বাংলা সিনেমার অমর নায়ক সালমান শাহের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৬ সালের আজকের এই দিনে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরপারে চলে গেছেন তুমুল জনপ্রিয় এই নায়ক। মৃত্যুর ২৯ বছর পরও এখনো জনপ্রিয় তিনি। এখনো টিভি পর্দায় তার সিনেমা প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন। অমর এই নায়কের মৃত্যুদিন উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার হবে তার অভিনীত সিনেমাগুলো।
এ ছাড়া তার সিনেমার গান নিয়েও আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। সালমান শাহ স্মরণে তার অভিনীত সিনেমার গান আর সিনেমা দিয়ে সাজানো হয়েছে বৈশাখী টেলিভিশনের পর্দা। আজ (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ‘বৈশাখী সকালের গান’ অনুষ্ঠানে সালমান শাহ অভিনীত চলচ্চিত্রের কয়েকটি গান গাইবেন কণ্ঠশিল্পী আগুন। প্রচার হবে সালমান শাহ অভিনীত দুটি সিনেমা। সকাল ১০টায় রয়েছে সালমান শাহ, মৌসুমী, আনোয়ারা, রাজীব অভিনীত ‘অন্তরে অন্তরে’।
দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রয়েছে সালমান শাহ, শাহনাজ, শাবনূর, শাবানা, আলমগীর অভিনীত ‘সত্যের মৃত্যু নেই’। দুপুর ১টায় রয়েছে আসিন জাহানের উপস্থাপনায় শুধু সিনেমা গান। অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে সালমান শাহ অভিনীত চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কিছু গান দিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে সালমান শাহ ও মৌসুমী অভিনীত তুমুল জনপ্রিয় চলচ্চিত্র কেয়ামত থেকে কেয়ামত, সালমান শাহ-শাবনূর অভিনীত তোমাকে চাই, স্বপ্নের পৃথিবী, স্বপ্নের ঠিকানা, স্বপ্নের নায়ক, বিক্ষোভ এবং মহামিলন চলচ্চিত্র। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন নিকোলাস হিরা।
মাছরাঙা টেলিভিশনে নব্বইয়ের দশকের গানের গল্প নিয়ে নতুন একটি অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে। ‘নাইনটিজ মিউজিক স্টোরি’ নামের এ অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে প্রতি শনিবার রাত ১২টায়। ৬ সেপ্টেম্বর প্রচারিত হবে প্রথম পর্ব। এই পর্বে গল্প করবেন সংগীতশিল্পী আগুন।
১৯৯২ সালে সালমান শাহ অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় গান করে দারুণ জনপ্রিয়তা পান আগুন। এই সিনেমায় গান করতে গিয়ে সালমানের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় আগুনের। পরবর্তী সময়ে সালমানের বেশির ভাগ গানেই কণ্ঠ দিয়েছেন আগুন। তাই দুজনের অনেক স্মৃতি রয়েছে। এ অনুষ্ঠানে গানের গল্পের পাশাপাশি সালমান শাহকে নিয়েও কথা বলেছেন আগুন।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় সালমান শাহের জন্ম। তার পিতার নাম কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। সালমানের দাদার বাড়ি সিলেট শহরের শেখঘাটে আর নানার বাড়ি দারিয়াপাড়ায়। যে বাড়ির নাম এখন ‘সালমান শাহ হাউস’। তার নানা পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। সালমানও অভিনয়ে নানার কারণেই এসেছিলেন।
স্কুলে সালমান শাহ বন্ধুমহলে সংগীতশিল্পী হিসেবেও বেশ পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে পাস করেছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে আসার আগেই ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট বিয়ে করেন তিনি। স্ত্রী ছিলেন সামিরা হক। যদিও সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পান এই নায়ক। কিন্তু তার আগেই তিনি নাটকে অভিনয় করেন। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক ‘পাথর সময়’-এ একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সালমান শাহের অভিনয় জীবন শুরু হয়। ওই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে তৌকীর আহমেদ অভিনয় করলেও সালমান শাহের চরিত্রটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
পরে আরও বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেও দারুণ প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। মৌসুমীর বিপরীতে সিনেমাতে সালমানের অভিষেক হয়। পরে মৌসুমীর সঙ্গে আরও দুটি সিনেমা ‘স্নেহ’, ‘অন্তরে অন্তরে’তে অভিনয় করলেও আর কোনো সিনেমায় তাদের দেখা যায়নি। শাবনূরের সঙ্গেই বেশি সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তিনি। এই জুটিকে এখনো সিনেমার অন্যতম সেরা জুটি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সালমানের মৃত্যুর এত বছর পরও পরবর্তীতে বাংলা সিনেমাতে অনেক নায়কের আবির্ভাব হলেও অভিনয় আর ফ্যাশন দিয়ে আর কোনো নায়ক আজ পর্যন্ত সালমান শাহের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি।
অনেক চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিচালকের ভাষ্যমতে, সালমান শাহ ছিলেন ধূমকেতুর মতো, এলেন দেখলেন জয় করলেন আবার চলেও গেলেন।
/এমএস