ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত? সোনারগাঁয়ে শপিংমলে আগুন, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সুন্দরবনে কুমিরের হামলায় নারী জেলের মৃত্যু সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পেছাল ১২৭ বার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের জোক্সস, ‘ভাবছি মেসিকে ব্রাজিল দলে নিব’ প্রাথমিকে 'ম্যাথ ল্যাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ উন্নয়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়ব: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ আইসিইউতে চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার পঞ্চগড়ে বালি-পাথরে পাওয়া গেলো মর্টার শেল অনুশীলনে ড্রোন আতঙ্ক, বিরক্ত কোরিয়ান কোচ হামে সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭১ রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন হ্যারি কেইন রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের ১০ জন কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
Nagad desktop

সম্পর্ক রক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাই

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:২৫ এএম
সম্পর্ক রক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাই
ক্লিপটন গ্রুপের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এম ডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে তৈরি হওয়া সংকট ও এর প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন দেশের স্বনামধন্য পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান ক্লিপটন গ্রুপের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এম ডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তার এ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম

খবরের কাগজ: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ স্থগিত করে ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর প্রভাব কি পড়তে শুরু করেছে?

মহিউদ্দিন চৌধুরী: যুক্তরাষ্ট্রে আগে শুল্ক দিতে হতো ১৬ শতাংশ। সেখান থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছিল, পরে তা স্থগিত করে ১০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ২৬ শতাংশ করা হয়েছে। এই ১০ শতাংশ বৃদ্ধি আপাতত তিন মাসের জন্য। কিন্তু তিন মাস পর কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাবে বাংলাদেশের পোশাক খাত হিমশিম খাচ্ছে। অনেক ক্রেতা অর্ডার স্থগিত করে ৫ শতাংশ ডিসকাউন্ট দাবি করছে। অনেকে বাধ্য হয়ে তা মেনে নিচ্ছেন। অনেক চুক্তিতে ক্রেতা ৫ শতাংশ দিচ্ছে, মালিকরা আরও ৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছেন। এর ফলে দেশের প্রায় ১২৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা লাভ হারিয়েছে, আর ৭৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। পরিস্থিতি এখন সংকটজনক। এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন দিতে মালিকদের পাশে সরকার ও ব্যাংকগুলোকে দাঁড়াতে হবে।

খবরের কাগজ: আগামীতে আরএমজি খাতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?

মহিউদ্দিন চৌধুরী: পোশাকশিল্প মালিকরা যেসব অর্ডার নেন, তাতে লাভ হয় মাত্র ২ থেকে ২.৫ শতাংশ। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এর বেশি মার্জিন রাখা সম্ভব নয়। এখন ৫ শতাংশ শুল্ক ভাগাভাগি করতে গিয়ে লাভের বদলে আরও ২.৫ শতাংশ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এটা কয়টা কারখানার পক্ষে সম্ভব? অনেকেই ব্যাংক ঋণ ও ধার দেনায় জর্জরিত হয়ে যাবেন। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে না পেরে কারখানা বন্ধ করে দিতেও বাধ্য হতে পারে। কারণ চলমান অর্ডারগুলোতে এই অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কের হিসাব ছিল না।

খবরের কাগজ: যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করেছে, চীনের ওপর আরও বেশি। এর সুফল কি আমরা পাব?

মহিউদ্দিন চৌধুরী: ১০ শতাংশ শুল্ক সব দেশের ওপর বাড়ানোয় এটা সর্বজনীন একটা বিষয়। এতে এককভাবে কোনো দেশ লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তবে চীনের ওপর বাড়তি শুল্ক বাংলাদেশসহ কিছু দেশের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে তিন মাস পর বোঝা যাবে বাংলাদেশের কতটা লাভ হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনামও এই সুযোগ পাবে। আমরা আশা করছি, দেশের ইপিজেডগুলোতে চীনা বিনিয়োগ বাড়বে। কারণ চীন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে আমাদের মতো দেশগুলোতে বিনিয়োগ করে পণ্য রপ্তানি করতে পারে।

খবরের কাগজ: সরকারের উদ্যোগে কি আপনারা সন্তুষ্ট?

মহিউদ্দিন চৌধুরী: হ্যাঁ, সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। দ্রুত সময়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, আলোচনা চলছে। সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু সুবিধা দেওয়ার কথাও চিন্তা করতে হবে। সরকার-টু-সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে বলেই আমরা আশা করি। আগের ৩৭ শতাংশ শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, এটাও বড় অর্জন।

খবরের কাগজ: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বাণিজ্যে তারতম্যের শঙ্কা করছেন?

মহিউদ্দিন চৌধুরী: বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের আরএমজি খাতে ১০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়। সব মিলিয়ে ১৪ বিলিয়নের মতো বাণিজ্য হয়। এ সংকট শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে শিল্পকারখানা স্থবির হয়ে পড়তে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, ট্রাম্প শুধু বাংলাদেশের নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপরেও শুল্ক বসিয়েছেন। এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কিছুটা সফট কর্নার আছে বলেই মনে করি। আমাদের সরকারকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে বাণিজ্য বাড়াতে হবে।

খবরের কাগজ: এ সমস্যা সমাধানে আর কোন পথ আছে?

মহিউদ্দিন চৌধুরী: আমরা যদি আমেরিকা থেকে গম, এলএনজি, তুলা, সয়াবিন, শস্য ইত্যাদির আমদানি বাড়াই, তাহলে বাণিজ্য ভারসাম্য আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানিতে ভারস্যাম্য আনা গেলে সম্পর্ক উন্নত হবে।

খবরের কাগজ: সম্প্রতি কিছু বিদেশি পণ্যের দোকানে হামলার প্রভাব কি রপ্তানি বাণিজ্যে পড়তে পারে?

মহিউদ্দিন চৌধুরী: এসব পণ্যের মালিকও আমাদের দেশের কেউ না কেউ। কেউ না কিনলে ক্ষতি নেই, কিন্তু হামলা বা ধ্বংস কোনো যুক্তিসংগত কাজ না। সরকার যেভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করি।

খবরের কাগজ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গার্মেন্ট ব্যবসার ১৮ শতাংশ হয়। অন্য দেশের ব্যবসায় প্রভাব পড়বে কী?

মহিউদ্দিন চৌধুরী: হ্যাঁ, পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দেখাদেখি অন্য দেশও একই রকম সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে আমরা সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা করতে চাই।

খবরের কাগজ: এ সংকট সমাধানে আর কী করা যেতে পারে?

মহিউদ্দিন চৌধুরী: আমাদের প্রধান শক্তি হলো আমরা কম দামে ভালো মানের পণ্য সরবরাহ করি। এতে যুক্তরাষ্ট্রও উপকৃত হয়। এক মার্কিন সিনেটর বলেছেন, বাংলাদেশের ওপর এভাবে শুল্ক বসানো ঠিক হয়নি- এটা আমাদের জন্য আশার কথা।

খবরের কাগজ: বাংলাদেশে ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য আপনার কোনো পরামর্শ আছে?

মহিউদ্দিন চৌধুরী: কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক জিরো করে দেওয়া উচিত। এতে প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পকারখানা বাড়বে। আরএমজির মতো সব সেক্টরে সুবিধা দিলে দেশে শিল্পায়ন হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে, সরকার রাজস্বও পাবে।

গ্রাহক আস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাফল্যের চূড়ায় পূবালী ব্যাংক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
গ্রাহক আস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাফল্যের চূড়ায় পূবালী ব্যাংক
খবরের কাগজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের ব্যাংক খাত যখন উচ্চ খেলাপি ঋণ, মূলধনসংকট ও আস্থাহীনতার চাপে টালমাটাল, তখন ব্যতিক্রম হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তর, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের পূবালী ব্যাংক। 

চ্যালেঞ্জপূর্ণ বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও ২০২৫ সালে শক্তিশালী আর্থিক প্রবৃদ্ধি, সুদৃঢ় সম্পদমান, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকটি। বর্তমানে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে, কোনো ধরনের প্রভিশন ঘাটতি নেই, মূলধন পর্যাপ্ততা দেশের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো মুনাফা ও লভ্যাংশ প্রদান–এসব সূচকে ইতিবাচক ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকটি। সুশাসন, বিচক্ষণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্ভাবনের মাধ্যমেই এমনটি সম্ভব হয়েছে বলে জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী।

খবরের কাগজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আর্থিক সক্ষমতা, সুশাসন, গ্রাহকের আস্থা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির প্রতিফলনের ফলে গত তিন বছরে পূবালী ব্যাংক শুধু ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিই অর্জন করেনি, বরং শেয়ারহোল্ডারদের জন্যও উল্লেখযোগ্য মূল্য সৃষ্টি করেছে। ২০২২ সালে যেখানে ব্যাংকের শেয়ারদর ১৬ থেকে ২০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছিল, বর্তমানে তা ৩৭ টাকারও ঊর্ধ্বে উন্নীত হয়েছে। একইসঙ্গে ধারাবাহিক স্টক ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন প্রায় এক হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৫৬০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা শেয়ারহোল্ডারদের অংশীদারত্বের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকের মূলধনী ভিত্তিকেও আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে ২০২২ সালের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের বাজারমূল্য তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, সুশাসন, গ্রাহকের আস্থা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পূবালী ব্যাংক সুশাসন, বিচক্ষণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মূল্য সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

মোহাম্মদ আলী বলেন, পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পূবালী ব্যাংক শুধু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং প্রযুক্তি, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। শাখাভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে ব্যাংকটি একটি শক্তিশালী ‘ফিজিটাল ব্যাংকিং ইকোসিস্টেম’ গড়ে তুলছে, যেখানে গ্রাহক তার পছন্দের মাধ্যমে, সুবিধাজনক সময়ে এবং নিরাপদ উপায়ে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

ডিজিটাল রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পিআই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ২০২৫ সালের শেষে ৫ লাখ ২৮ হাজার ২৭৬ জন সক্রিয় ব্যবহারকারী অর্জন করেছে। প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে মোট ১ দশমিক ৮৬ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বছরওয়ারি হিসাবে ব্যবহারকারী বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৮ শতাংশ এবং লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ১১৫ শতাংশ, যা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ব্যাংকটি। ২০২৫ সালে মার্চেন্ট পিওএস টার্মিনাল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৫২৫-এ এবং ১ দশমিক ৪৫ লাখেরও বেশি বাংলা কিউআর স্থাপনের মাধ্যমে নগদহীন লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসার বেড়েছে।

পূবালী ব্যাংকের বিস্তৃত নেটওয়ার্কও এই রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের ৫১৭টি শাখা, ২৭৪টি উপশাখা, ২২টি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো এবং ৯০১টি এটিএম/সিআরএম কার্যকর ছিল। সেল্ফ সার্ভিস ব্যাংকিং ও ডিজিটাল অনবোর্ডিং সুবিধা গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিংকে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বনির্ভর করেছে।

আর্থিক সূচকেও ব্যাংকটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালে ব্যাংকের মোট সম্পদ ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৫১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং ঋণ ও অগ্রিম বেড়ে হয়েছে ৭১ হাজার ১৪০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। একই সময়ে একীভূত পরিচালন মুনাফা ২ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা এবং কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। শেয়ারহোল্ডার ভ্যালুর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার হার দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যূনতম সীমার চেয়ে অনেক বেশি এবং ব্যাংকের মূলধনী শক্তি ও স্থিতিশীলতার পরিচায়ক।

শুধু তা-ই নয়, অ্যাসেট কোয়ালিটির ক্ষেত্রেও পূবালী ব্যাংক শিল্প খাতের তুলনায় ব্যতিক্রমী অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল মাত্র ২ দশমিক ২০ শতাংশ, যেখানে খাতভিত্তিক গড় খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। ডাটা-নির্ভর মনিটরিং, বিচক্ষণ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও পূবালী ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত রপ্তানি ব্যবসা ৩৮ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা, আমদানি ব্যবসা ৪৭ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স ১১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের সেবার মান, বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং গ্রাহক আস্থার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ আলী। 

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইএসজি ও টেকসই উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে পূবালী ব্যাংক। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের প্রায় ৩০ শতাংশ টেকসই অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মোহাম্মদ আলী বলেন, ২০২৬-২০২৮ কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় পূবালী ব্যাংক প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ব্যাংকিং মডেল বাস্তবায়নে কাজ করছে। ২০২৬ সালে ব্যাংকটি একটি বছরব্যাপী ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে, যার মাধ্যমে রিটেইল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং করপোরেট খাতে ডিজিটাল লেনদেন আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো পূর্ণাঙ্গ আর্থিক সেবার বাইরে রয়েছে। শাখার বিস্তৃতি, উপশাখা, সেল্ফ সার্ভিস পয়েন্ট, পিআই অ্যাপ এবং বাংলা কিউআরের সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা গ্রাহকদের সেবার আওতাভুক্ত করার  লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে দেশের আরও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসতে চায় পূবালী ব্যাংক। মোহাম্মদ আলীর মতে, প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিংই ভবিষ্যতের পথ। ঐতিহ্য, সুশাসন, উদ্ভাবন এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ে পূবালী ব্যাংক আগামী দিনগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাজেটে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নসহ ১০ বিষয়েগুরুত্ব দেওয়া হবে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
বাজেটে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নসহ ১০ বিষয়েগুরুত্ব দেওয়া হবে
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: খবরের কাগজ

আজ ঘোষিত হবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনী  

খবরের কাগজ: নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে কোন কোন বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু বিষয়ের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে বিষয়গুলো বলার আগে তিনটি জিনিস উল্লেখ না করলেই নয়। প্রথমত: আমরা কোন পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি; দ্বিতীয়ত: ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং তৃতীয়ত: বর্তমানে সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন বাস্তবতা। মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে অন্যান্য ব্যবসার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু দশা। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। আমাদের তেল-গ্যাস-সারের বৃহদাংশ আমদানি করতে হয় মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। একটা উদাহরণ দিলেই বোঝা যাবে পরিস্থিতিটা। যে ডিজেলের দাম ছিল ৮৮ মার্কিন ডলার, যুদ্ধ শুরুর পর সেটা দাঁড়াল ২৬৪ মার্কিন ডলারে। এলএনজির দাম হয়ে গেল দ্বিগুণেরও বেশি। 

একটা ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী ও দুর্বল অর্থনীতির মধ্যে বসবাসরত সাধারণ জনগণের ওপর যখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অভিঘাত এসে পড়ে, সেটি তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে। তবে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার যথাসম্ভব চেষ্টা করছে জ্বালানির মূল্য মানুষের ধরাছোঁয়ার মধ্যে রাখার। এজন্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে সবচেয়ে কম।

এবার আসি বাজেটের বিষয়ে: দশটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমরা বাজেট প্রণয়ন করছি। আমরা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসব। এ বিষয়েও বাজেটে আলোকপাত করা হবে। 

খবরের কাগজ: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি চাপে আছে। বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে বাজেটে কী থাকছে? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: আমাদের অর্থনীতির সমস্যাগুলো একদিনে তৈরি হয়নি, যদিও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নতুন। এই যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত সমস্যাগুলো অর্থনীতির পুরোনো দুর্বলতাগুলোকে আরও সংকটাপন্ন করেছে। আমরা মনে করি, এসবের সমাধানও করতে হবে, তবে সময় নিয়ে। আমি আগেই বলেছি অর্থনীতির সমস্যা এবং বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং জনগণের দুর্দশা সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণভাবে অবগত। এ কারণে আমরা অত্যন্ত স্বল্পমেয়াদে পরিকল্পিত কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। বর্তমান চলমান সংকট মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার আওতা বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া, জনগণের যাতে অসুবিধা না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে জ্বালানির মূল্য সামান্য হারে সমন্বয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যাদির ওপর কর-শুল্কের বোঝা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হবে। এ ছাড়া, স্বাস্থ্যবিষয়ক বেশকিছু পণ্য যেমন–কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর কর হ্রাস করা হবে। 

খবরের কাগজ: আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমায় কি পরিবর্তন হবে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে।

খবরের কাগজ: রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বাড়ানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকার বেশি। আগামীতে এত বড় অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কী কৌশল গ্রহণ করেছেন? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: সরকার এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। রাজস্ব খাতে গভীর ও বিস্তৃত সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল বেস্ট প্র্যাকটিস অনুসরণ করে রাজস্ব নীতি ও প্রশাসনকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হবে। শুধু জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে নয় বরং একটি ন্যায্য, পূর্বানুমানযোগ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ও সর্বজনীন করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে বিনিয়োগ-উৎপাদন-কর্মসংস্থান-ভোগ-কর চক্রের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায়ে গতি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। 

খবরের কাগজ: আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: এ বিষয়ে সরকারের নীতি সোজাসাপ্টা। বিনিয়ন্ত্রণ এবং Ease of doing business বা ব্যবসা পরিচালনার সহজ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এটি করতে ব্যাপক খাতভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষতঃ বিনিয়োগ ও রাজস্ব খাতের বিভিন্ন স্তরে ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি দূর করতে এবং ব্যবসার ব্যয় হ্রাস করার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন ছাড়পত্র এবং অনুমতি প্রদানের সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের ভেতর কোনো সরকারি দপ্তর ছাড়পত্র বা অনুমতি দিতে ব্যর্থ হলে আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমতি পেয়ে যাবেন; একই দলিল বারবার দিতে হবে না; একই দপ্তর হতে সব অনুমতি বা ছাড়পত্র পাওয়ারও ব্যবস্থা করা হবে। রাজস্ব খাতে ব্যবসায়ীদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা করা, অডিটের জন্য কর মামলা নির্বাচনে অটোমেশন ইত্যাদিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে প্রস্তাব করা হবে।  

খবরের কাগজ: বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকারের কতটা আগামী বাজেটে বাস্তবায়ন হবে? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বিএনপির যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সেটি স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন হবে। আমরা যে অর্থনীতি পেয়েছি, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এই অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় দিতে হবে। এটি এত সহজে হবে না। আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং তার থেকে তৈরি পরিকল্পনা যা আমরা বাজেটে প্রতিফলিত করব, তা ব্যাপক এবং গভীর। এর মধ্যে যে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন কথা বলেছি, সেটি হলো বিনিয়ন্ত্রণ। এটি আপনার এই বাজেটেই দেখতে পাবেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমাদের যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়নের রূপরেখাও এই বাজেটে পাওয়া যাবে। ক্রিয়েটিভ ইকোনমির একটি বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন পরিকল্পনাও এই বাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং, আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকারের স্বল্পমেয়াদি বিষয়গুলো, যা এক বছরে বাস্তবায়নের কথা, সেগুলো ইতোমধ্যেই বেশকিছু আমরা করে ফেলেছি, যেমন: ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ ইত্যাদি। আমাদের ট্র্যাকরেকর্ড বলে বাকিগুলোও আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ইনশাআল্লাহ করে ফেলব।

খবরের কাগজ: আগামী বাজেটে শিক্ষা খাতে কতটা গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: এই বাজেটে শিক্ষা হবে সর্বাধিক গুরুত্বপ্রাপ্ত খাত। শিক্ষা হবে জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা, উদ্ভাবনী ও আনন্দময়। এর মানোন্নয়নে বিএনপি সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ বছর শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হবে জিডিপির ২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ১.৩৯ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এ খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।

খবরের কাগজ: আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সরকার কতটা গুরুত্ব বাড়িয়েছে? 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: আগামী পাঁচ বছরে আমরা স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করব। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জিডিপির ১.০১ শতাংশ। আমরা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে চিকিৎসাকেন্দ্রিক ধারা থেকে বেরিয়ে প্রতিরোধকেন্দ্রিক ধারায় যেতে চাই। আমরা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকে ব্যয় না বলে বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম বিনিয়োগ হিসেবে দেখছি।

খবরের কাগজ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারে সরকারের নীতি কী? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে? বাজেটে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: সাধারণ মানুষের জন্য ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তার আওতা বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া জনগণের যাতে অসুবিধা না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে জ্বালানির মূল্য সামান্য হারে সমন্বয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ নিম্ন-মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যদ্রব্যাদির ওপর কর-শুল্কের বোঝা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হবে। এ ছাড়া, স্বাস্থ্যবিষয়ক বেশকিছু পণ্য যেমন–কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর কর হ্রাস করা হবে।

সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির মুরগির বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারি নজরদারি জরুরি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
মুরগির বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারি নজরদারি জরুরি
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (CVASU) পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির

দেশের পোলট্রি খাতকে স্থিতিশীল রাখতে মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার (DOC) দাম নির্ধারণে সরকারের কার্যকর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে ছোট খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (CVASU) পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির। তার সঙ্গে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম।

খবরের কাগজ: মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার উৎপাদন খরচ কত?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: এক দিন বয়সী ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনের খরচ সাধারণত ৩০ টাকার বেশি। লেয়ার বাচ্চার ক্ষেত্রে তা ৩৫ টাকার ওপরে। তবে ফিডের দাম, প্যারেন্ট স্টকের মান এবং হ্যাচারির ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে এই খরচ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

খবরের কাগজ: খামারিদের অভিযোগ, দেশের পোলট্রি শিল্পের নিয়ন্ত্রণ বড় কোম্পানির হাতে চলে গেছে। এর বাস্তবতা কতটুকু?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: খামারিদের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বর্তমানে ফিডের দাম অনেক বেড়েছে, ভ্যাকসিনের খরচও রয়েছে। অন্যদিকে ডিম উৎপাদনের গড় খরচ এখন প্রায় ১০–১২ টাকার মধ্যে হলেও অনেক ক্ষেত্রে খামারিদের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে তাদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তারা প্রায়ই উৎপাদন খরচের নিচে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে ছোট খামারিদের টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

খবরের কাগজ: পোলট্রি খাতের প্রধান সমস্যাগুলো কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: এই খাত এখনো অনেকাংশে আমদানিনির্ভর। ডলারের দাম বাড়ায় ভুট্টা, সয়াবিনসহ খাদ্য উপাদান আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি বাজারে মাঝে মাঝে কৃত্রিম সংকটও তৈরি করা হয়। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বিপণনব্যবস্থা থাকায় তারা সহজে পণ্য বিক্রি করতে পারে, কিন্তু ছোট খামারিরা সরাসরি বাজারে প্রবেশ করতে পারেন না। এটিই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

খবরের কাগজ: দেশের অর্থনীতিতে পোলট্রিশিল্পের ভূমিকা কীভাবে দেখেন?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: ঈদুল আজহার আগে-পরে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ডিম ও মুরগির চাহিদা কিছুটা কম থাকে, তবে বাকি সময়ে বাজার স্থিতিশীল থাকে। পোলট্রি খাত সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। গরু বা খাসির মাংসের তুলনায় মুরগির মাংস অনেক সস্তা, ফলে সাধারণ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামাঞ্চলে পোলট্রি খামার স্থাপন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

খবরের কাগজ: এ ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারের কার্যকর নজরদারি থাকা জরুরি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি গ্রহণযোগ্য মূল্যসীমা নির্ধারণ করা গেলে বাজারে অস্থিরতা কমবে। একই সঙ্গে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো গোষ্ঠী এককভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। এতে ছোট খামারিরা টিকে থাকতে পারবেন এবং ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাবেন।

খবরের কাগজ: অনেকেই বলেন, বায়োসিকিউরিটি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে খামারিরা লোকসানে পড়েন–এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: বিদেশি জাতের মুরগি তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল। তাই খামার শুরু করার আগে এ বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের পর খামার পরিচালনা করলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বড় কোম্পানি, সরকারি প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং খামারিদের সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে পুরো খাতই উপকৃত হবে।

খবরের কাগজ: মুরগির খাদ্যের আমদানি-নির্ভরতা কমাতে কী করা যেতে পারে?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: মুরগির খাদ্যের প্রধান উপাদান ভুট্টা। দেশে ভুট্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ এর উৎপাদন খরচ আমদানির তুলনায় কম। তবে বাজার নিশ্চয়তা দিলে আরও বেশি কৃষক এই খাতে আসবেন। এতে করে আমদানি-নির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সাক্ষাৎকারে সুমন হাওলাদার সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১১ এএম
সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার

ঈদ, আশুরা, রমজান মাসসহ বিভিন্ন ইভেন্টকে লক্ষ্য রেখে কোম্পানিগুলো রুটিন করে মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ায়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজ চট্টগ্রামের ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম।

খবরের কাগজ: পোলট্রি খাতে খামারিদের অবস্থা কী?
সুমন হাওলাদার: এককথায় বলতে গেলে ভালো নেই। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখন এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অন্য কর্মে চলে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের ২০০৭ সালে খামারির সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫ হাজার। ২০১২ সালে তা কমে হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার। বর্তমানে ৬৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার খামারি কোনোভাবে টিকে আছেন। 

খবরের কাগজ: কারণ কী?
সুমন হাওলাদার: খামারিরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও যখন কোনো লাভ পাচ্ছেন না, তাই তারা অন্য খাতে চলে যাচ্ছেন। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এভাবে চলতে থাকলে দেশের একসময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যখন সাধারণ মানুষ আর মুরগি কিনে খেতে পারবেন না। গরু-ছাগলের মাংসের মতো মুরগির মাংসও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ২০২৩ সালে একবার সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। তখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা হয়েছিল ব্রয়লার মুরগির দাম। এখন যেভাবে চলছে সরকার যদি হস্তক্ষেপ না করে তাহলে সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে দেরি নেই।

খবরের কাগজ: এই সংকট কীভাবে তৈরি হচ্ছে?
সুমন হাওলাদার: কোম্পানিগুলো ঈদ, রমজান মাস, শবেবরাত, নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসব এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রুটিন তৈরি করে মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ায়। এবারের ঈদে ভোক্তারা যে মুরগি কেজি ২০০ টাকার বেশি দামে কিনে খেয়েছেন সেই বাচ্চা দেশের বিভিন্ন এলাকার খামারিদের কিনতে হয়েছে প্রতিটি ৮৫ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। কোম্পানিগুলো লাভ আগে নিয়ে নেয়। যখন চাহিদা বাড়বে তার আগেই তারা বাচ্চার দাম বাড়িয়ে ফেলে। 

খবরের কাগজ: এই খাতের ওপর কোম্পানিগুলোর এত শক্ত নিয়ন্ত্রণ কীভাবে প্রতিষ্ঠা পেল?
সুমন হাওলাদার: যারা বাচ্চা উৎপাদন করে তারাই ফিড উৎপাদন করে। এ ছাড়া ওষুধ, ভ্যাকসিন সবকিছুই তারা করে। তারা চুক্তিভিত্তিক ফার্ম করে। বাজার নিয়ন্ত্রণও তারা করে। 

খবরের কাগজ: পোলট্রি শিল্পের নীতিমালা নেই? 
সুমন হাওলাদার: নীতিমালা হয়েছে। তবে তা দুর্বল নীতিমালা। সরকারের আমলারা করপোরেট গ্রুপের কাছ থেকে সুবিধা নেয়। করপোরেট গ্রুপের হাতে পুরো খাতটা তুলে দিচ্ছে। এতে বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। দেশের অর্ধকোটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বেকার করে দিচ্ছে। 

খবরের কাগজ: কোম্পানিগুলোর অভিযোগ হলো অনেক সময় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে বাচ্চা বিক্রি করতে হয়।
সুমন হাওলাদার: এটা তাদের লোকদেখানো বক্তব্য। যেকোনো ব্যবসার নিয়ম হলো যখন চাহিদা বাড়ে কিংবা বিক্রি বাড়ে, তখন কম লাভে পণ্য বিক্রি করা। কিন্তু পোলট্রি খাতে তার উল্টো চিত্র। বিক্রি বাড়লে তারা দুই থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি করে। খামারিরা যখন লোকসানে পড়ে খামার বন্ধ করে দেন, তখন তারা কম দামে বাচ্চা বিক্রি করেন। ১০ থেকে ১২টা কোম্পানি সিন্ডিকেট করে এই জটিলতা তৈরি করেছে। দেশে প্রতি সপ্তাহে বাচ্চার চাহিদা প্রায় ২ কোটি। বাচ্চার সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। 

খবরের কাগজ: অভিযোগ আছে, বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করতে না পারার কারণে অনেক সময় মুরগি মারা যায়।
সুমন হাওলাদার: এই রোগের জন্যও কোম্পানিগুলো দায়ী। তারা কম দামে প্যারেন্ট স্টক কেনার জন্য বার্ড ফ্লু হয়েছে এমন দেশ থেকে বাচ্চা কিনে আনে। তাহলে খামারে রোগ তো আসবেই। তারা শুধু নিজেদের লাভের জন্য সেই কাজটি কেন করে।

সাক্ষাৎকারে নাছির উদ্দিন ১৫ দিন অন্তর মুরগির বাচ্চা ও মুরগির দাম নির্ধারণ করা উচিত

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ এএম
১৫ দিন অন্তর মুরগির বাচ্চা ও মুরগির দাম নির্ধারণ করা উচিত
প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন

একজন ক্ষুদ্র খামারি তার সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন না। ভালোভাবে চলতে পারেন না। সরকারের উচিত অন্তত ১৫ দিন অন্তর মুরগি এবং মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। তাহলে কেউ রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবে না। একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন, ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম। 

খবরের কাগজ: খামার করতে এসে অনেকেই টিকতে পারছেন না কেন? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: খামার করতে এসে টিকতে না পারার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে সঠিক সময়ে উৎপাদন করতে না পারা। খামার ব্যবস্থাপনায় অজ্ঞতা, সঠিক পরিচর্যার অভাব। খামার রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ। এখানে বাজারজাত করার একটি ব্যাপারও রয়েছে। বাজারে মূল্য পেতে হলে সঠিক সময়ে বিক্রি করতে হবে।

খবরের কাগজ: খাবারের দাম বেশি, বাচ্চার দাম বেশি কীভাবে সামাল দিচ্ছেন? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বর্তমানে মুরগির পাইকারি দাম কেজি ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। তবে খাবারের দাম আর একটু কম থাকলে ভালো হতো। পর্যাপ্ত খাবার, টিকা ওষুধ দিয়ে উৎপাদনের দেখা গেল বাজারে মূল্য কম। সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে ১৫ দিন অন্তর বাচ্চা এবং মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিতে তাহলে সবাই উপকৃত হতো। 

খবরের কাগজ: সরকার আর কী করলে খামারিদের উপকার হবে? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বেসরকারিভাবে খামার তৈরি হচ্ছে। খামারিরা কীভাবে উৎপাদন করছে, সেটিও দেখাশোনার কেউ নেই। এতে মাঝারি ও ক্ষুদ্র খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে যান। খামার টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বাচ্চা ক্রয় থেকে লালনপালন ও বিক্রি সব ক্ষেত্রে যদি সরকারি নজরদারি রাখে তাহলে সবার জন্য মঙ্গল। কেউ রাতারাতি যা খুশি তা করতে পারবে না। 

খবরের কাগজ: রোগবালাই নিরসনের ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: আমার খামারে যেকোনো রোগবালাই নিজেই চিকিৎসা করি। একজন খামারি হিসেবে খামার সম্পর্কে রোগবালাই সম্পর্কে জ্ঞান রাখা খুবই দরকার। খামারে সমস্যা দেখা গেলে কেন সৃষ্টি হচ্ছে সেটি খুঁজে বের করতে হবে। এই যে সমস্যা নির্ণয় করা, সেটি একজন খামারি ছাড়া বেশি কেউ বুঝবে না। তাই বলছি, খামারিকে ট্রেনিং নিতে হবে। রোগ বালাইয়ের লক্ষণ বুঝতে হবে। 

খবরের কাগজ: যারা নতুন খামার করতে আসছে তাদের উদ্দেশে কিছু বলেন। 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। খামার করতে হলে আধুনিকভাবে করতে হবে। অর্থাৎ কাজ জেনে খামারে নামতে হবে। কিছু জানাশোনা থাকলে বাকি কাজটা করতে গিয়ে শিখতে পারবে। 

খবরের কাগজ: একসময় অনেক খামার ছিল, এখন প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে কেন?
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: এই ব্যবসাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেন না। এখানে ঝুঁকি বেশি। অনেকে না বুঝে এসে আটকে যান। সামনেও যেতে পারেন না, পেছনেও যেতে পারেন না। অনেকে ৬ মাস এক বছর খামার করে বন্ধ করে দেন। লাভ করতে না পেরে অনেকেই অন্য ব্যবসায় চলে যান। খামার ব্যবসায় মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি উন্নতি করেন, খামারিরা করতে পারেন না। 

খবরের কাগজ: আপনিতে নিজেই অনেক অভিজ্ঞ, আপনার কতটুকু উন্নতি হয়েছে? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: ঠিক বলেছেন, সেভাবে উন্নতি করতে পারিনি। বিগত ১০ বছর ধরে এ ব্যবসায় রয়েছি। একজন খামারি তার ছেলেমেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন না, ভালো কিছু খেতে পারেন না। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভ করছেন। আমরা লাভ করতে পারি না।