ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান! যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর ঐক্যের গান গাইলেন পচেত্তিনো মীনা বাজারে চাকরির সুযোগ, শুক্র-শনিবার ছুটি ইংল্যান্ডের ফুটবল ও বুট চুরি করল কে? গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে চুরি শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী, চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত যেভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হলেন মাস্ক এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের
Nagad desktop

দেশের অর্থনীতিতে ক্ষত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যতম সূচকগুলোর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। দেশে কর্মসংস্থান নেই, বেকারত্ব বাড়ছে, বিনিয়োগে রয়েছে খরা। রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় মূল্যস্ফীতি কমছে না। এতে সরকারের অর্থসংকট আরও বেড়েছে। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সরকার এলেও এ সংকট কাটিয়ে অর্থনীতিতে গতি আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। বর্তমানে বেশির ভাগ নীতি ব্যবসাবান্ধব নয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই সংশোধিত শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। ব্যাংকঋণে সুদের হারে ছাড় নেই। এলসি (ঋণপত্র) খোলায় কড়াকড়ি করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় বিদেশিরা বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর অচল হয়ে পড়েছে। বন্দরের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে এসে ব্যবসা পরিচালনা করতে নিরুৎসাহিত হবেন। বিশ্বব্যাংক, এডিবি বা বাংলাদেশ সরকার যে-ই জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ার হিসাব করুক না কেন, এটা স্পষ্ট যে অর্থনীতির এই পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়বে না। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এবং চলতি অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির বেশির ভাগ সূচক প্রায় একই আছে। চলতি অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ার তেমন প্রভাব নেই অর্থনীতিতে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে। নতুন সরকার কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করলে শিল্প খাত শক্তিশালী হবে এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। এতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে। তবে ঝুঁকির কথা হলো, মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করায় ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিবিএসের তথ্যানুসারে, এক দশক ধরেই দেশে বেকারের সংখ্যা ২৫ থেকে ২৭ লাখের মধ্যে। গত কয়েক বছরে দেশে বাণিজ্য চক্রজনিত বেকারত্ব বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। প্রতিবছর দেশে অন্তত ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে আসছে। গত কয়েক বছরে ১৪ লাখ মানুষ বেকার হয়েছে। আগের বেকারের সঙ্গে নতুন বেকার যোগ হয়ে অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি এক থেকে দেড় বছর পর ৬ শতাংশ আসতে অর্থনীতিতে যে প্রস্তুতি দরকার, তা যে সরকারই দেশ পরিচালনায় থাকবে তার পক্ষে কঠিন হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক অর্থনীতির বিশ্লেষক ড. মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। হিসাব মেলানোর জন্য কিছু প্রাক্কলন করা হলেও তা বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। একটা নির্বাচিত সরকার এলেও রাতারাতি দেশে বিনিয়োগ বাড়বে না। শিল্পকারখানা নির্মাণে সময় লাগবে। রাজস্ব আয় বাড়বে না। অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের বেতনের বাড়তি অর্থ জোগাড়, প্রকল্প বাস্তবায়ন নতুন সরকারের জন্য কঠিন হবে।

দেশের অর্থনীতি ক্ষত বয়ে নিয়ে যাচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরে। সংকট উত্তরণে অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা খুব একটা সফল হয়নি। কারণ আগে থেকেই অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে নেতিবাচক ধারা প্রবহমান ছিল। সেই ধারা থেকে বের হয়ে আসতে হলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। এ জন্য সরকারকে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অর্থনীতির ক্ষত সারিয়ে তুলতে বেসরকারি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বেকারত্ব দূর করতে হলে কর্মসংস্থান বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে একটি কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবে, এটাই কাম্য।

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১০ পিএম
কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন

চুরি, সিস্টেম লস, অপচয়, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনাগত কারণে ভর্তুকিতে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা। এতে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে রাষ্ট্রের। বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ভর্তুকির ওপর নির্ভর করে টিকে আছে পুরো বিদ্যুৎ খাত। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা, অবৈধ সংযোগ, মিটার কারসাজি এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ খাত এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট, বাজার এবং অস্থায়ী স্থাপনায় সরাসরি বিদ্যুতের লাইন থেকে সংযোগ নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া মিটার টেম্পারিং, বাইপাস সংযোগ, বিলিং জালিয়াতি এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং স্টেশন থেকেও বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব চার্জিং পয়েন্টে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলেও কোনো বৈধ হিসাব থাকে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের কারসাজিতে হচ্ছে অনিয়ম-দুর্নীতি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওই সব অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুতুড়ে বিল, মিটার জালিয়াতি, অবৈধ সংযোগ, সিস্টেম লসের নামে অনিয়ম এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কার্যকর জবাবদিহি ও শাস্তির নজির না থাকায় পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতি হচ্ছে না। অন্যদিকে বছরের পর বছর বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হলেও খাতটির আর্থিকসংকট কাটছে না।

চলতি মাসে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ এবং  পাইকারি দাম ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। 
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বিদ্যুতের সিস্টেম লস সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশে তা ১০ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো অবকাঠামো, দুর্বল ট্রান্সফরমার, জরাজীর্ণ লাইন এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে প্রযুক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি চুরি ও অনিয়ম মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, বিদ্যুৎ খাতে লোকসানের পেছনে বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তাদের চুরির কারণে সংকট কাটছে না বলে তিনি মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ খাত একটি অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের লাগামহীন দুর্নীতি ও চুরির কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা ভোক্তাবিরোধী ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিচারের কোনো নজির নেই। বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতির কথা বলে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও বাস্তবে আর্থিক ঘাটতি কমছে না, বরং প্রতিদিনই তা বাড়ছে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণকে সেবা দেওয়া, মুনাফা অর্জন নয়। তাই শুধু দাম বাড়ানোর নীতি অনুসরণ না করে সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিদ্যুতের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার উদ্যোগও প্রয়োজন।

বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ খাত বেশ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এ জন্য সরকারকে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। চুরি, অপচয়, সিস্টেম লস ছাড়াও অব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি এ খাতকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিদ্যুতের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে না থাকায় ভোক্তাদের ওপর এক ধরনের চাপ রয়েই গেছে। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর যেসব অসাধু কর্মকর্তা সিন্ডিকেট কারসাজিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আশা করছি, সরকার সাধারণ জনগণের স্বার্থে অতি দ্রুত লোকসান কমাতে পদক্ষেপ নেবে।

জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে জোর দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে জন-আকাঙ্ক্ষা অনেক। বর্তমান বিপর্যস্ত অর্থনীতি থেকে উত্তরণে সরকার কতটা জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারবে, তা নিয়ে অর্থনীতির বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী বাজেটে বিপর্যস্ত অর্থনীতি থেকে উত্তরণ, বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলা, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা, জ্বালানিসংকট ও বিনিয়োগে স্থবিরতা দূর করার চাপ আছে। প্রত্যেক মানুষের কথা মাথায় রেখে বাজেট করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা এবং রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা বাজেটে নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেটা কীভাবে সফল করা হবে, তা নির্ধারণ করে কার্যকর করা। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়। এরপর বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেন। এবার প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে গণতান্ত্রিক, মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘সীমিত সম্পদের মানুষকে স্বস্তি দিতেই এবারের বাজেট।’ প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্যমতে, আগামী অর্থবছরের মোট দেশজ  উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

এবারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১০ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হলো সবার জন্য উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি বিনিয়ন্ত্রণকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ, প্রযুক্তির বিকাশ, প্রকৃতি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছ-দক্ষ জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

এখন নতুন সরকারের কাছে চাওয়া–প্রথম বাজেটে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে। দেশে বেশ কিছু বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। তাই অবাস্তব ও অতি উচ্চাভিলাষী বাজেটের পরিবর্তে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে আগামী বাজেট হতে হবে জনবান্ধব। যদিও সরকার এবারের বাজেটে চাল, ডাল, লবণ, চিনি, হাঁস, মুরগি, তেলসহ ৬০টি পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কখনোই শতভাগ বাজেট বাস্তবায়নের রেকর্ড নেই। বড় বাজেট ঘোষণা করা হলেও অনেক সময় দেখা যায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবছরই নানা ধরনের কাঠামোগত, আর্থিক ও প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়ে সরকার। তাই বছরের শুরু থেকেই আগামী বাজেট বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে। বিভিন্ন খাতে যে বরাদ্দ থাকে, সেগুলো দেখা যায় বছরের শেষ দিকে অতিমাত্রায় বাস্তবায়নে তৎপরতা দেখানো হয়, ফলে কোনো কাজই সফলভাবে সম্পন্ন হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বরাদ্দের অর্থ ফেরত যায়। তাই আমরা আশা করব, বর্তমান সরকার বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বছরের তার থেকেই কাজ শুরু করবে। প্রথম বছর থেকেই যদি সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পালনের ব্যাপারে মনোযোগ দিতে পারে, তাহলে জনগণের মনে আশার সঞ্চার হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই হোক সরকারের মূল লক্ষ্য।

বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দর্শকদের প্রতি শুভকামনা থাকল

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
দর্শকদের প্রতি শুভকামনা থাকল

বিশ্বকাপের কথা মনে পড়লেই দিকে দিকে রোমাঞ্চ জাগে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টায় বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধন হতে চলেছে। এটিই হচ্ছে আমাদের পৃথিবীর একক খেলাধুলার সবচেয়ে বড় আয়োজন। 
ফিফা বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের বিশালত্বই এর মহিমা। বিশ্বকাপের ২৩তম এই আসরে বেশ কিছু ‘প্রথম’ ঘটনা যুক্ত হতে যাচ্ছে। এই প্রথম কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে, অর্থাৎ সম্পূর্ণ একটি মহাদেশজুড়ে টুর্নামেন্টটি হবে। সম্প্রসারিত এই টুর্নামেন্টে ৩২টি দলের পরিবর্তে ৪৮টি দল অংশ নেবে। টুর্নামেন্টের সময়ও বাড়বে: এবারের আসরটি ৩৯ দিন স্থায়ী হবে। ১০৪টি ম্যাচ কানাডার দুটি, মেক্সিকোর তিনটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের এগারোটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রথম পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপ কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

স্বাগতিক দেশ হিসেবে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের এবারই বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটবে। ২০২২ সালে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় টুর্নামেন্টের কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। অংশগ্রহণ করা দলগুলো ৪টি করে মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী সেরা ৮টি দল নিয়ে পরবর্তী ধাপে অনুষ্ঠিত হবে নতুন ‘রাউন্ড অব ৩২’ পর্ব। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নিউজার্সি (মেটলাইফ) স্টেডিয়ামে। ফিফা আশা করছে, পৃথিবীজুড়ে ৬ কোটি দর্শক, অর্থাৎ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বিশ্বকাপ দেখবে। বৈশ্বিক এই আনন্দযজ্ঞের গভীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গুরুত্ব রয়েছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া ইভেন্ট হিসেবে বৈশ্বিক ঐক্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিশাল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টটি প্রতি চার বছর পরপর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংহতি তৈরি করে। জাতীয় গৌরবের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র ও অঞ্চলকে একত্রিত করে। টুর্নামেন্টটির আয়োজক শহর ও দেশগুলোর জন্য বয়ে আনে গৌরব। এতে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা, হসপিটালিটি সেক্টরের সম্প্রসারণ ঘটে। লাখ লাখ দর্শক আয়োজক অঞ্চলগুলোতে ভ্রমণ করেন, যা স্থানীয় বাজার, মিডিয়া শিল্প ও করপোরেট স্পনসরদের জন্য শতকোটি ডলারের অর্থনৈতিক চাঙাভাব তৈরি করে। 
এর কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। আয়োজক দেশগুলোকে বিশাল বিশ্বমঞ্চে তাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বৈশ্বিক প্রভাব প্রদর্শনের সুযোগ করে দেয়। ফিফা সক্রিয়ভাবে এই টুর্নামেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা প্রচারের কাজে লাগায়। শিক্ষার পক্ষে কথা বলতে এবং ক্ষুধা দূরীকরণের লক্ষ্যে তারা ইউনেসকো এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মতো সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে থাকে। সামাজিক দায়বদ্ধতা, বিশেষ করে মানবাধিকার এবং জলবায়ুসংক্রান্ত সমস্যা দূর করার প্রতিশ্রুতিও পালন করছে ফিফা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। বিশ্বকাপে এখনো বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়নি। তবে আমাদের অধিকাংশ দর্শক মূলত দুটি দেশের ‘ফ্যান’ বা সমর্থক; এর একটি আর্জেন্টিনা, অন্যটি ব্রাজিল। বিশ্বকাপ চলাকালে এ দেশের মানুষের আবেগ এই দুটি দেশকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। অন্য দলগুলোরও কমবেশি অনুরাগী রয়েছে, তবে তা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের পুরোটায় বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের চোখ যেমন টেলিভিশনের পর্দায় নিবদ্ধ থাকবে, তেমনি বাদ-প্রতিবাদ, বিজ্ঞের মতো চুলচেরা বিশ্লেষণও করতে দেখা যাবে অনেককে, বিশেষ করে তরুণদের। একই দলের সমর্থকরা এ সময় পরস্পরের মধ্যে যে ঐক্য অনুভব করেন তা অভূতপূর্ব। এ সময় সাধারণত দেখা গেছে, অপরাধ অনেক কমে যায়। সমাজে তুলনামূলকভাবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে। অর্থনীতিও এ সময় চাঙা হয়ে ওঠে। তবে অনেক দুঃখজনক ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে। সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও মৃত্যুবরণ করেছেন।

খেলা আসলে খেলাই, আনন্দের উপলক্ষ মাত্র। এই আনন্দযজ্ঞে মর্মান্তিক বেদনাবিধুর এ রকম ঘটনা একেবারেই প্রত্যাশিত নয়। আমরা সবাইকে আহ্বান জানাব, আপনি যে দলের সমর্থক হন না কেন, ফলাফল মেনে নেবেন। জয়ের আতিশয্যে বা পরাজয়ে বিমর্ষ হয়ে নিজের জীবনকে বিপন্ন করবেন না। সব সময় সৌহার্দ্য বজায় রেখে খেলাকে উপভোগ করে এর মূল স্পিরিটকে অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। মনে রাখবেন, খেলাধুলার চেয়ে জীবন অনেক বড়। খেলাধুলা আমাদের মধ্যে আনন্দের অনুভূতি সঞ্চার করে জীবনকে বর্ণিল করে তোলে। জীবনের এই জয়গান দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। শুরুর প্রাক-মুহূর্তে বাংলাদেশের দর্শকদের প্রতি শুভকামনা থাকল।   

স্বাস্থ্য খাতের সংকট বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের সংকট বহুমাত্রিক। অপর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ডাক্তারসংকট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সমস্যাটি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া সম্ভব। 

সাধারণত বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতের মূল সমস্যা অর্থের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অর্থের অপ্রতুলতা নয়, বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ থাকে তাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্যয় করতে পারে না। খবরের কাগজে গতকাল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের ৪০ শতাংশ খরচ করতে পারেনি। দেশে হামের মতো একটি সাধারণ রোগের টিকা পর্যন্ত আমদানি করা হয়নি। শুধু হাম নয়, আরও অনেক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারের অর্থ ব্যয় করে নিয়মিত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হতো, বিগত সরকার তাও নেয়নি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কাজও হয়নি। চরম গাফিলতি ঘটেছে স্বাস্থ্যসেবায়।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা (প্রায় ৪১৪০৮ কোটি টাকা) বরাদ্দ দিয়েছিল। ওই বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের প্রায় ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ; মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ওই বাজেটে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। আগের তুলনায় টিকা কেনায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু এই বরাদ্দের প্রায় ৬০ শতাংশ ফেরত গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাবেক অর্থ উপদেষ্টার পরিকল্পনাগুলোর প্রায় সব বরাদ্দ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। দেশে হামের কারণে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ হামের টিকা আমদানি করা হয়নি। এভাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত যাওয়া শুধু দুঃখজনক নয়, মর্মান্তিকও। একটি প্রজন্মের এত এত শিশুর প্রাণ হারানোর জন্য অর্থ নয়, দায়ী বিগত সরকারের সার্বিক অদূরদর্শিতা ও অব্যবস্থাপনা।

বছর ঘুরে আগামীকাল আবার নতুন বাজেট ঘোষণা করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই বাজেটে যে ১০ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ দ্বিতীয়। মোট বাজেটের আকার হিসাবে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিডিপির ভিত্তিতেও আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ বাড়ছে। নিঃসন্দেহে এটি স্বাস্থ্য খাতের জন্য সুখবর। কিন্তু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, এর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্পের বেশির ভাগ মহাপরিচালক-পরিচালকের প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকে না। ফলে এ ক্ষেত্রে সাফল্য একেবারেই আশানুরূপ নয়। অথচ আমাদের মতো গরিব দেশে সরকারি বরাদ্দ ব্যয় না হওয়া অপরাধ। এ দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে এক-একজন মানুষ নিজের চিকিৎসা খরচের ৬০-৭০ শতাংশ ব্যয় করেন। এদের বড় অংশই দরিদ্র।

অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অনির্বাচিত সরকার। জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক দাবি, সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না। যথাযথভাবে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় করে দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সরকারি চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কোনো অবহেলা সাধারণ মানুষ সহ্য করার পর্যায়ে নেই। জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে যে দুঃসহ অবস্থা চলছে, অন্তত স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

স্মার্টফোনের পর্দায় জুয়ার আসর বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে অনলাইন জুয়া। মোবাইল অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নীরব এই মহামারি। আবালবৃদ্ধবনিতা কেউ রেহাই পাচ্ছে না ভয়ংকর এই থাবা থেকে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, স্কুলশিক্ষার্থীরা এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এর ভয়াবহতা এতটাই কঠিন যে কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। এসব অনলাইন জুয়ার কারণে আত্মহত্যা, খুন, চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন এবং বিকাশ ও নগদে লেনদেন সহজ হওয়ায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর অনলাইন বেটিং সিন্ডিকেট। অনলাইন জুয়ায় শুধু মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেই না, এর মাধ্যমে বিকাশ, নগদে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যমতে, নগদ৮৮, বাবু৮৮, সিভি৬৬৬, সিকে৪৪৪, ক্রিক্রিয়া, লাইনবেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে চলছে জুয়ার আসর। দেশে বিকাশ, নগদ, রকেটের মাধ্যমে সহজে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা থাকায় দ্রুত বাড়ছে এ ধরনের অপরাধ। অনেক তরুণ জুয়ার টাকা জোগাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, শুরুতে সামান্য লাভ দেখিয়ে অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলে। এরপর আস্তে আস্তে তাদের নিঃস্ব করতে থাকে। বেশি লোভের ফাঁদে পড়ে মানুষ এ পথে পা বাড়ায়। তখন মানুষ এ থেকে বের হতে চাইলেও আর ফেরার পথ হারিয়ে ফেলে। অধিকাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগ করতে চান না। এর ফলে মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

অভিযোগ উঠেছে, অনলাইন জুয়ার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী এজেন্ট সিন্ডিকেট, মাস্টার এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা। এরা অনলাইন জুয়ার জগতের পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। জানা গেছে, খেলোয়াড় হারলেও তারা কমিশন পেয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তারা অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে থাকে। এসব বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় সেলিব্রেটিদের এআই-নির্মিত ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অধিকাংশ বেটিং সার্ভার বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মূল হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত অঞ্চলগুলোয় এ ধরনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটপাতের দোকানি থেকে শুরু করে সিএনজিচালক, কলেজশিক্ষার্থী, নির্মাণশ্রমিক, গৃহপরিচারিকা, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত এসব বেটিং অ্যাপে জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে জড়িয়ে এজেন্টরা হঠাৎ করে কালোটাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমান বৈধ কোনো আয় না থাকলেও দেখা যাচ্ছে হঠাৎ করে বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভয়ংকর এই জুয়ার নেটওয়ার্কের বড় শক্তি হলো সহজ প্রযুক্তি ও মোবাইল ব্যাংকিং। জানা গেছে, অনেক গ্রাহক দিনে কয়েকবার বহু অঙ্কের টাকা ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি অনলাইন জুয়ার অংশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের ধরলেও কিছুদিন পর জামিন নিয়ে বের হয়ে দেশের বাইরে চলে যায়। অপরাধীরা বিদেশে বসে এ ধরনের অপরাধে সক্রিয় থাকে। পুলিশ প্রশাসনও বলছে, মূল হোতারা বিদেশে থাকায় তাদের জন্য তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া টাকার প্রবাহ যেখানে বেশি সেখানেই এ ধরনের জুয়ার কার্যক্রম বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই এ ধরনের জুয়া, হুন্ডি, অর্থ পাচার ঠেকাতে ডিজিটাল নজরদারি বাড়াতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেলে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে রিপোর্ট করতে হবে। অনলাইন জুয়া সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। এ জন্য সরকারকে একটি সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়াতে সরকারকে কাজ করতে হবে।