ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে তবু হাইতিকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস

Peace Movement বিষয়ক Writing Paragraph নিয়ে আলোচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ২য় পত্র

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
Peace Movement বিষয়ক Writing Paragraph নিয়ে আলোচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ২য় পত্র
শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রশ্ন নিয়ে গ্রুপ ডিসকাশন করছে। ছবি- সংগৃহীত

PARAGRAPH WRITING

Peace Movement

War is a curse for human civilization. War brings death and destruction. There are some organizations in the world working for establishing peace. A peace movement is a social movement that aims at ending a particular war or all wars and minimizing inter-human violence. It works to achieve world peace. To achieve the goals, the peace movement activists apply different methods such as advocacy of pacifism, non-violent resistance, diplomacy, boycotts, demonstrations, peace camps; supporting anti-war political candidates and banning guns, creating open government, direct democracy. They also support people who expose war-crimes or conspiracies to create wars. Different organizations involved in peace movements may have some different goals, but one

আরো পড়ুন : Celebration of 16th December/21st February বিষয়ক Writing Paragraph নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ২য় পত্র

common goal is sustainability of peace. Peace movement is basically an anti-war movement. Man should not start war over language, race, natural resources, religion or ideology. The first peace movement started in 1815-1816. The first such movement in the United States was the New York Peace Society. It became an active organization, holding regular weekly meetings, and producing literature. The United Nations was founded to maintain peace and resolve inter-state conflicts in the world. The world leaders should work unitedly to make the world an abode of peace and humanity.

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা

কবীর

কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র
কৃষিকাজে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ছবি- সংগৃহীত

প্রবন্ধ রচনা : কৃষিকাজে বিজ্ঞান

ভূমিকা: আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিত্যনতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে সভ্যতার চরম উন্নয়ন সাধন করেছে। সভ্যতার উষালগ্নে মানুষ যেদিন মাটিতে বীজ বুনে ফল ও ফসল ফলাতে শুরু করল, সেদিন থেকেই ফসল উৎপাদনের কাজে নতুন পন্থার উদ্ভাবন হলো। শুরু হলো কৃষিকাজে বিজ্ঞানের প্রয়োগ। ফলে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ফসল উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি ও সভ্যতা: কৃষিকাজ মানুষের আদিম পেশা। কৃষি কাজের মধ্য দিয়েই যাত্রা শুরু মানবসভ্যতার। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন স্তরে মানুষ বিভিন্ন পেশা গ্রহণ করলেও খাদ্যের উৎস হিসেবে কৃষির ভূমিকা আজও গৌরবময়। দার্শনিক রুশো বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় এবং সর্বাধিক গৌরবমণ্ডিত শিল্প হচ্ছে কৃষিকাজ’। জর্জ ওয়াশিংটন  বলেছেন, ‘কৃষি হলো সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর, উপকারী এবং  মহৎ পেশা’। কবি আমানত উল্লাহ সোহান তার ‘কৃষকের হাসি’ কবিতায় লিখেছেন-

কৃষকের মুখে হাসি
প্রাণে ভালোবাসা,
সোনালি ফসল পাবে
একটাই আশা।

কৃষি কাজের তাৎপর্য: কৃষিকাজ ও মানবজীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার শ্রেষ্ঠ চাবিকাঠি হচ্ছে কৃষি। মানুষের হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত সঞ্চারিত হয়ে যেমন দেহযন্ত্রকে সবল ও সচল রাখে, কৃষিকাজও তেমনি মানুষকে জোগান দিয়ে থাকে বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপকরণ।

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: যেদিন থেকে মানুষ আগুন জ্বালাতে শেখে, যেদিন সে পাথরের অস্ত্র নিয়ে বন্য পশুর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে, যেদিন সে চাকা বানাতে পেরেছে, সেদিন থেকেই বিজ্ঞানের জয়যাত্রা শুরু হয়েছে। সেদিন মানুষ আবিষ্কার করে অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় তার ক্ষুদ্র অবয়বে রয়েছে সূক্ষ্ম অথচ প্রবল বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মস্তিষ্ক। সে প্রকৃতির রহস্য ভেদ করার জন্য নিত্যনতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করল। সে প্রকৃতিকে আবিষ্কার করার নেশায় অস্থির হয়ে উঠল। কিছুতেই তার তৃপ্তি নেই। তাই প্রকৃতির দেওয়া শস্যসম্পদে সে সন্তুষ্ট থাকতে পারেনি। আধুনিক কৃষিবিদ্যা রপ্ত করে নিজের রুচির পরিতৃপ্তি পরিপুষ্টি সাধন করছে।

কৃষি বিজ্ঞানের জনক: পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টি কোনো না কোনো উদ্ভাবকের কৃতিত্বে গঠিত। তেমনই, আধুনিক কৃষি বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপনকারী ব্যক্তি হলেন জাস্টাস ফন লিবিগ (Justus von Liebig), যাকে আধুনিক কৃষি বিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 
জাস্টাস ফন লিবিগ কৃষি বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব ও গবেষণার মাধ্যমে এ শাখাকে একটি সুসংগঠিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক রূপ দেন। তার গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল মাটির পুষ্টিগুণ, সার ব্যবস্থাপনা এবং ফসল উৎপাদন পদ্ধতির উন্নয়ন। তিনি প্রমাণ করেন যে, উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতির ওপর- যা পরে কৃষিতে সার ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি স্থাপন করে। তার উদ্ভাবিত তত্ত্ব ও পদ্ধতিগুলো কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব সৃষ্টি করে এবং আজকের আধুনিক কৃষিবিজ্ঞান তার ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে। মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে এই বিজ্ঞানীর ভূমিকা আজও চিরস্মরণীয়।

আরো পড়ুন : বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

কৃষি ও কৃষিকাজ: মাটি কর্ষণ করে ফসলের সম্ভার ফলানোর প্রক্রিয়াটিই কৃষিকাজ নামে পরিচিত। আদিকালে মানুষ অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে কৃষিকাজের উদ্ভাবন করে। প্রকৃতির দানকে নিজের শক্তি ও সৃষ্টিক্ষমতায় রূপান্তর ঘটিয়ে সে গড়ে তুলেছে কৃষিব্যবস্থা। কৃষির প্রথম উদ্দেশ্য মুখের আহার জোটানো হলেও পরবর্তী সময়ে মানুষ শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে জীবনের সব ধরনের উপকরণ কৃষি থেকে সংগ্রহ করতে শিখেছে। শিল্প যুগে এসে কৃষিক্ষেত্রেও মানুষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও উপকরণের ব্যবহার করছে। ফলে আজ ভোঁতা কর্ষণসামগ্রী ও পশুশক্তির পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। ফলে কৃষি  পেশায় আজ এসেছে বৈচিত্র্য ও গতির ছোঁয়া।

কৃষি কাজের গুরুত্ব: কৃষিকাজ দিয়েই মানুষ পৃথিবীতে স্বপোষিত অর্থনৈতিক জীবনের সূত্রপাত করেছিল। এখনো কৃষির ওপর নির্ভর করে মানব জীবনের ধারা বয়ে চলেছে। সারা বিশ্বের মানুষের খাদ্য, শিক্ষা উপকরণ, গৃহ ও অবকাঠামোগত উপকরণের মুখ্য জোগানদাতা কৃষি। বিশ্বের মোট আয়ের ২৭ ভাগ আসে কৃষি থেকে।  মানুষের প্রয়োজন বিবেচনা করে কৃষিক্ষেত্রে অনবরত গবেষণা চলছে এবং এর পরিণামে উন্নত দেশগুলো তাদের কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। বেশি করে ফলন বাড়িয়ে উন্নত দেশ একদিকে যেমন নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য আনছে, তেমনি ঘাটতি পূরণে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করে মানবজাতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করছে।

কৃষি খাতে বিজ্ঞানের প্রভাব:  একবিংশ শতাব্দীর উষালগ্নে বিশ্ববাসীর জীবনে বিজ্ঞান এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে, বিজ্ঞান ছাড়া আজ সভ্য মানবজীবনই কল্পনা করা যায় না। কৃষি কাজে বিজ্ঞানের প্রয়োগে ফসল উৎপাদনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি প্রয়োগে আজ মরুভূমিও হয়ে উঠছে শস্যশ্যামল। মানুষ আজ উদ্দাম-উচ্ছৃঙ্খল নদীস্রোতকে বশীভূত করে উষ্ণ মরুপ্রান্তরকে করেছে পানিসিক্ত। অনুর্বর কঠিন ভূমিকে উর্বর করে তাকে করেছে শস্যবতী। এতে শস্য উৎপাদনে সূচিত হয়েছে যুগান্তকারী বিপ্লব। 

কৃষি কাজে বিজ্ঞানের প্রয়োজন: পৃথিবীতে জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ কৃষি জমি বাড়ছে না; বরং অধিক হারে বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে। ফলে কৃষিজমি ক্রমশ কমছে। অন্যদিকে উৎপাদনও বাড়ছে না। বিশেষত, আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রাচীন পদ্ধতির চাষাবাদের ফলে উৎপাদিত ফসল বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। অথচ উন্নত দেশগুলোতে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎপাদন বাড়ছে। আমাদের দেশেও মানুষের খাদ্যাভাব পূরণের জন্য কৃষি কাজে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের কৃষি:  পশ্চাৎপদতার পটভূমিতে কৃষিক্ষেত্রেও আমাদের প্রত্যাশিত অগ্রগতি আসেনি। কৃষি ও কৃষক বলতে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে জীর্ণ-দীর্ণ মানুষের মুখ, কঙ্কালসার বলদ আর প্রকৃতিনির্ভর উৎপাদন প্রক্রিয়া। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কৃষকের ছবি অঙ্কন করেছেন এভাবেই- ‘বহুদিন উপবাসী নিঃস্ব জনপদে, মাঠে মাঠে আমাদের ছড়ানো সম্পদ; কাস্তে দাও আমার এ হাতে।’
আমাদের কৃষিক্ষেত্রে পশ্চাৎপদতার শুরু আজ থেকে অর্ধশত বছর আগে। আজও যে অবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে তা আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি না। অথচ আমাদের কৃষক সম্প্রদায় জমি চাষের জন্য গবাদি পশুচালিত সনাতন লাঙল ব্যবহার করে। কৃষিপ্রযুক্তি এখনো আমাদের দেশে সুলভ নয়। প্রযুক্তিজ্ঞানও আমাদের সীমিত। ফলে আমাদের কৃষি আজও পিছিয়ে রয়েছে।

(বাকি অংশ ২য় পর্বে প্রকাশ করা হবে)

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

কবীর

বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র
শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের লেকচার শুনছে ও নোট করছে। ছবি- খবরের কাগজ

সপ্তম অধ্যায় : বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম

নমুনা প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ ও অনুশীলন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর: সমাজকর্ম সাহায্যকারী পেশা হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত। সমাজকর্ম পেশার রয়েছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে নানাবিধ সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সমাজকর্মের সব পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিস্তৃত একটি ক্ষুদ্র ঋণদানকারী স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ ব্যাংকের সার্বিক কর্মকাণ্ড সমাজকর্ম পদ্ধতি অনুশীলনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
প্রথমত, গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দলীয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ক্ষুদ্র দলভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। এক্ষেত্রে দল সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগ করে সফলতা  পাওয়া সম্ভব। দল সমাজকর্মের হস্তক্ষেপ প্রক্রিয়াগুলো হলো দল গঠন, সমস্যা নির্ণয়, লক্ষ্য নির্ধারণ, মূল্যায়ন। গ্রামীণ ব্যাংকের দলভিত্তিক ঋণদান কার্যক্রমে দল সমাজকর্মের এসব প্রক্রিয়া অতি সহজেই প্রয়োগ করা যায়।
দ্বিতীয়ত, গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা টার্গেট গ্রুপের সব সদস্য সমভাবে ঋণের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সুফল ভোগ করতে পারেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করতেও অপারগ হন। এসব ব্যাপারে ঋণগ্রহীতার ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা নির্ণয় করে তাকে ঋণের যথাযথ ব্যবহার এবং ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম করে তোলার ক্ষেত্রে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির জ্ঞান, প্রক্রিয়া ও কলাকৌশলের অনুশীলন বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে।
তৃতীয়ত, গ্রামীণ ব্যাংকের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কার্যক্রমেও ব্যক্তি সমাজকর্ম প্রযোজ্য। যেমন- গ্রামীণ ব্যাংকের স্বাস্থ্যকর্মীর দায়িত্ব পালন বা শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধে ব্যক্তি সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করা যায়। 
চতুর্থত, পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করে স্থানীয় নেতৃত্বের ওপর। গ্রামীণ ব্যাংকের সমাপ্ত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচির সফলতায়ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রভাব রয়েছে। গ্রাম্য রাজনীতি ও দ্বন্দ্বমূলক পরিবেশে নেতা নির্বাচন এবং তাদের মাঝে নেতৃত্বের বিকাশ সৃষ্টিতে ব্যক্তি সমাজকর্ম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া যেকোনো দেশের জনগোষ্ঠীর সর্বোচ্চ জীবনযাত্রা নিশ্চিতকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে ব্যক্তি সমাজকর্মের কলাকৌশল প্রয়োগ করা হয়। সেক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের সমাজ উন্নয়ন ও অন্যান্য কর্মসূচিতেও এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ লক্ষণীয়। মোট কথা, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রদত্ত সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে সমাজকর্মের অন্যান্য পদ্ধতির মতো ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির সক্রিয় প্রয়োগ আবশ্যক।

আরো পড়ুন :  বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র

পঞ্চমত, গ্রামীণ ব্যাংকের লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক সমস্যা মোকাবিলা ও উন্নয়নে দলীয় প্রচেষ্টা হিসেবে দল সমাজকর্মের অবদান রয়েছে। ব্যক্তির বিকাশ ও উন্নয়নে, গঠনমূলক দলীয় অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে দল সমাজকর্ম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গ্রামীণ ব্যাংকের যেসব অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি চালু রয়েছে সেগুলোকে জনগণের চাহিদা ও সম্পদের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দল সমাজকর্ম প্রয়োগ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে গ্রামীণ ব্যাংক।
ষষ্ঠত, গ্রামীণ ব্যাংকের অন্য সব কর্মসূচিতে দল ও সমবায় গঠন করে হাঁস-মুরগির খামার, মৎস্য চাষ, দুগ্ধ উৎপাদন, পশুপালন, চাষাবাদ প্রভৃতি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার সহজ মাধ্যম হচ্ছে দল সমাজকর্ম পদ্ধতি।
সপ্তমত, অন্যদিকে সমষ্টি উন্নয়ন হচ্ছে একটি আন্দোলন যার মাধমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সংঘবদ্ধ করে স্বীয় প্রতিভা ও ক্ষমতার বিকাশ এবং সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে উন্নত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করতে সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। গ্রামীণ জনসমষ্টির কৃষির উন্নয়নে উন্নতমানের বীজ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, সমবায় কৃষি খামার, কৃষিঋণের ব্যবস্থাকরণসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে জনগণের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের অন্যতম উপায় হলো সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি।
অষ্টমত, সচেতনতা সৃষ্টি, শিক্ষা আন্দোলন, পরিবার পরিকল্পনা, গৃহনির্মাণ প্রকল্প প্রভৃতিতে সমাজকর্মের সামাজিক কার্যক্রম প্রযোজ্য।
নবমত, গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যক্রমের আবশ্যকতা নির্ণয়, মাঠপর্যায়ে এর প্রবর্তন, সীমাবদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের কাজে গবেষণা ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের প্রয়োজন হয়। গ্রামীণ ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও মূল্যায়নে গবেষণা করা হয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম গবেষণা পদ্ধতি অনুশীলনের বিশেষ সুযোগ রয়েছে।
দশমত, গ্রামীণ ব্যাংক দেশে-বিদেশে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাই এর ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ জ্ঞান, দর্শন, নীতি ও দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে তা কার্যকর করা যেতে পারে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, গ্রামীণ ব্যাংকের বিবিধ কার্যক্রমে সমাজকর্মের সবগুলো মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতির প্রয়োগ গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও বাস্তবসম্মত ও সফল করে তুলতে পারে।

লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা

কবীর

 

ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান
শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রশ্ন নিয়ে গ্রুপ ডিসকাশন করছে। ছবি- সংগৃহীত

তৃতীয় অধ্যায় : ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

২৭। কিউটিকল কোথায় থাকে না-
i. মূলে      
ii. কাণ্ডে 
iii. পাতায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i                            খ) ii 
গ) i ও ii                       ঘ) iii

২৮। উদ্ভিদে পানি পরিবহন পরীক্ষার জন্য কোন উদ্ভিদ ব্যবহার করা হয়?
ক) ছোলাবীজের চারা     
খ) হাইড্রেলা 
গ) ঘাস     
ঘ) পেপারোমিয়া

আরো পড়ুন : ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

২৯। লেন্টিসেল কোথায় থাকে?
ক) কাণ্ডের ত্বকে    
খ) ফুলে 
গ) ফলে     
ঘ) মূলে

৩০। কোষ রসে নিচের কোনটি থাকে?
i. লবণ      
ii. চিনি   
iii. পানি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও iii     
খ) ii ও iii 
গ) i ও ii     
ঘ) i, ii ও iii

উত্তর: ২৭. ক, ২৮. ঘ, ২৯. ক, ৩০. ক।

লেখক : সহকারী শিক্ষক
লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, মুন্সীগঞ্জ

কবীর

টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা
টুকটুক পশুপাখির প্রতি বেশ যত্নবান ছিল। ছবি- সংগৃহীত

পাঠ-৯ : টুকটুক ও চিকু

অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর 

প্রশ্ন: অন্য পশুপাখির যত্নে টুকটুক কী কী করত?

উত্তর: বিড়ালছানা চিকুর প্রতি যত্ন নেওয়ার পর টুকটুক আশপাশের অন্য পশুপাখির প্রতিও বেশ যত্নবান হয়ে উঠল। পাখিদের যত্ন নিতে সে প্রতিদিন জানালার ধারে এক মুঠো ভাত রেখে দিত। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে পাখিরা যেন পানি খেতে পারে, তাই বাটি ভরে পানি রেখে দিত। এছাড়া রাস্তায় কোনো ছেলে অন্য বিড়ালছানাকে তাড়া করলে সে দৌড়ে গিয়ে তাদের থামাত এবং ছানাটিকে কোলে তুলে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিত। সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে সে ‘প্রাণীদের বন্ধু’ নামে একটি ক্লাবও গঠন করেছিল।

প্রশ্ন: ‘প্রাণীদের বন্ধু’ ক্লাবটি কীভাবে গঠিত হয়েছিল?

উত্তর: টুকটুক সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে ‘প্রাণীদের বন্ধু’ নামে একটি ছোটখাটো ক্লাব গঠন করেছিল। ক্লাব গঠনের কাজে তাদের শ্রেণিশিক্ষক সহযোগিতা করেছিলেন।

আরো পড়ুন : টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা

প্রশ্ন: সঠিক উত্তরসহ বাক্যটি লেখ।

ক. টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা আসবে—।
ঈদের ছুটিতে
শীতের ছুটিতে
গ্রীষ্মের ছুটিতে
পূজার ছুটিতে

উত্তর: টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা আসবে গ্রীষ্মের ছুটিতে।

খ. ছানাটি জড়োসড়ো হয়ে—।
খিদেয় কাঁপছে
ভয়ে কাঁপছে
ঠাণ্ডায় কাঁপছে
জ্বরে কাঁপছে

উত্তর: ছানাটি জড়োসড়ো হয়ে ভয়ে কাঁপছে।

লেখক : সহকারী শিক্ষক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বসুন্ধরা, ঢাকা

কবীর

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র
গ্রামে টর্নেডো আঘাত হানছে। ছবি- সংগৃহীত

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

(২য় পর্ব প্রকাশের পর)

বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকা : বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও নোয়াখালী ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে, যা উচ্চগতির বাতাস ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে। এই অঞ্চলগুলোর সমতল ভূমি ও ঘন জনসংখ্যা ক্ষতির পরিমাণ বাড়ায়। সিডর, আইলার মতো ঘূর্ণিঝড় এই অঞ্চলগুলোয় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালায়। তবে আশ্রয়কেন্দ্র, পূর্বাভাস ব্যবস্থা ও বাঁধ নির্মাণ ক্ষতি কমিয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়াচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও শক্তিশালী অবকাঠামো জরুরি। এই অঞ্চলগুলোর জনজীবন ও অর্থনীতি রক্ষায় সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা জানমাল, অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার হাজার জীবন ও সম্পদ ধ্বংস করে। বন্যা ও নদীভাঙন গ্রামীণ এলাকায় ফসল, ঘরবাড়ি ও জীবিকা নষ্ট করে। ভূমিকম্প শহরাঞ্চলে ভবন ধস ও অবকাঠামোর ক্ষতি করে। লবণাক্ততা ওই অঞ্চলের কৃষি ও পানীয় জলের সংকট সৃষ্টি করে। খরা ও তাপপ্রবাহ খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। জলবায়ু পরিবর্তন এই দুর্যোগের তীব্রতা বাড়িয়েছে। তবে, পূর্বাভাস, আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ কার্যক্রম ক্ষতি কমিয়েছে। দুর্যোগের ভয়াবহতা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জনসচেতনতা জরুরি। এটি বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধের উপায় বা দুর্যোগ মোকাবিলা করার উপায়: বিশ্বের সব বিজ্ঞানীই একমত যে, জলবায়ু দূষণের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পৃথিবীর শিল্পোন্নত দেশগুলোই বেশি দায়ী। বাংলাদেশসহ দরিদ্র দেশগুলোর দায় অনেক কম, কিন্তু এরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি। কাজেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে বা একে মোকাবিলা করতে হলে সারা বিশ্বকেই একযোগে উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলো রক্ষার জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাহায্য দিতে হবে। তা দিয়ে সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলো উপকূলে উঁচু বাঁধ নির্মাণ করে এবং বাঁধের ওপর ও আশপাশে ব্যাপক বনায়ন করে সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনেকটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য নিম্নোক্ত উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে–

আরো পড়ুন : বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

১। পৃথিবীর সব দেশ বিশেষ করে শিল্পোন্নত দেশগুলো যদি সমঝোতার মাধ্যমে অন্তত ১০-১৫ বছর গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে রাখার ব্যবস্থা করে তাহলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে ।
২। গ্রিন হাউস গ্যাস কমাতে হলে জ্বালানি পোড়ানো কমাতে হবে।
৩। উন্নয়নবান্ধব কার্বন কনটেন্ট বানাতে হবে।
৪। জলবায়ু দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিল্প-কারখানার মালিক ও জনগণকে সচেতন হতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে বলিষ্ঠ উদ্যোগ নিতে হবে।
৫। কলকারখানার বর্জ্য ও শহরের মল-মূত্র এবং ময়লা, আবর্জনা সরাসরি নদীতে না ফেলে পরিশোধন করে ফেলতে হবে।
৬। বায়ুদূষণ রোধকল্পে প্রতিটি দেশের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা একান্ত আবশ্যক। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৬ শতাংশ বলা হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে আছে ৯-১০ শতাংশ। সুতরাং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার জন্য ব্যাপকভাবে বনায়ন করতে হবে। বনভূমি উজাড়করণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।
৭। পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে বনাঞ্চল গড়ে তুলতে হবে।
৮। কৃষি জমি, জলাভূমি, পাহাড় ইত্যাদি ধ্বংস করে বসতবাড়ি বা কলকারখানা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৯। দেশের ছোট-বড় সব নদীকে পর্যায়ক্রমে ড্রেজিং করে নাব্যতা বাড়াতে হবে।
১০। যে নদী মরে গেছে বা যাচ্ছে সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ড্রেজিং করে নাব্যতা বাড়াতে হবে।
১১। দুর্যোগ ঘটার আগে জনগণকে সতর্ক করতে হবে।
১২। সম্ভাব্য দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ জায়গা বা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হবে।
১৩। দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত কর্মীবাহিনীকে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব কাজে এবং স্থাপনা নির্মাণে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য নিতে হবে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা: বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দেয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ত্রাণ বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা করে। বেসরকারি সংস্থা যেমন- ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক ও অক্সফাম পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতায় কাজ করে। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন- জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়। স্থানীয় সম্প্রদায় ও স্বেচ্ছাসেবক দল দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। তবে, সমন্বয়ের অভাব ও তহবিলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এই সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা দুর্যোগ মোকাবিলায় অপরিহার্য।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাবলি: বাংলাদেশ সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থার  মাধ্যমে সরকার ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার পূর্বাভাস আগেই দেওয়ার চেষ্টা করছে। উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। বাঁধ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্যা ও নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ভূমিকম্প-প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ নীতি কঠোর করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জলবায়ু তহবিল গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। তবে, দুর্নীতি, তহবিলের অভাব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সরকারের এই ব্যবস্থাগুলো দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে সহায়ক। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

উপসংহার: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনজীবন, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, ভূমিকম্প ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। তবে সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক পূর্বাভাস, আশ্রয়কেন্দ্র, বাঁধ নির্মাণ ও জনসচেতনতা ক্ষতি কমিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও টেকসই পরিকল্পনা জরুরি। বাংলাদেশের জনগণের স্থিতিস্থাপকতা ও প্রস্তুতি দুর্যোগ মোকাবিলায় শক্তি জোগায়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমিয়ে আশাকরি উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

কবীর