আগুন ঝরা শ্রাবণের গল্পে ভৈরবীর ‘অগ্নিশ্রাবণ’ বাংলা নাটকের প্রগতিশীল ধারায়, সমাজ-রাজনীতির অন্তর্লীন দ্বন্দ্ব ও ইতিহাসের চিরন্তন পটপরিবর্তনের অন্বেষণে এবার মঞ্চে আসছে ভৈরবী গীতরঙ্গ দলের নতুন নাট্যপ্রযোজনা ‘অগ্নিশ্রাবণ’।
বাংলাদেশ শিল্পকলা্কোডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারে শুরু হয়েছে ভৈরবী গীতরঙ্গ দলের নতুন নাট্যপ্রযোজনা ‘অগ্নিশ্রাবণ’। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় এই মঞ্চনাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আজ শনিবার (২৮ জুন) একই সময়ে নাটকটির দ্বিতীয় মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।
‘অগ্নিশ্রাবণ’ এক ঐতিহাসিক উপাখ্যান যেখানে ক্ষমতার পালাবদলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলায় না। স্বৈরশাসক যায়, আরেক শাসক আসে- কিন্তু নিপীড়ন, ক্ষোভ, ও দীর্ঘশ্বাস থেকেই যায়। ইতিহাসের এই চক্রবদ্ধ অমানবিক পুনরাবৃত্তির বিপরীতে দাঁড়ানো এক সাহসী কণ্ঠস্বরই এই প্রযোজনার মূল সুর।
অধিকার আদায়ের গল্প, লড়াই এর গল্পগুলো এবং ইতিহাসের গল্পগুলোই নাটকটিতে তুলে ধরা হবে। ‘অগ্নিশ্রাবণ’ মঞ্চনাটকের রচনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন ইলিয়াস নবী ফয়সাল। এটি পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করছেন- অর্পিতা, অপরিজিতা, অতনু, আয়রা, বিপ্লব, ধ্রুব, দীপ্ত, ফাহমিদা, ইকরা, রাজিব, লাবন, নন্দিতা, পারমিতা, প্রীতম, নদী, লামিয়া, সিফাত, সোহা, অংকন, স্বপ্নীল, তোমো, প্রত্যাশা, রম্য, অর্থী, নোবেল, রিয়া, জিতু, আরিফ, আয়রিন, হিমেল, ইশান, আতিশা, জ্যোতি, নাজমুল, পিনাকী, ফাল্গুনী, পার্থ।
নাটকের নির্দেশক ইলিয়াস নবী ফয়সাল বলেন, ‘অগ্নিশ্রাবণ মানুষের মুক্তির গল্প। তেভাগা আন্দোলন, ’৪৭, ’৫২, ’৬৯, ’৭১, ১৯৯০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ইতিহাসের নানা লড়াই উঠে এসেছে এই নাটকে। সময় এখানে নিজেই চরিত্র হয়ে কথা বলে। ক্ষমতার পালাবদলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য যে বদলায় না, সেই কথাই বলেছে ‘অগ্নিশ্রাবণ’। নাটক শুধু বিনোদন নয়, পরিবর্তনের হাতিয়ার- সেটাই আমাদের বিশ্বাস।’
এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং পরিবেশনায় ভৈরবী গীতরঙ্গ দল। প্রদর্শনীতে প্রবেশ সকলের জন্য উন্মুক্ত। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এই নাট্যপ্রযোজনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
/এমএস