‘অ্যানিমেল’ ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে তারকাখ্যাতি পান অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি। এরপর একের পর এক সিনেমায় কাজ করে যাচ্ছেন। তবে বলিউডে প্রথম মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান ২০১৮ সালে ‘লায়লা মজনু’ সিনেমায়। সাজিদ আলির পরিচালনায় ছবিটিতে তার সহ-অভিনেতা হিসেবে ছিলেন অবিনাশ তিওয়ারি। সে সময়ে ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।
তবে মুক্তির কয়েক বছরের মধ্যে এটি দর্শকদের ব্যাপক ভালোবাসা পায়। ধীরে ধীরে সিনেমাটি কাল্ট ক্লাসিক মর্যাদা অর্জন করে। গত বছর পুনরায় ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হয়। পুনঃপ্রকাশ পেয়ে এটি বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায় এবং প্রথমবার মুক্তির আয়কে ছাড়িয়ে গিয়ে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়ে।
সম্প্রতি ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ছবি সম্পর্কে কথা বলেছেন তৃপ্তি। অভিনেত্রী বলেন, ‘লায়লা মজনু আমার কাছে সব সময় বিশেষ। কারণ এটি আমার মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করা প্রথম ছবি ছিল। এখান থেকেই আমি অভিনয় শিখেছি। কাশ্মীরে শুটিং করতে গিয়ে প্রতিদিন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে আমাদের। কাশ্মীরের উপত্যকায় টানা ২০ থেকে ২৪ ঘণ্টাও শুটিং করতে হয়েছে। কখনো কখনো পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে কেঁদে ফেলতাম। তবুও অভিজ্ঞতাটা অমূল্য।’
অভিনেত্রী জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে হওয়ায় শুটিং চলাকালে তাদের ওপর তারকাখ্যাতির কোনো চাপও ছিল না। তারা স্থানীয়দের বাড়িতে গিয়ে খেতেন এবং সে সময়ে কাশ্মীরের প্রতি তার মনে গভীর অনুরাগ জন্মায়। তবে সিনেমাটি মুক্তির পর বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছিলেন। ‘তখন মনে হয়েছিল আমরা আবার শূন্যে ফিরে গেলাম। আমি নতুন ছিলাম, কিন্তু অবিনাশ প্রায় ১৪ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছিল। ওর জন্য খারাপ লেগেছিল,’ যোগ করেন তৃপ্তি।
তবে তার বিশ্বাস ছিল ছবিটি একদিন স্বীকৃতি পাবে। সেটিই পরবর্তীতে সত্যি হয়। অভিনেত্রী জানান, আজও, মুক্তির আট বছর পরেও লোকেরা লায়লা মজনু নিয়ে কথা বলে। এটাই আমার জন্য সাফল্য। যখন প্রথমবার ছবিটি মুক্তি পায়, তখন হলগুলো খালি ছিল। কিন্তু পরে যখন এটি পুনরায় মুক্তি পায়, তখন সিনেমা হলে গিয়ে আমরাও বসার জায়গা পাইনি।
/এমএস