ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলের শুরুর একাদশে চমক অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নামছে ব্রাজিল, ভাঙছে ৪০ বছরের ঐতিহ্য পেনাল্টিতে এমবোলোর গোল, এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ফিটনেস প্রশ্নে রোনালদো, ‘আমাকে খেলতে দেখেননি?’ ‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা?
Nagad desktop

নোবেল জয়ী লাসলো: মানব জীবনের অস্তিত্বের অস্বস্তি উন্মোচক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১৮ এএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ১১:১৮ এএম
নোবেল জয়ী লাসলো: মানব জীবনের অস্তিত্বের অস্বস্তি উন্মোচক
হাঙ্গেরিয়ান ঔপন্যাসিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। ছবি: সিএনএন

হাঙ্গেরির কথাসাহিত্যিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই এ বছরের সাহিত্যের সোনার হরিণ মর্যাদাপূর্ণ ‘নোবেল’ পুরস্কার জয় করে সাহিত্যবোদ্ধাদের নজর কাড়লেন। মূলতঃ তিনি নোবেল পেলেন, ‘তার মনোমুগ্ধকর ও দূরদর্শী শিল্পকর্মের জন্য, যা মহাপ্রলয়ঙ্করী ভয়ের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে প্রতিবিম্বিত করে’। নোবেল কমিটির মতে, তিনি মধ্য ইউরোপীয় পরম্পরার একজন মহান মহাকাব্যিক লেখক, যার পরম্পরায় রয়েছে কাফকা থেকে থমাস বার্নহার্ড পর্যন্ত। ক্রাসনাহোরকাই হচ্ছেন দ্বিতীয় হাঙ্গেরিয়ান সাহিত্যিক, যিনি এ পুরস্কার জিতে নিলেন। এর আগে ইমরে কের্তেস ২০০২ সালে তা অর্জন করেন।

দক্ষিণ-পূর্ব হাঙ্গেরির এক ছোট্ট শহর গিউলায় জন্ম ১৯৫৪ সালের ৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া ৭১ বছর বয়সী লাসলো ক্রাসনাহোরকাই এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, যিনি আইনজীবী বাবা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসক’ মায়ের সন্তান এবং নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিলেও একপর্যায়ে তিনি জীবনের বাস্তবতার স্তরকে স্পর্শ করতে নিছক খেয়ালের বশে তিন শ গরুর নাইট ওয়াচম্যান, খনি শ্রমিকের কাজ, জ্যাজ ব্যান্ডে পিয়ানো বাজিয়ে, ছয়টি গ্রামের সংস্কৃতি কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক, সামরিক বাহিনীতে যোগদান- ইত্যকার বিচিত্র কাজেরও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ফলে তার লেখায় মানব জীবনের অস্তিত্বের অস্বস্তি, দুঃস্বপ্ন ও বিষণ্নতার নানা বিষয়-আশয় অন্বেষণ মুখ্য হয়ে ওঠে। তিনি মানবজীবনের কঠোরভাবে রক্ষিত গোপনীয়তা, দার্শনিক জিজ্ঞাসা, অস্তিত্বের অস্বস্তি, ভয় তথা অন্ধকার দিককে উন্মোচিত করে আলোর পাদপ্রদীপে এনে অসহায় মানুষগুলোকে আলোর ঝরনাধারায় অবগাহন করাতে চেয়েছেন। ‘প্যারিস রিভিউ’-এ ডাস্টিন ইলিংওয়ার্থ বলেছেন, ‘লাসলো ক্রাসনাহোরকাই-এর নেশা বা আচ্ছন্নতা গোপন জিনিসের প্রতি, যেগুলো মানুষের জীবনের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক হিসেবে বিবেচিত’।

দুই ডজনেরও বেশি বই লিখেছেন লাসলো। প্রবন্ধ ও ছোট গল্পও লিখেছেন অনেক। তবে উপন্যাস তাকে এনে দিয়েছে খ্যাতির গৌরব। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো- ‘সাতান্তাঙ্গো’, ‘দ্য মেলানকলি অব রেজিস্ট্যান্স’, ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’, ‘সেইয়োবো দেয়ার বিলো’, ‘ব্যারন হেনকহেইমস হোম কামিং’, ‘ডেসট্রাকশন অ্যান্ড সরো বিনিথ দ্য হেভেন্স: রিপোর্টাজ’, ‘দ্য ওয়াল্ড গোজ অন’, ‘স্পেডওয়ার্ক ফর আ প্লেস’, ‘চেজিং হোমার’, ‘আ মাউন্টেইন টু দ্য নর্থ’, ‘হারশট ০৭৭৬৯’ ইত্যাদি।

লাসলোর প্রথম উপন্যাস ‘সাতান্তাঙ্গো’ (শয়তানের নাচ) প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। এতে তুলে ধরা হয়েছে, প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলের একটি পরিত্যক্ত সমবায় খামারে দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করা নিঃস্ব কিছু মানুষের জীবন চিত্র, যারা সমাজতন্ত্র পতনের ঠিক আগ-মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গ, অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে দিনাতিপাত করছিল। অবশ্য তাদের সঙ্গে ছিল এস্তিকে (Estike)-এর মতো ছোট মেয়ে, নির্মমতা তাকে পরাভূত করলেও তার ভেতর রয়ে যায় নিষ্পাপ দৃঢ়তা। এ উপন্যাসটি প্রকাশের পর পরই এটি হাঙ্গেরি সাহিত্য জগতে আলোড়ন তোলে। এ উপন্যাসকে ভিত্তি করে ১৯৯৪ সালে ৭ ঘণ্টা দৈর্ঘের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন হাঙ্গেরির খ্যাতিমান পরিচালক বেলা তার। পরে ইংরেজিতে অনূদিত হলে ‘সাতান্তাঙ্গো’ ২০১৩ সালে ‘বেস্ট ট্রান্সলেটেড বুক অ্যাওয়ার্ড (ফিকশন)’ ও ২০১৫ সালে ‘ম্যানবুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ’ অর্জন করে। এ উপন্যাস তার মনোবল এতই বাড়িয়ে দেয় যে, এটি প্রকাশের সময় থেকেই তিনি স্বাধীন লেখক জীবন বেঁচে নেন।

লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের পরবর্তী উপন্যাস দ্য মেলানকলি অব রেজিস্ট্যান্স (প্রতিরোধের বিষণ্নতা) ১৯৮৯ সালে হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় প্রকাশিত হয়, যার ইংরেজি অনুবাদ বেরোয় ১৯৯৮ সালে। ৩০০ পৃষ্ঠার এ উপন্যাসটির পুরোটাই একটি মাত্র বাক্যে লেখা, ভাবা যায়! খ্যাতনামা সিনেমা নির্মাতা বেলা তার এটিকে ২০০০ সালে চিত্ররূপ দেন। পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হাঙ্গেরিয়ান ছোট শহর কার্পাথিয়ান ঘিরে ভৌতিক কল্পকাহিনি ও নাটকীয়তায় ভরা এ উপন্যাসে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের চিত্র আঁকা হয়েছে। এতে দেখা যায়, শহরে একটা ভৌতিক সার্কাস পার্টি ঢুকে পড়ে, যাদের সঙ্গে রয়েছে একটি বিশালদেহী মৃত তিমি। এ সুযোগে অনেকে প্ররোচিত হয়ে নৈরাজ্য-সহিংসতা শুরু করে। নৈরাজ্য, সহিংসতা, অরাজকতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, সেনাবাহিনীও ব্যর্থ হয়। ফলতঃ স্বৈরাচারী অভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়। এ উপন্যাসের একটি চরিত্র Valuska (ভালুশকা)। সে বিশ্বাস করে পৃথিবীর বিশৃঙ্খলার মধ্যেও এক ধরনের শৃঙ্খলার বন্ধন আছে, যদিও সেই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তাকে শেষ করে দেয়। এই উপন্যাসে লেখক চমৎকারভাবে দীর্ঘ বাক্যের গদ্য ফর্মেটে শৃঙ্খলা-বিশৃঙ্খলার নৃশংস দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলেছেন, যা থেকে কেউই মুক্ত নয়। 

ক্রাসনাহোকাইয়ের উপন্যাস ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’ ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজিতে অনূদিত হয় ২০০৬ সাল। এ উপন্যাসের মূল চরিত্রে আছেন এক আর্কাইভ কর্মচারী, যিনি জীবনের অন্তিম পর্যায়ে নিউইয়র্কে পাড়ি জমাতে মনস্থির করেন। উপন্যাসটি লেখার সময় একপর্যায়ে তিনি লক্ষ করেন, এতে তিনি নিজেকে উপস্থাপন করে আত্মবিধ্বংসী পথে অগ্রসর হচ্ছেন, তখন তিনি উপন্যাসটির কাঠামোই বদলে ফেলেন।

২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় লাসলোর উপন্যাস ‘সেইবো দেয়ার বিলো’। এতে তিনি নিবিড় নৈকট্যে যুক্ত হন এশীয় শিল্প ও দর্শন তথা বৌদ্ধ ভাবনার সঙ্গে। তিনি বলেন, শিল্প হলো আমাদের নিয়তিস্বরূপ হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতির প্রতি মানবিকতার অসাধারণ প্রতিক্রিয়া। এটি এমন এক সীমানার অপর প্রান্তে রয়েছে, যেখানে আমাদের অবিরাম থমকে যেতে হয়। 
লাসলোর উপন্যাসগুলোর মধ্যে ‘ব্যারন হেনকহেইমস হোম কামিং’ (Baron Wenckheim’s Home coming) একটা গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস, যা ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এটিকে তার জীবনের সর্বোত্তম ও সবচেয়ে রসাত্মক কাজ হিসেবে বিবেচনা করেন। এতে তিনি সাহিত্যের প্রথাগত ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন। এতে দেখা যায়, ব্যারন আর্জেন্টিনা থেকে বাড়ি ফিরে তার শৈশবের প্রণয়ীর সঙ্গে মিলিত হতে চাইলেও বিশ্বাসঘাতক দান্তের কারণে তা দূর-আস্ত হয়ে ওঠে। 

লাসলোর সর্বশেষ কাজ হলো ২০২১ সালে প্রকাশিত ‘হারশট ০৭৭৬৯’। একে জার্মান সাহিত্যের একটা অনন্য উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়। এর গল্পে জার্মানির ছোট্ট শহর থুরিঙ্গেনের সামাজিক অরাজকতা, জ্বালাও-পোড়াও ও হত্যা ঘটনা পরম্পরা তুলে ধরা হয়েছে। এটি মূলতঃ এক গ্রাফিতি পরিষ্কারককে নিয়ে লেখা, যে তখনকার জার্মান চ্যান্সেলর মের্কেলেকে বিশ্বের পরিণতি বিষয়ে একটি চিঠি লিখে সতর্ক করেছিল। চার শ পৃষ্ঠার এ বইটিও একটি মাত্র যতিচিহ্ন ‘দাড়ি’ দিয়ে শেষ করা হয়। চলতি বছর বইটি সুইডিশ ‘কুলতুরহুসেট সিটি থিয়েটার আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ লাভ করার পর তার নাম নোবেল শর্টলিস্টের শীর্ষে চলে আসে।

লাসলো ক্রাসনাহোরকাইর প্রায় প্রতিটি লেখা অ্যাবসার্ডিটি ও অদ্ভুত বিষয়বস্তুর ঘেরাটোপে আঁটসাঁট বাঁধা হলেও পরিশেষে তা মানব জীবনের অস্তিত্বের অস্বস্তির অনিবার্য পরিণতির দিকে ধাবমান। তাকে আপাতদৃষ্টিতে অপ্রাকৃত বিষয়বস্তু, একই কথার পুনরাবৃত্তি, ধৈর্যচ্যুতি, অতিরঞ্জন দুষ্ট মনে হলেও গভীর চিন্তা, নিঃসঙ্গ অনুসন্ধানে তিনি বাক্য গড়েন নীরব মাত্রা গুনে, যা প্রার্থনার মতো দীর্ঘ, আবেদনময়ী, ছায়াময় ও সুশৃঙ্খল এবং অনিবার্যভাবে সৃজনশীলতা নীরব প্রদীপ জ্বালানো। সাহিত্যে তিনি আসলে ‘একটি একেবারে মৌলিক শৈলী গড়ে তুলতে চেয়েছেন’- ২০১৪ সালে নিউইয়র্ক টাইমসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার এ ইচ্ছার কথাও জানান। ক্রাসনাহোরকাইর লেখা যতই দুর্বোধ্য, জটিল ও বিরক্তিকর দীর্ঘ হোক না কেন- সাহিত্য সন্ধিৎসু পাঠকদের জন্য তিনি এক পরম আরাধ্য ‘উত্তর-আধুনিক’ সাহিত্যিক- যিনি নিজে এক গভীর অস্তিত্ববাদী দ্বন্দ্বের মধ্যে অবস্থান করেন।

লেখক: প্রাবন্ধিক, গবেষক ও কবি
[email protected]

কবিতা হেলিওস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
হেলিওস

একটা অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

          অর্ধবৃত্তের মতো অবকাশ রচনা করেছি

 

আছে মা-পাখির ডিম ভেঙে যাবার প্রতিকল্পে

            সর্বজনীন বেদনা

বৃদ্ধ বাবার ঝাপসা দৃষ্টির ভেতর এক বুকচাপা

            দীর্ঘশ্বাসের সীমিত চতুর্ভুজ

রানা প্লাজাসদৃশ ব্যথিত পাণ্ডুলিপি

তরতাজা যুবকের গুম হওয়ার ন্যায়

                   একটা দীর্ঘ সকাল

আছে মায়ের জেগে থাকা চোখ

আছে একজোড়া

            সুসিদ্ধ ইকোলজি

আছে বোনের ব্যবহৃত কাঁকড়া ক্লিপের উদার সৌন্দর্য

আছে একটা গামছায় হাত মোছার দুটো অবিকল সবাক ছবি

 

এই তো আমার রূপকল্পের ইতিবৃত্ত

 

 এখন কোনো অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

            আমি পূর্ণবয়স্ক অবকাশ রচনা করব

জীবনের সব হুলস্থূল এনে ভরে রেখে দেব

 

 দ্যাখো, হেলিওসের মতোনই তোমাদের কাছে যাব আমি

 

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

গহিন অতলের অবাধ চত্বরে বৈভবে থাকে

তাকে কি টুকরো টুকরো করা যায়

অবয়বে বেড়ে ওঠে না কস্মিনকালে

এক টুকরোই থেকে যায় আদিঅন্ত কাল

ভূমিদস্যুরা তবু ওই জলা দখলে মত্ত হয়

বেপরোয়া ছুরি-কাঁচির নির্মমতায়

ঝরনার উৎস স্তব্ধ করে

ফালি ফালি করা অবয়ব থেকে বেরোয়

অজস্র শোণিত ধারা

নদী পর্যন্ত যেতে পারে না শুকিয়ে জ্বলে

ভেসে ভেসে বেড়ায় নিশ্চিহ্ন কাঠামো

নিক্ষিপ্ত হয় মর্তের ঝড়ে

মর্গের ব্যবচ্ছেদে খুঁজে পায় না শিশু আত্মা

পায় শুধু

ছোট্ট এক টুকরো জীবনের অবিকাশ! অবিকাশ!

কবিতা অধরা ও কবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
অধরা ও কবি

অধরা

সময়ের বেড়াজালে বন্দি খাঁচায়

দূর পানে চেয়ে থাকি তোমার আশায়

উজান সময় স্রোতে এই অবেলায়

তুমি আসবে তো? ভালোবাসবে তো?

 

কবি

কী আছে তোমার? অর্থ, বিত্ত, বৈভব?

প্রভাব, প্রতিপত্তি? বলো, চুপ থেকো না

, এসব তোমার নেই! এবার, তুমিই বলো

আমি কেমন করে তোমার কবিতা হই?

কেমন করে তোমার কাছে আসি

কেমন করে তোমায় ভালোবাসি?

কবিতা প‌রিণ‌তি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
প‌রিণ‌তি

কালো চিমনিরধোঁয়ায় আকাশের বুকজুড়ে মে কালোমেঘ

মৃত পাখির বাসা সে ড়ে রক্তাক্ত নে

্যামল বাগানগুলো ড়ে আছে যুদ্ধাহত ক্ষতবিক্ষত সৈনিকের তো

জ্বলন্ত কয়লার পাহাড়,

জাগিয়ে তোলে মাটির গহ্বরে ঘুমিয়ে থাকা আগুনকে

প্লাস্টিকের সমুদ্দুর,

ক্ষুধার্ত দৈত্যের তো গিলে খাচ্ছে পৃথিবীকে

যুদ্ধের দামামা পোড়ামাটির ্যস বাড়াতে থাকে শুধু

বোমার ব্দে রে পড়ে পাখির পালক,

আকাশের নীল রং

ভাঙা কাচ য়ে আছড়ে ড়ে মিনে

পৃথিবীর কপালে আগুনের থার্মোমিটার

কামারের হাতুড়ির তো আছড়ে ড়ে উন্মত্ত রোদ

জ্বরে পোড়া পৃথিবীর গা থেকে ঝরতে থাকে বরফ অবিরাম

বৃদ্ধের শুভ্র দাড়ির তন

 

ক্ষুধার্ত সমুদ্র গিলে খায়,

মানুষের স্বপ্নে বোনাউঠোন

তৃষ্ণার কঙ্কা মিনে আঁকে ছড়ানো মানচিত্র

নদীর তীর ক্ষুধার্ত ষাঁড়ের তো গ্রামে ঢুকে ড়ে পাখির কিচিরমিচির বাজেয়াপ্ত হয় কোনো এক ভোরে,

বাড়তে থাকে ছিন্নমূল মানুষের ভেলা,

পৃথিবীর জ্বর নামানোর দাওয়াই খুঁজতে,

লি থেকে মাথাগুলো জড়ো হয় জাতিসংঘের টেবিলে

কথার খই ফোটে, বে চোখ বাঁধা থাকে কালো ফিতায়

 

কবিতা বলির আগে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বলির আগে

আমার কথার পরে যদি কোনোদিন

ব্যথা পেয়ে থাকো

যদি এই দুর্দিনে সমূহ বিপদে মনে করো

ডাক দিও কোনো এক নির্মম সকালে

 

আমার বুকেরপরে দূর্বা যেমন থাকে

বেদনায় নীলপদপিষ্ট হলুদ সোহাগে

একবার চোখের জলে ধুয়ে নিও

সকল কলুষতাযেভাবে ধর্ম ছাগ

বলির আগে মুছে ফেলে যত ক্লেদ