ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিলের ‘গায়ের গন্ধ’ দূর করতে দুধ দিয়ে গোসল, এরপর আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবে যোগ দিলেন এক সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎ আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ ইতিহাস গড়ার পথে হন্ডুরাসের রেফারি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র মরক্কো ‘আন্ডারডগ’ নয়, ট্রফি জিততেই মাঠে নামবে: ওয়াহবি তামাকের বিকল্প হিসেবে মলোখিয়া ব্যবহার করছেন গাজার ধূমপায়ীরা চুয়েট জব ফেয়ার-২০২৬: চাকরিপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস জনআকাঙ্ক্ষার বাজেট এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ হাছন রাজাকে উৎসর্গ করে প্রাণ বন্ধের সনে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, পুলিশের এক সোর্স আটক রমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের হাতাহাতি গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, বিচার দাবি বাবার খুলনায় উপকূলীয় নারীদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী যে অঙ্গের কারণে মানুষ জান্নাত অথবা জাহান্নামে যাবে জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের ২১ পরিবারে আর্থিক সহায়তা সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে কর্মসূচি নিয়েছে সরকার : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

নজরুলের লাঙল পত্রিকার শতবর্ষ

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০০ পিএম
নজরুলের লাঙল পত্রিকার শতবর্ষ
অলংকরণ: নিয়াজ চৌধুরী তুলি
সাহিত্যের জমিনে কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাস, সংগীত ছাড়াও সাংবাদিকতায় নজরুলের অবদান আলোকোজ্বল। নজরুলের উপস্থিতিই যেন পত্রিকা শতবর্ষ পেরিয়ে ইতিহাসের স্মারক হয়ে আছে। পত্রিকার সঙ্গে নজরুলের সম্পৃক্ততা তার সরবকালে সর্বময় হলেও ১৯২০-১৯২৫ পর্যন্ত সময়কাল ছিল স্বর্ণযুগ। নজরুলের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকার তালিকায় আছে নবযুগ (প্রকাশ ১৯২০), ধূমকেতু (প্রকাশ ১৯২২), লাঙল (প্রকাশ ১৯২৫)। নবযুগ ও ধূমকেতুর পর শতবর্ষের মাহেন্দ্রক্ষণে লাঙল। মোসলেম ভারত, দৈনিক সেবক, গণবাণী, বিজলী, বৈতালিক, নওরোজ-এর সঙ্গে নজরুলের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র থাকলেও সম্পাদকের দায়িত্বে নজরুল ছিলেন না।
 
পত্রিকায় নজরুলের লেখায় গতি, তেজ, জাতীয়চেতনা সর্বোপরি ভারতের স্বাধীনতার অমিয় বাণী যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে তা আজও বিপ্লব ও বিদ্রোহের বার্তাবাহী। নজরুলের লাঙলের প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল ব্রিটিশবিরোধী ভারতীয় শ্রেণিচেতনা। ১৯২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর নজরুল জেল থেকে মুক্ত হয়ে দমে যাননি বরং ভারতবাসীকে স্বাধীনতার জন্য তার সৃষ্টির অনল প্রবাহের বারুদ ছড়ান। এ ধারায় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিকের দলের (স্বরাজ পার্টির) মুখপত্র হিসেবে লাঙল প্রকাশ শুরু হয়। নজরুল স্বরাজ পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। লাঙল পত্রিকার প্রধান পরিচালক হিসেবে নজরুল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যদিও প্রত্রিকার সম্পাদক হিসেবে মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের নাম মুদ্রিত হতো। অবৈতনিক প্রধান পরিচালক হিসেবে নজরুলকে পত্রিকার সবদিক সামলাতে হতো। [সূত্র: নজরুলের সাংবাদিক জীবন, রাশেদুল আনাম সম্পাদিত সাময়িকপত্র সম্পাদনায় নজরুল, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাকা ২০২৩ প. ৬৭] 
লাঙল পত্রিকার জমিনে দৃশ্যমান সব লেখা, প্রতিবেদন ইত্যাদিসমেত ভারতীয়দের অধিকার ও স্বাধীনতার বার্তা দেওয়া হতো। বিশেষত মানবতা, মুক্তি, অধিকারের বিষয়ে সচেতন করতে লাঙল ছিল উৎকৃষ্ট দাওয়াই। প্রথম সংখ্যাতেই প্রকাশ পায় নজরুলের ‘সাম্যবাদ’ কবিতা। পত্রিকার আখ্যাপত্রে উৎকীর্ণ থাকত চণ্ডীদাসের বিখ্যাত শ্লোক-
‘শুনহ মানুষ ভাই
সবার উপরে মানুষ সত্য 
তাহার উপরে নাই।’
নজরুল স্বাধীনতা অর্জনের কৌশল হিসেবে সমাজতান্ত্রিক শ্রেণিচেতনাকে ধারণ করে মানুষকে সজাগ করে মুক্তির সমরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে বিশ্বাসী ছিলেন। এজন্য লাঙল সম্পর্কে মুজফ্‌ফর আহমেদ বলেন- ‘এ পত্রিকা পাঠকের জন্য নয় শুধু, এক শ্রেণির কর্মী তৈরি করার জন্য প্রকাশিত হয়েছে।’ [সূত্র: সাময়িক পত্র সম্পাদনায় নজরুল, রাশেদুল আনাম, নজরুল ইনস্টিটিউট ২০২৩ পৃ. ৬৮] 
লাঙলের প্রকাশকালীন সময়ে ভাববাদী আবেগের চাইতে ভারতীয় তরুণদের স্বাধীনতা আন্দোলনে যুদ্ধংদেহী চরিত্রের প্রকাশ বেশি ছিল। এজন্য সোশ্যালিস্ট ধারণাকে লালন করে প্রকাশ লাঙল গণমানুষের মনে রেখাপাত করেছিল। পত্রিকার ‘সোশ্যালিস্ট’ নামীয় প্রবন্ধে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের রূপরেখার ধারণার বয়ান ছাড়াও বিভিন্ন সংখ্যায় ‘লেনিন ও সোভিয়েট রুশিয়া’ (দেবব্রত বসু), ‘কার্ল মার্কসের শিক্ষা’ (কুতবুদ্দীন আহমদ), ‘শ্রেণি সংগ্রাম’ (মুজফ্‌ফর আহমদ), ‘সোশ্যালিজম কাহাকে বলে’ (সুরেশ বিশ্বাস), ব্রিটিশ সোশ্যালিস্ট দল ও ভারতবর্ষ নামীয় প্রবন্ধে সোশ্যালিজমের সামগ্রিক রূপরেখায় আলোকপাত করে ভারতীয় সমাজে কেন সোশ্যালিজম কায়েম প্রয়োজন স্বাধীনতার জন্য- সে বিষয়ে তাগিদ ছিল। সোশ্যালিস্ট বিশ্বাসে বলিয়ান নজরুল লাঙল পত্রিকার বিন্যাস করেছিলেন। কৃষক ও শ্রমিকদের সংবাদ ছাপা হতো ‘খরকুটে’ শিরোনামে। সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় মন্তব্য থাকত ‘খবরদারী’ নামক শিরোনামে। সাপ্তাহিক লাঙল কলকাতা থেকে ১ আনা মূল্যে প্রকাশ হতো। পত্রিকার সাইজ ছিল ১২.৫ ইঞ্চি বাই ৯ ইঞ্চি। লাঙলের লেখা সংগ্রহ ও লেখকদের লেখার আমন্ত্রণে নজরুলের মুনশিয়ানার স্বাক্ষর মেলে। 
লাঙলে নজরুল ভারতের মানুষের অধিকার হরণের কেবল গড়পড়তা বয়ানের সমাহার করেনি কিংবা তাত্ত্বিক বুলি আওড়াননি বরং বাস্তবসমত উপাত্ত দিয়ে তৃণমূলের চালচিত্র তুলে আনার প্রয়াস ঘটিয়েছেন। শ্রী কুমারচক্রবর্তী রচিত প্রবন্ধে একজন শ্রমিকের বছরের খাদ্যের পরিমাণের একটি সারণিতে দেখানো হয়-
খাদ্যদ্রব্য- যুক্তরাজ্য- জাপান- ভারতবর্ষ-
মাংস ১৪০ ২১.৫ -
মৎস্য ২১ ৫০.৫ -
ডাল ২৮ ৩১.৪ ১১.৪
ভাত/রুটি ৩৪০ ৩০৯ ৪৬.৪
শাক-সবজি ৪২০ ৪৫৯ ৯৪.১
 
[পাউন্ড এককে বিবেচ্য] বি.দ্র.-(ড্যাশ) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে নগণ্য বিবেচনায়।
 
উল্লিখিত সারণির মাধ্যমে ভারতবর্ষের মেহনতি মানুষের দৈন্যদশার চিত্র তুলে ধরতে এ ধরনের সারণিতে তথ্যের বিন্যাস করে প্রবন্ধকে অধিক পাঠকের কাছে গ্রহণের প্রচেষ্টা দৃশ্যমান।
লাঙলের স্বল্পকালের জীবনে চারজন নেতার ছবি ছাপা হয়। এরা হলেন- কার্ল মার্কস, সুভাষচন্দ্র বসু, লেনিন ও সানইয়ং সেন। এদের প্রতি নজরুলের আবেগ ও ঝোঁক উভয়ই ছিল।
লাঙলের কমিউনিজম বা কমিউজমের ভাবানুষঙ্গী মনের স্বাক্ষর নজরুলের রচিত কবিতার প্রেক্ষাপট ও পঙ্‌ক্তিতেও সততা মেলে। লাঙলে নজরুলের সাম্যবাদ (প্রথম সংখ্যা), কৃষাণের গান (দ্বিতীয় সংখ্যা), শ্রমিকের গান (নবম সংখ্যা), জেলেদের গান (দ্বাদশ সংখ্যা) প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত কবিতার আঙ্গিক, প্রকরণে ভিন্নতা থাকলেও নানা মেরুকরণে মোটাদাগে মানুষের অধিকার ও নায্যতার বিষয় দৃঢ়ভাবে তুলে এনেছেন। লাঙল যেহেতু গণমানুষের মুখপাত্র হিসেবে প্রচারের অভিপ্রায় ছিল; সঙ্গত কারণেই ভারতের বিভিন্ন স্থানে কৃষক-শ্রমিকের সম্মেলনের সংবাদ গুরুত্বসহকারে প্রচার হতো। 
লাঙলের মোট ষোলোটি সংখ্যা প্রকাশ হয়েছিল। সর্বশেষ সংখ্যা প্রকাশ হয় ১৯২৬ সালের ১৫ এপ্রিল [সূত্র: আনিসুজ্জামান, মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র পৃ. ৩৯৯] ১৯২৬ সালের ১২ আগস্ট থেকে লাঙল নাম পরিবর্তন করে ‘গণবাণী’ রাখা হয়। তখন মুজফ্‌ফর আহমদ পত্রিকার কার্যভার গ্রহণ করেন।  
কালের খেরোখাতার হিসাবে লাঙলের শতবর্ষের বয়সে নজরুল ও লাঙল যেন সমার্থক। সেই সময়কালের ভারতের সমাজচিত্রের কালিকবিচারে লাঙল যেন গুণবিচারে যুগচাহিদার নিরিখে জ্বলজ্বলে। উনিশ ও বিশ শতকের মাঝে বাংলায় যেসব যুগন্ধর সম্পাদক এসেছেন তাদের মধ্যে অক্ষয়কুমার দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র, সুরেশচন্দ্র সমাজপতি, প্রমথ চৌধুরী, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, সজনীকান্ত, সুধীন দত্ত, বুদ্ধদেব বসু, মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন প্রমুখের সঙ্গে নজরুলের বহুমাত্রিক সৃজনকর্ম ছাড়াও সাংবাদিক কিংবা সম্পাদক নজরুল অনন্য। ‘লাঙল’ পত্রিকা সে বিবেচনায় আলোচনার শীর্ষে আছে এবং থাকবে।
নজরুলের সৃষ্টির বড় প্রতিপাদ্য উদার জাগরণ, সত্যানুসন্ধান, সংস্কারমুক্তি, আধুনিকতা, শাস্ত্রানুগত্য থেকে মুক্তির প্রয়াস। এসব অনুষঙ্গে রিভাইভালের মাধ্যামে ভারতবাসীকে মুক্তির পথে যাত্রার পথিক ছিলেন নজরুল। লাঙল পত্রিকা ছিল সে যাত্রায় অন্যতম সারথি।

কবিতা হেলিওস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
হেলিওস

একটা অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

          অর্ধবৃত্তের মতো অবকাশ রচনা করেছি

 

আছে মা-পাখির ডিম ভেঙে যাবার প্রতিকল্পে

            সর্বজনীন বেদনা

বৃদ্ধ বাবার ঝাপসা দৃষ্টির ভেতর এক বুকচাপা

            দীর্ঘশ্বাসের সীমিত চতুর্ভুজ

রানা প্লাজাসদৃশ ব্যথিত পাণ্ডুলিপি

তরতাজা যুবকের গুম হওয়ার ন্যায়

                   একটা দীর্ঘ সকাল

আছে মায়ের জেগে থাকা চোখ

আছে একজোড়া

            সুসিদ্ধ ইকোলজি

আছে বোনের ব্যবহৃত কাঁকড়া ক্লিপের উদার সৌন্দর্য

আছে একটা গামছায় হাত মোছার দুটো অবিকল সবাক ছবি

 

এই তো আমার রূপকল্পের ইতিবৃত্ত

 

 এখন কোনো অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

            আমি পূর্ণবয়স্ক অবকাশ রচনা করব

জীবনের সব হুলস্থূল এনে ভরে রেখে দেব

 

 দ্যাখো, হেলিওসের মতোনই তোমাদের কাছে যাব আমি

 

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

গহিন অতলের অবাধ চত্বরে বৈভবে থাকে

তাকে কি টুকরো টুকরো করা যায়

অবয়বে বেড়ে ওঠে না কস্মিনকালে

এক টুকরোই থেকে যায় আদিঅন্ত কাল

ভূমিদস্যুরা তবু ওই জলা দখলে মত্ত হয়

বেপরোয়া ছুরি-কাঁচির নির্মমতায়

ঝরনার উৎস স্তব্ধ করে

ফালি ফালি করা অবয়ব থেকে বেরোয়

অজস্র শোণিত ধারা

নদী পর্যন্ত যেতে পারে না শুকিয়ে জ্বলে

ভেসে ভেসে বেড়ায় নিশ্চিহ্ন কাঠামো

নিক্ষিপ্ত হয় মর্তের ঝড়ে

মর্গের ব্যবচ্ছেদে খুঁজে পায় না শিশু আত্মা

পায় শুধু

ছোট্ট এক টুকরো জীবনের অবিকাশ! অবিকাশ!

কবিতা অধরা ও কবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
অধরা ও কবি

অধরা

সময়ের বেড়াজালে বন্দি খাঁচায়

দূর পানে চেয়ে থাকি তোমার আশায়

উজান সময় স্রোতে এই অবেলায়

তুমি আসবে তো? ভালোবাসবে তো?

 

কবি

কী আছে তোমার? অর্থ, বিত্ত, বৈভব?

প্রভাব, প্রতিপত্তি? বলো, চুপ থেকো না

, এসব তোমার নেই! এবার, তুমিই বলো

আমি কেমন করে তোমার কবিতা হই?

কেমন করে তোমার কাছে আসি

কেমন করে তোমায় ভালোবাসি?

কবিতা প‌রিণ‌তি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
প‌রিণ‌তি

কালো চিমনিরধোঁয়ায় আকাশের বুকজুড়ে মে কালোমেঘ

মৃত পাখির বাসা সে ড়ে রক্তাক্ত নে

্যামল বাগানগুলো ড়ে আছে যুদ্ধাহত ক্ষতবিক্ষত সৈনিকের তো

জ্বলন্ত কয়লার পাহাড়,

জাগিয়ে তোলে মাটির গহ্বরে ঘুমিয়ে থাকা আগুনকে

প্লাস্টিকের সমুদ্দুর,

ক্ষুধার্ত দৈত্যের তো গিলে খাচ্ছে পৃথিবীকে

যুদ্ধের দামামা পোড়ামাটির ্যস বাড়াতে থাকে শুধু

বোমার ব্দে রে পড়ে পাখির পালক,

আকাশের নীল রং

ভাঙা কাচ য়ে আছড়ে ড়ে মিনে

পৃথিবীর কপালে আগুনের থার্মোমিটার

কামারের হাতুড়ির তো আছড়ে ড়ে উন্মত্ত রোদ

জ্বরে পোড়া পৃথিবীর গা থেকে ঝরতে থাকে বরফ অবিরাম

বৃদ্ধের শুভ্র দাড়ির তন

 

ক্ষুধার্ত সমুদ্র গিলে খায়,

মানুষের স্বপ্নে বোনাউঠোন

তৃষ্ণার কঙ্কা মিনে আঁকে ছড়ানো মানচিত্র

নদীর তীর ক্ষুধার্ত ষাঁড়ের তো গ্রামে ঢুকে ড়ে পাখির কিচিরমিচির বাজেয়াপ্ত হয় কোনো এক ভোরে,

বাড়তে থাকে ছিন্নমূল মানুষের ভেলা,

পৃথিবীর জ্বর নামানোর দাওয়াই খুঁজতে,

লি থেকে মাথাগুলো জড়ো হয় জাতিসংঘের টেবিলে

কথার খই ফোটে, বে চোখ বাঁধা থাকে কালো ফিতায়

 

কবিতা বলির আগে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বলির আগে

আমার কথার পরে যদি কোনোদিন

ব্যথা পেয়ে থাকো

যদি এই দুর্দিনে সমূহ বিপদে মনে করো

ডাক দিও কোনো এক নির্মম সকালে

 

আমার বুকেরপরে দূর্বা যেমন থাকে

বেদনায় নীলপদপিষ্ট হলুদ সোহাগে

একবার চোখের জলে ধুয়ে নিও

সকল কলুষতাযেভাবে ধর্ম ছাগ

বলির আগে মুছে ফেলে যত ক্লেদ