বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা শবনম। ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমায় সর্বশেষ নাম-ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর তাকে কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি বিগত ২৫ বছরে। গুণী এই অভিনেত্রীর অতীত ও বর্তমানের গল্প নিয়ে এবারের আয়োজন। জানাচ্ছেন মাহমুদ শাকিল
কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।
সিনেমায় অভিনয়ের শুরুর গল্পটা জানতে চাই।
এহতেশাম পরিচালিত ‘এদেশ তোমার আমার’ সিনেমায় তখন একটি গানে বেশ কয়েকজন নাচের মেয়ের দরকার হয়ে পড়ে। তখন বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকেই কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই দলে আমিও ছিলাম। পরবর্তী সময়ে ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় আমি একটি একক নৃত্যে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এর পরই পরিচালক এহতেশাম আমাকে ও রহমানকে নিয়ে শুরু করেন ‘হারানো দিন’ সিনেমাটি।
দুই যুগেরও বেশি সময় আপনাকে সিনেমায় দেখা যায় না কেন?
সত্যি বলতে কি, ২৫ বছর আমার কাছে এমন কোনো মৌলিক গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব আসেনি। যেখানে আমি মুগ্ধ হয়ে অভিনয় করতে পারি। সর্বশেষ কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম। ছবিটি ১৯৯৯ সালের ২৫ জুন মুক্তির পর থেকে আজ অবধি দর্শক আমাকে ‘আম্মাজান’ হিসেবেই খুব সহজে চেনেন।
নায়িকা হিসেবে আপনার প্রিয় সিনেমা কোনগুলো? অনেকের ধারণা শবনম পাকিস্তানের নায়িকা, এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।
নিজের কাছে সবগুলো সিমেনাই প্রিয়। তবে বাংলাদেশের দর্শক আমাকে ‘হারানো দিন’, ‘চান্দা’,‘ তালাশ’, ‘নাচের পুতুল’-এর নায়িকা হিসেবেই বেশি চিনতেন। এ ছাড়া ‘সন্ধি’,‘ শর্ত’,‘ সহধর্মিণী’, ‘যোগাযোগ’, ‘জুলি’,‘ বশিরা’, ‘দিল’সহ আরও অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছি। দীর্ঘদিন আমি পাকিস্তানের সিনেমায় অভিনয় করেছি। এ জন্য অনেকেই আবার মনে করতেন আমি পাকিস্তানের নায়িকা। কিন্তু এই ধারণাটি ভুল। আমার আসল নাম ঝরনা বসাক। আমি এ দেশেরই মেয়ে।
দেশে আপনার সময়কার সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়?
প্রায়ই মাসুদ পারভেজ ভাইয়ের সঙ্গে (সোহেল রানা) কথা হয়। আমার কাছে মনে হয়, উনি ইন্ডাস্ট্রির একজন খুবই ভদ্র মানুষ। ওনার সঙ্গে গল্প করতে আমার ভালো লাগে। এ ছাড়া আনোয়ারার সঙ্গে কথা হতো। মাঝে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তখন তার মেয়ে মুক্তির মাধ্যমে কথা বলে খোঁজখবর নিয়েছি। রুনা লায়লার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। যতটুকু পারি, সবারই খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করি।
এখন অবসর সময় কেমন কাটছে?
পাকিস্তানের একটি টেলিভিশনে প্রতিদিন রাতে আমার অভিনীত পুরোনো সিনেমাগুলো দেখায়। যখন সিনেমাগুলো দেখি নস্টালজিক হয়ে পড়ি। আর দেশে থাকলে গান ও টিভিতে সিনেমা দেখা হয়। জীবনসঙ্গী রবিন (বরেণ্য সুরকার ও সংগীত পরিচালক রবিন ঘোষ) চলে যাওয়ার পর আরও বেশি একা লাগে। একমাত্র ছেলে রনিকে নিয়ে আমার সময় কেটে যাচ্ছে।
আগামীতে দর্শক আপনাকে নতুন কোনো সিনেমায় দেখবেন কি?
আর কোনো দিন সিনেমায় অভিনয় করব কি না জানি না। তবে ইচ্ছা আছে। গল্প মৌলিক হলে ভেবে দেখব। দেখতে দেখতে ৭৭ বছর পার করে দিলাম। অথচ এখনো মনে হয় এই তো সেদিনের কথা, বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটছে, স্কুলে যাচ্ছি, ফিল্ম করছি। আর এখন ভাবলে মনে হয় কত সময় চলে গেছে জীবন থেকে। জীবনের কত রূপ দেখেছি, নানান বয়সে জীবনের সৌন্দর্যকে উপভোগ করেছি। কত কত মানুষের সঙ্গে পরিচয়, কত কিছু শিখেছি এক জীবনে, কত কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আবার হারিয়েছিও অনেক প্রিয়জনকে। সত্যি বলতে কি, মৃত্যু পর্যন্ত জীবন সুখ-দুঃখের খেলা। এখনো সুস্থ আছি, ভালো আছি- এটাই কম কিসের। বয়স তো আর কম হলো না। সবার দোয়া ও ভালোবাসা চাই।
হাসান