়াতে পারলে প্রাক্কলন অর্জন সম্ভব বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব বাড়বে, এমন আশা করা সাহসের বিষয় তবে বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে

সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এটি একটি ইতিবাচক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু বাজেট ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, বরং সঠিকভাবে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে তাই বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারকে লক্ষ্য অর্জনে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে

শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি

সমস্যাটি আকস্মিকভাবে নয়, তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতায়। স্মার্টফোনের আসক্তিতে আমাদের শিশু-কিশোররা ডুবে আছে। দিনের অধিকাংশ সময় তারা ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের ভার্চুয়াল জগতে আচ্ছন্ন থাকছে। এ জগৎ মূলত অলীক, বাস্তবের নয়; এমনকি সৃজনী-কল্পনার জগৎও নয়। বর্তমান প্রজন্ম এভাবে বন্দি থাকায় খেলাধুলা আর বইয়ের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অনেকেই ভুগছে মানসিক সংকটসহ নানা ধরনের অপরাধে। দেখা দিচ্ছে শারীরিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট। একটা পুরো প্রজন্ম এখন প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার চেয়ে প্রযুক্তির আগ্রাসনে বিপন্ন। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে এই সংকট এতটাই বিস্তৃতি পেয়েছে যে বিশ্ব গণমাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণের খবর বেরোচ্ছে। উন্নত দেশগুলোই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে সবার আগে। ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ করছে স্মার্টফোনের ব্যবহার।

উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের মতো পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর পার্থক্য অনেক। মূল পার্থক্য শিশুদের সুরক্ষায় তাদের নানা ব্যবস্থা রয়েছে। আইনকানুনের পরিবর্তে পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রিক পরিবেশ এমন যে শিশুরা সেখানে নিরাপদে বেড়ে ওঠে। এর পরও তারা স্মার্টফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। সেই তুলনায় আমাদের দেশে শিশু নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ নাজুক। সামাজিক ও পরিবেশগত নিরাপত্তার অভাবে শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে স্মার্টফোনের ব্যবহার তাদের আরও অনিরাপদ করে তুলছে। তারা মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশে এখন শিশু-কিশোরদের জন্য স্মার্টফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা জরুরি। শিশু-কিশোরদের নানামুখী সংকট যেভাবে বাড়ছে, তাতে এর কোনো বিকল্প নেই।

স্মার্টফোন হাতে পেলে শিশু-কিশোররা প্রথমেই সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্ত হয়। ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবে সময় কাটায়। স্কুলের সময়টা যেভাবেই হোক, বাকি সময় এসবে বুঁদ হয়ে থাকে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীকে তাৎক্ষণিক তৃপ্তি দেয়। প্রায় সম্পূর্ণ মনোযোগ স্মার্টফোনে নিবদ্ধ থাকে। খেলাধুলা না করায় শরীর স্থূল হয়ে পড়ে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দেয়, পড়াশোনায় ঘাটতি পড়ে, সৃজনীক্ষমতা লুপ্ত হতে থাকে।

বিশ্বজুড়ে সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল হয়রানি একধরনের স্বাভাবিক প্রবণতা হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের যৌন হয়রানিও ঘটে। কিছুদিন আগে এই অপরাধে বাংলাদেশের একজনকে মালয়েশিয়া থেকে আটক করে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। কোমলমতি ছেলেমেয়েদের কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক-মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কাছাকাছি চলে আসায় হার্দ্রিক টানাপোড়েনেরও শিকার হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা ঘটছে। এতে বাড়ছে মানসিক সংকট, ব্যাঘাত ঘটছে পড়াশোনায়। পরিবারের সদস্যরা পরস্পরকে যদি বেশি সময় দেয়, তাহলে পারিবারিক বন্ধন স্বাভাবিক থাকে। ভার্চুয়াল জগতে শিশু-কিশোররা বেশি সময় কাটানোর জন্য এই বন্ধনও এখন অনেকটাই শিথিল, বিশেষ করে নগরজীবনে। একসময় রূপকথার বই বা অন্য সৃজনশীল বই পড়ে শিশুরা বেড়ে উঠত। স্মার্টফোনের কারণে এই অভ্যাস এখন উঠেই গেছে। বই পড়ার পরিবর্তে ফেসবুকে সময় কাটাতে ভালোবাসে শিশুরা। অপরাধ জগতেও তাদের প্রবেশ ঘটছে সহজেই। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপত্তির উৎস এই স্মার্টফোন।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই আসক্তি এখন বিশ্বজনীন সমস্যা। শিশু সুরক্ষায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা অনুসারে ১৬ বছরের কম বয়সীরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবে না। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, ইংল্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় শিশুদের প্রবেশাধিকার প্রতিরোধ করার জন্য নিজস্ব পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। আমাদের দেশেও এখন এই বয়সী শিশুদের জন্য এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে। খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই অভিমতই দিয়েছেন দেশের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিটও করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের এর হাত থেকে রক্ষা করা না গেলে একটা প্রজন্ম ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। নিষিদ্ধের বিষয়টি এখনই ভেবে দেখা প্রয়োজন। তবে এককভাবে নয়, এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। আমরা মনে করি, সরকারের একার পক্ষে এটা নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়। অভিভাবক, শিক্ষক, পুলিশ, সমাজপতিদের সম্মতি ও গণমাধ্যমের প্রচারের সম্মিলিত উদ্যোগেই এটা নিষিদ্ধ করা সম্ভব। সরকার এ জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পারে। অন্য দেশগুলো যেহেতু অনেক ভেবেচিন্তে, গবেষণা করে নিষিদ্ধ করেছে, আমাদেরও শিশু-কিশোরদের জন্য নিষিদ্ধ করা জরুরি।

ঢাকা-দিল্লি আবার উত্তেজনা স্বীকৃত কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে হবে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
স্বীকৃত কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে হবে

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে আবার একধরনের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্রাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতের দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি প্রবেশের অনুমতি পেলেও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় ফিরে এসেছেন। তার ফিরে আসার এ ঘটনায় বাংলাদেশে তুমুল আলোচনার জন্ম হয়েছে। 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে গতকাল, অর্থাৎ ঘটনার এক দিন পর জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের কাছে তার ফিরে আসাকে ‘ইন্সট্যান্ট’ বা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেছেন।

খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাহেদ উর রহমানের দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নোট ভার্বাল দিয়ে জানানো হয়েছিল। দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পরিচয় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের আগে তার ইউটিউব চ্যানেল ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভারতবিরোধী বক্তব্যের কারণে তার পাসপোর্ট ব্ল্যাকলিস্টেড করে ভারত। তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন। কালো তালিকাভুক্ত করার কারণে তাকে দিল্লি বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। পরে খোঁজখবর নিয়ে দিল্লি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু তিনি পাসপোর্ট ফেরত নিয়ে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে দিল্লিতে কেন কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নিয়ে গেলেন। যদি আমরা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাই, তাহলে এ নিয়ে উত্তেজনা না বাড়িয়ে কী কারণে এটা ঘটেছে, সেটা কথা বলে মিটিয়ে নেওয়া ভালো। দেশের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া উচিত।
বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত নিঃসন্দেহে। প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার উপদেষ্টার ভারতে ঢুকতে না পারাটা উভয় দেশেরই কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিগত অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। বাংলাদেশের নির্বাচিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। ভারতের দিক থেকেও উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা শোক জানাতে ঢাকা এসেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও কয়েকবার দিল্লি গেছেন। কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টাও রয়েছে। কিন্তু এ ঘটনাটি এমন একসময়ে ঘটল, যখন ভারত থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে কথিত বাংলাদেশিদের পুশইনের খবর আসছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে এ সমস্যা নিয়ে বৈঠকও হয়েছে, কিন্তু উত্তেজনা প্রশমন ঘটেনি।

পরিস্থিতি যা-ই হোক, অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে যেমন সংবেদনশীল, তেমনি আমাদেরও কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে হবে। এর প্রধান উপায় হচ্ছে আলাপ-আলোচনা করা। সামনে দুই দেশের মধ্যকার আরও কিছু সমস্যার সমাধান করার বিষয় রয়েছে। সেসব সমস্যা যাতে সমাধান করা যায়, সে ব্যাপারে উভয় দেশকেই সতর্ক থেকে এগিয়ে আসতে হবে। উত্তেজনা না বাড়িয়ে পরস্পরের স্বার্থে সমমর্যাদা নিয়ে সমাধানের পথ বের করতে হবে। ভারতীয়দের যেমন অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হওয়া ঠিক হবে না, তেমনি আমাদেরও যৌক্তিক ও স্বীকৃত কূটনৈতিক পথে অগ্রসর হতে হবে।