চলচ্চিত্র নির্মাতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তার নির্মিত সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘যাপিত জীবন’ রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। সারা দেশে সিনেপ্লেক্স নির্মাণে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মাধ্যমে কথা বলে আসছেন এই নির্মাতা। নতুন সিনেমা নির্মাণ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ মিজান
নতুন কাজের ব্যস্ততা সম্পর্কে বলুন?
নতুন সিনেমা ভাবনা নিয়ে একটা তাগিদ কাজ করছে সব সময়। মানে নতুন একটি মুভি বানানোর ক্ষেত্রে কী হতে পারে দেশ সমাজ পরিবারের কোন চরিত্রগুলো উপস্থাপন করলে মানুষের মনে চিন্তার খোরাক হবে সুস্থ সুন্দর বিনোদন পাবে এই সব নিয়ে ভাবছি। সদ্য সেন্সরপ্রাপ্ত আমাদের অনুদানের সিনেমা ‘যাপিত জীবন’ মুক্তি কবে কীভাবে দেব- এই চিন্তাটিও দিনরাত মাথায় ঘুরছে।
দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে একটি করে সিনেপ্লেক্স করার প্রস্তাব দিয়ে আগের সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন কি অধরাই থেকে যাবে আপনার?
সিনেপ্লেক্সের দাবি আমি উপস্থাপন করেছি মাত্র। তবে এই দাবির প্রতি সবার শুভেচ্ছা আছে, থাকবে। কারণ এই দাবিটি আগের সরকারের কাছে করেছিলাম বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু স্বপ্ন অধরা থাকে না। ৩০০ সংসদীয় আসনে ৩০০ সিনেপ্লেক্স এটা সময়ের দাবি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে একটি ন্যায্য দাবি। এই দাবি শুধু সরকারের কাছেই ছিল না আমার। এই দাবি দেশের সব দায়িত্বশীল মহলের কাছে, ব্যবসায়ীদের কাছে এবং সমাজের সবল নামিদামি গুণী মানুষের কাছেই আমার সব সময় থাকবে। এই দাবিটি আমার একার নয় এই দাবি ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার সকলের।
আপনার সঙ্গে শোবিজ অঙ্গনের ১৮টি সংগঠনও সম্মতি জানিয়েছিল চিঠিতে। এটা নিয়ে এখনো কি কাজ করছেন। বিস্তারিত জানতে চাই-
জি, সব সংগঠনের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছি। আমি চাইছি এই দাবিটি আমার একার মনে না করে সিনেমাপ্রেমী সব মানুষের দাবি মনে করে দেশের মানুষ রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ী এগিয়ে আসুক। ইতোমধ্যে আমাদের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে অনেক জেলায় সিনেপ্লেক্স হয়েছে, আরও হবে। তার মানে এই দাবি সবার কাছে পছন্দ হয়েছে। সিনেপ্লেক্স যেখানেই হচ্ছে, সেখানেই সিনেমা দেখার জন্য মানুষ ভিড় করছেন। সিনেপ্লেক্সে চলচ্চিত্র দেখতে আজকাল দর্শকরা খুব আনন্দ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে আপনি কাজ করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা খুবই কম। এ জন্য পরিচালক সমিতির দায় কতটা?
জি, দায় আমাদের চলচ্চিত্রের সব সংগঠনের আছে। পরিচালক সমিতি নতুন চিন্তাভাবনা শুরু করেছে চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য। অচিরেই পরিচালক সমিতির নানা রকমের উদ্যোগ আপনারা দেখতে পারবেন।
সিনেমা হলের সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে- সেক্ষেত্রে সিনেমা হল বাড়ানোর আপনার যে আন্দোলন সেটা কি ব্যর্থ হতে চলেছে?
সিনেমা হল কমছে, তবে সিনেপ্লেক্স বাড়ছে। কারণ মানুষ আর সেই আমলের বস্তাপচা গুদাম ঘরে বসে সিনেমা দেখতে চায় না। এখন মানুষ ডিজিটাল জামানায় বসবাস করছে। আমাদের সিনেপ্লেক্সের আন্দোলন প্রতিদিন এগিয়ে যাচ্ছে, সফল হচ্ছে, হবেই।
সরকারি অনুদানের সিনেমা নিয়ে সব সময়ই এক ধরনের সমালোচনা থাকে। এই সমালোচনা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী?
দেখুন অনুদান নিয়ে সমালোচনা থাকবেই। কারণ অনুদানের জন্য প্রায় ৩০০/৪০০ জন মানুষ আবেদন করেন। ছোট বড় চলচ্চিত্র মিলে ২০ থেকে ৩০ জন পরিচালক ও প্রযোজক। বাকি যারা বাদ পড়েন তাদের তো একটা মন খারাপের ব্যাপার থেকেই যায়। এই সমালোচনা বন্ধ হবে তখনই যখন সবাই যে যার কাজে আন্তরিক হবেন। অনুদানের প্রতিটি সিনেমা যখন সুন্দর হবে, সফল হবে তখন কিন্তু এই সমালোচনা অনেকটাই কমে যাবে। দেশের মানুষ দেশের টাকায় ভালো চলচ্চিত্র দেখতে চান।
সিনেমা শিল্পের উন্নয়নে আসলে সরকারি অনুদান কতটা ভূমিকা রাখে বলে আপনি মনে করেন?
আসলে সরকারি অনুদান তো দেওয়া হয় সেসব গুণীজনদের যারা একটি ভালো সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখেন। তাদের জন্যই কিন্তু এই অনুদানের ব্যবস্থা রেখেছে সরকার। অনুদান দেশের সামগ্রিক সিনেমায় ভূমিকা রাখতে পারবে না। যেহেতু আজকাল সিনেমা খুব একটা হচ্ছে না তাই অনুদানের বিষয়টি সবার নজরে পড়ছে। আমি মনে করি অনুদানের সিনেমা ভালো একটি ভূমিকা রাখছে এখন। আজকের বাজারে অনুদানের ছবি না থাকলে সিনেমা নিয়েতো অনেক আলোচনাই বন্ধ হয়ে যেত। তবে বাণিজ্যিক সিনেমার ক্ষেত্রে অনুদানের সিনেমার ভূমিকা রাখা খুব মুশকিল ব্যাপার।
সিনেমা নির্মাণ এখন ঈদকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। এ বিষয়টা আপনি কীভাবে দেখেন?
আসলে মানুষের সুখ শান্তি অনেক কমে গেছে। তাই ঈদ আসলে একটু বাড়তি আনন্দের খবর সবার কাছে কম বেশি পৌঁছায়। ঈদের আনন্দ আজকাল সারা বছর থাকে না। আগে ঘরে ঘরে অনেক হাসিখুশি থাকত মানুষ। আজকাল নানান রকমের অস্থিরতা সমাজে বিরাজমান। দেশে শান্তি না থাকলে মানুষের কিছু ভালো লাগে না। সবার আগে আমাদের সমাজে পরিবারে শান্তি দরকার।
চারদিকের এত হইচই শোরগোলে মানুষ সময় উপভোগ করতে পারছে না। আমাদের দেশটা সুন্দর হয়ে গেলে সবসময় ঈদের আনন্দ অনুভব করবেন মানুষ। তখন সবসময় সিনেমা দেখবেন। দেশব্যাপী তখন সিনেমা হলে পরিবার পরিজন নিয়ে দর্শক সিনেমা দেখবেন। তখন সিনেমার বাণিজ্য হবে।
/এমএস