ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ইলন মাস্ক। গত শুক্রবার তার মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স-এর শেয়ারবাজারে এক ঐতিহাসিক অভিষেকের পর এই প্রযুক্তি সম্রাটের মোট সম্পদ আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়ায়, যা তাকে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ বা লাখো-কোটিপতির মর্যাদায় ভূষিত করে।
কোম্পানিটির প্রাথমিক প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৩৫ ডলার। তবে বিনিয়োগকারীদের তুমুল আগ্রহের কারণে লেনদেনের শুরুতেই এর দাম ১১ শতাংশ লাফিয়ে ১৫০ ডলারে পৌঁছায়। শেয়ারের এই ঊর্ধ্বমুখী গতি এখানেই থেমে থাকেনি; দিনভর এটি প্রায় ১৭২ ডলারে ওঠানামা করতে থাকে। ফলে স্পেসএক্সের মোট বাজারমূল্য রেকর্ড ২ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকে।
মাস্কের এই নতুন ট্রিলিয়নেয়ার খেতাব মূলত স্পেসএক্স এবং তার বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার বিপুল পরিমাণ শেয়ারের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশাপাশি নিউরোটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক এবং টানেল নির্মাণকারী সংস্থা দ্য বোরিং কোম্পানির মতো ভবিষ্যতমুখী উদ্যোগগুলোতেও তার বড় অঙ্কের মালিকানা রয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে জেফ বেজোসকে টপকে ১৮৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েছিলেন মাস্ক। আর এবার নিজের সম্পদকে তিনি নিয়ে গেলেন এক সম্পূর্ণ নজিরবিহীন উচ্চতায়।
মাস্কের মতে, তার জীবনের চূড়ান্ত ও ব্যয়বহুল স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতেই স্পেসএক্সকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় করতে গিয়ে কোম্পানিটি ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিল।
এখন শেয়ারবাজার থেকে সংগৃহীত এই নতুন পুঁজি মাস্ক ব্যবহার করতে চান বিশাল মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার স্থাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে প্রতিযোগীদের ছাড়িয়ে যাওয়া এবং মঙ্গলে ১০ লাখ মানুষের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বসতি গড়ে তোলার চূড়ান্ত স্বপ্ন পূরণে। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/অমিয়/