যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসভবন থেকে হলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক ও অভিনেতা রব রেইনার (৭৮) এবং তার স্ত্রী মিশেল সিঙ্গার রেইনারের (৬৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্কাই নিউজের মার্কিন সহযোগী এনবিসি নিউজের বরাতে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে তাদের দুজনের শরীরেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
রেইনারের ঘনিষ্ঠজনের এক সূত্র জানিয়েছে, রব রেইনার ও মিশেল সিঙ্গার রেইনারের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল। ঘটনার পরপরই বিষয়টি ঘিরে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডাকাতি ও হত্যা বিভাগের গোয়েন্দাদের এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এলএপিডির ক্যাপ্টেন মাইক ব্ল্যান্ড জানান, ঘটনাটিকে একটি ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায় চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঘটনার পর রেইনারের বাড়ির আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস রব রেইনারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রব রেইনারের মৃত্যু শহরের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। হলিউড ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রব রেইনার ছিলেন হলিউডের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তিনি ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটেল’ এবং ‘দ্য উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিট’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের নজর কেড়েছেন। পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও তিনি রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। ‘দিস ইজ স্পাইনাল ট্যাপ’, ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’, ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’ এবং ‘এ ফিউ গুড মেন’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালনা করে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন।
রব রেইনার ১৯৮৯ সাল থেকে মিশেল সিঙ্গার রেইনারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’ সিনেমার পরিচালনার সময় তাদের পরিচয় হয় বলে জানা গেছে। এই দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে।
/আরটি