বলিউড পরিচালক মনসুর খান। যিনি ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’ এবং ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ –এর মতো জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমা পরিচালনার জন্য পরিচিত। এই দুই সিনেমাতেই নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন নির্মাতার চাচাতো ভাই তারকা অভিনেতা আমির খান। বলিউডে এত সফলতা সত্ত্বেও সিনেমা ছেড়ে কি না কৃষি কাজ বেছে নিলেন এই পরিচালক।
কুনুরে মনসুর খানের একটি পনিরের খামার রয়েছে। এজন্য মুম্বাইয়ের পরিবর্তে কুনুরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই নির্মাতা। এমনকি সিনেমা সম্পর্কে তিনি কথা বলতেও পছন্দ করেন না। তিনি জানান, যেসব বিষয়ে তার আগ্রহ রয়েছে কেবল যেসব নিয়েই তিনি কথা বলতে চান।
সম্প্রতি, ইন্ডিয়া নাউ এন্ড হাউ ইউটিউব চ্যানেলে উপস্থিত হয়ে মনসুর জানান, তিনি নিজেকে কখনোই চলচ্চিত্র ভক্ত বা চলচ্চিত্র নির্মাতা বলে মনে করেন না। ব্যাখ্যা হিসেবে বলেন, ‘এই বিষয়টা অনেকেই বোঝে না কারণ অধিকাংশ লোকই আমাকে একজন সফল চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে জানে। এরপরও কিভাবে আমি সমস্ত খ্যাতি এবং অর্থ পেছনে ফেলে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করলাম।’
’কিন্তু এটি আসলে হুট করে নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত না। এটা ছিল আমার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা।
১৯৭৮ সালে আমি যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মুম্বাইয়ে থাকবো না। মুম্বাই থেকে চলে যাওয়ার সময়টা তখন শুধু ঠিক করা ছিল না। আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করি কারণ অনেক যুবক আমার খামারে এসে জিজ্ঞাসা করে, কিভাবে আমি এমন একটা কাজ করতে পারলাম। যদিও এমন কিছু করতে তাদের আমি উৎসাহ দেই না।’
তিনি আরো জানান, এই সিদ্ধান্ত নিতে তাকে তেমন বেগ পেতে হয়নি কেননা তিনি আর কোনো সিনেমা তৈরি করতে চান না। তবে এটি তার স্ত্রী টিনার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল কারণ সে মুম্বাইয়ে একটি বেকিং ব্যবসা শুরু করেছিল। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীকে বোঝাতে হয়েছিল নির্মাতার তবে কোনো সিদ্ধান্তই স্ত্রীর উপর চাপিয়ে দেননি তিনি।
উল্লেখ্য, মাঝে বিরতির পর মনসুর ইমরান খানের প্রথম ছবি ‘জানে তু ইয়া জানে না’ –তে কাজ করতে মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি জুনায়েদ খানের সিনেমা ‘এক দিন’ –এর সঙ্গেও জড়িত আছেন। তার মেয়ে জেইন ম্যারিও অভিনয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ছেন।
হাসান