ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
Nagad desktop

ডায়াবেটিস মাপা নিরাপদ

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:৪১ পিএম
ডায়াবেটিস মাপা নিরাপদ
গ্লুকোমিটারের মাধ্যমে আঙুল থেকে সামান্য রক্ত নিয়ে সুগার মাপা হয়। ছবি এআই

ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা মাপা আজকের দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন কিংবা ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা একদিকে রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, অন্যদিকে জটিলতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই ভাবেন আঙুলে সুঁই ফোটানো বা ব্লাড গ্লুকোমিটার ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ। বাস্তবে এই প্রক্রিয়া সঠিক নিয়মে করলে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত।

ডায়াবেটিস মাপা কতটা নিরাপদ
গ্লুকোমিটারের মাধ্যমে আঙুল থেকে সামান্য রক্ত নিয়ে সুগার মাপা একটি অত্যন্ত প্রচলিত ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এতে সাধারণত কোনো বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি হয় না। এক ফোঁটা রক্ত নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ল্যানসেট বা সুঁই একবার ব্যবহারযোগ্য এবং জীবাণুমুক্ত হয়। তাই সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। এ ছাড়া এই পরীক্ষায় শরীর থেকে খুব সামান্য রক্ত নেওয়া হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করে না। তাই নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস মাপা সম্পূর্ণ নিরাপদ।

ডায়াবেটিস মাপার সময় কী কী সতর্কতা মানতে হবে
ডায়াবেটিস মাপার সময় কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে পরীক্ষা আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ হয়—
হাত ধোয়া: রক্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। নোংরা বা ভেজা হাতে রক্ত নিলে ফলাফল ভ্রান্ত হতে পারে।
স্টেরাইল ল্যানসেট ব্যবহার: প্রতিবার নতুন ল্যানসেট বা সুঁই ব্যবহার করতে হবে। পুরোনো বা ব্যবহৃত সুঁই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
আঙুল পরিবর্তন করা: সব সময় একই আঙুলে সুঁই ফোটানো ঠিক নয়। প্রতিবার ভিন্ন আঙুল ব্যবহার করলে ব্যথা বা ক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
পর্যাপ্ত রক্ত নেওয়া: কখনো খুব বেশি চাপ দিয়ে রক্ত বের করা উচিত নয়। কারণ এতে রক্তে অন্যান্য টিস্যুর তরল মিশে যেতে পারে এবং ফলাফল সঠিক নাও হতে পারে।
মেশিনের যত্ন: গ্লুকোমিটার নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং টেস্ট স্ট্রিপের মেয়াদ দেখে নিতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ স্ট্রিপ ব্যবহার করলে ফলাফল ভুল আসতে পারে।

মাপার পর কী করতে হবে
রক্তের শর্করা মাপার পর কিছু ধাপ অনুসরণ করা জরুরি—
ফলাফল নথিভুক্ত করা: প্রতিবার মাপার পর তারিখ, সময় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা লিখে রাখা ভালো। এতে ডাক্তার রোগের অগ্রগতি সহজে বুঝতে পারবেন।
ক্ষতস্থানের যত্ন: আঙুলে রক্ত নেওয়ার পর পরিষ্কার কটন দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে রাখতে হবে, যাতে রক্তপাত বন্ধ হয়।
ফলাফলের বিশ্লেষণ: রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম হলে তা লক্ষ রাখতে হবে। 
জীবনধারায় পরিবর্তন আনা: ফলাফল যদি বারবার বেশি আসে, তবে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন- কম চিনি খাওয়া, ব্যায়াম করা এবং ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করা।
ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ: অস্বাভাবিক ফলাফল বারবার পেলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

সূত্র: মাই উপচার

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে
চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে গবেষকরা।

চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে ফ্যাটি লিভার রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত। গবেষকরা আশা করছেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে যকৃতের কোষের (হেপাটোসাইট) চর্বি বিপাক নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া সাত দিনের কক্ষপথভিত্তিক পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল অতি-স্বল্প মাধ্যাকর্ষণ (মাইক্রোগ্রাভিটি) পরিবেশে কোষের অভ্যন্তরীণ জৈবিক প্রক্রিয়া কীভাবে চর্বি বিপাককে প্রভাবিত করে, তা শনাক্ত করা।
চীনা বিজ্ঞান একাডেমির মেকানিক্স ইনস্টিটিউটের সহযোগী গবেষক লি নিং বলেন, মহাকাশের মাইক্রোগ্রাভিটি এমন বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে, যা যকৃতের কোষের বিপাকীয় কার্যক্রমকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তিনি বলেন, যকৃত একটি জটিল যান্ত্রিক পরিবেশে কাজ করে। লিভার ফাইব্রোসিস বা ফ্যাটি লিভারের মতো রোগে এই পরিবেশে টিস্যুর দৃঢ়তা বাড়ে এবং রক্তপ্রবাহের ধরন বদলে যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, যকৃতে অস্বাভাবিক চর্বি জমার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফ্লুইড শিয়ার স্ট্রেস বা রক্তপ্রবাহের ঘর্ষণজনিত বল। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত যখন যকৃতের রক্তনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা কোষগুলোর ওপর একটি নির্দিষ্ট চাপ তৈরি করে এবং বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কিন্তু মহাকাশে অল্প মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের তরল ওপরের দিকে সরে যায়। ফলে হৃদযন্ত্রের ওপরের অংশে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং নিচের অংশে কমে যায়। এতে যকৃতে প্রবেশকারী রক্তের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে বেড়ে যায় হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ। ফলে যকৃতের ওপর রক্তপ্রবাহের যান্ত্রিক প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রক্তপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা কমে যায় এবং যকৃতে চর্বি জমার হার বাড়তে শুরু করে।
এর আগে চীনের শেনচৌ-১৬ মহাকাশ মিশনের গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে এসআরইবিপি নামের একটি প্রোটিন সক্রিয় হয়ে কোষের ভেতরে চর্বির কণিকা (লিপিড ড্রপলেট) বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ এর কার্যক্রম দমন করে এবং কোষে চর্বি জমা কমাতে সহায়তা করে।
পরীক্ষায় হেপাটোসাইটকে গবেষণার বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তিন ধরনের পরিবেশ তৈরি করা হয়— স্থির কোষ সংস্কৃতি, কৃত্রিম রক্তপ্রবাহ পরিবেশ এবং ওষুধ-উদ্দীপিত রক্তপ্রবাহ পরিবেশ। মোট ছয়টি কোষ নমুনা নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়।
পুরো পরীক্ষাটি পৃথিবী থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত নির্দেশনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকরা প্রতিদিন মাইক্রোস্কোপিক চিত্র ধারণ করে কোষের বৃদ্ধি ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন।
সপ্তম দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সংরক্ষণকারী রাসায়নিক পদার্থ কোষে প্রয়োগ করা হয়, যাতে সেই সময়কার কোষীয় অবস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে। এরপর নমুনাগুলো মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসব নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। 

সূত্র: সিএমজি

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস আজ, জানুন এর বিভিন্ন দিক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস আজ, জানুন এর বিভিন্ন দিক
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৮ জুন, বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস। বৈশ্বিক চিকিৎসা মহল, রোগী, সেবাদানকারী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা মিলে আধুনিক চিকিৎসার অন্যতম বড় এই চ্যালেঞ্জটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি পালন করেন।

প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস পালিত হয়। ব্রেইন টিউমার রোগীদের প্রতি সম্মান জানাতে এবং এই রোগ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে ২০০০ সালে জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন প্রথম এই দিবসের প্রচলন করে।

গত দুই দশকে এই উদ্যোগ জার্মানির গণ্ডি পেরিয়ে ৩০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, অলাভজনক সংস্থা এবং রোগী কল্যাণ সমিতিগুলো শিক্ষামূলক ক্যাম্পেইন, তহবিল সংগ্রহ এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণার মাধ্যমে এই দিনে নানা কর্মসূচি পালন করে।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য:

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য তিনটি। 

শিক্ষা: সাধারণ মানুষকে ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো।

সহযোগিতা: ব্রেইন টিউমারের কারণে যে রোগীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করা।

সচেতনতা বৃদ্ধি: ব্রেইন টিউমার গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে আরও বেশি বিনিয়োগের দাবি তোলা।

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবসের ইতিহাস

এই দিবসের ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে। একদল জার্মান নিউরোলজিস্ট (স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ) এবং রোগী কল্যাণকর্মী লক্ষ্য করেন যে, অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় ব্রেন টিউমার নিয়ে জনমনে সচেতনতা অনেক কম, অথচ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ।

পরবর্তীতে ২০০০ সালে জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন এটিকে একটি বার্ষিক দিবস হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ব্রেন টিউমার অ্যালায়েন্স-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একইদিনে বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম শুরু করে, যার ফলে বার্তাটি আরও বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছায়। আঞ্চলিকভাবে শুরু হওয়া একটি ক্যাম্পেইন আজ ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে একটি বড় স্বাস্থ্য সচেতনতা উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

২০২৬ সালের থিম

২০২৬ সালের বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো- রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে তা কমিয়ে আনা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে যেখানে এমআরআই সুবিধা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, সেখানে এই সচেতনতা খুবই জরুরি।

ই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার মূল কারণগুলো হলো-

লক্ষণগুলো বুঝতে ভুল হওয়া: মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলোকে মানুষ প্রায়ই মানসিক চাপ বা সাধারণ সমস্যা ভেবে ভুল করে। ফলে রোগ নির্ণয়ে অনেক দেরি হয়ে যায়।

সামাজিক ট্যাবু বা কুসংস্কার: মস্তিষ্কজনিত রোগ নিয়ে সমাজে এখনো নানা ভুল ধারণা রয়েছে। সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে এই কুসংস্কার দূর করা সম্ভব, যাতে মানুষ দ্বিধাহীনভাবে ডাক্তারের কাছে যেতে পারে।

সেবাদানকারীদের ওপর মানসিক চাপ: ব্রেইন টিউমার রোগীদের প্রায় ২৪ ঘণ্টাই চোখে চোখে রাখতে হয়। সচেতনতা ক্যাম্পেইনগুলোর মাধ্যমে শুধু রোগী নয়, তাদের পরিবারের মানুষদের মানসিক ও শারীরিক প্রয়োজনের দিকেও নজর দেওয়া হয়।

গবেষণায় ফান্ডের অভাব: ব্রেন টিউমার এতটাই জটিল রোগ হওয়া সত্ত্বেও স্তন বা ফুসফুসের ক্যান্সারের তুলনায় এতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ বা ফান্ড অনেক কম পাওয়া যায়। জনসচেতনতা বাড়লে এই ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

ধরনভেদে বেঁচে থাকার হারের পার্থক্য: মেনিনজিওমার মতো কিছু টিউমারের চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ হলেও, গ্লিওব্লাস্টোমার মতো টিউমারগুলো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং এর চিকিৎসা করা সবচেয়ে কঠিন। সচেতনতা বাড়লে আরও উন্নত চিকিৎসার দাবি জোরালো হয়।

ব্রেইন টিউমারের কোন লক্ষণগুলো কখনোই অবহেলা করবেন না?

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবসের অন্যতম বড় লক্ষ্য হলো মানুষকে এর লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানানো। সাধারণ কিছু সতর্কবার্তা নিচে দেওয়া হলো-

  • ক্রমাগত বা তীব্র মাথাব্যথা, বিশেষ করে সকালের দিকে যা বেশি অনুভূত হয়।
  • আগে কখনো মৃগী বা খিঁচুনির ইতিহাস নেই, এমন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হঠাৎ খিঁচুনি হওয়া।
  • কোনো কারণ ছাড়াই বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
  • দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া।
  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা আচরণ ও ব্যক্তিত্বে হঠাৎ পরিবর্তন।
  • হাত বা পায়ে দুর্বলতা বা অবশ ভাব অনুভব করা।

এই লক্ষণগুলো থাকা মানেই যে ব্রেইন টিউমার হয়েছে তা নয়, তবে এমন কিছু দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত—বিশেষ করে যদি লক্ষণগুলো হঠাৎ দেখা দেয় এবং সময়ের সাথে বাড়তে থাকে। সূত্র: আর্টেমিস হসপিটাল

তামান্না রুপা/

মনোযোগ বাড়াতে চাইলে কী খেতে হবে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মনোযোগ বাড়াতে চাইলে কী খেতে হবে
পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট খেলে এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও ক্যাফেইন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মনোযোগ ধরে রাখা অনেকের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাসও মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। কিছু খাবারে থাকা পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দেয়, স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে এবং চিন্তাশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

তৈলাক্ত মাছ

স্যামন, টুনা, সারডিনের মতো তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রচুর থাকে। এটি মস্তিষ্কের কোষের গঠন ও কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে এবং মনোযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

 

ডিম

ডিমে রয়েছে কোলিন, ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন বি১২। এসব পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ উন্নত করতে পারে।

আখরোট

আখরোটে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৩। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আখরোট খেলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ভালো রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

ব্লুবেরি ও অন্যান্য বেরি জাতীয় ফল

ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও ব্ল্যাকবেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্ককে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এতে শেখার ক্ষমতা ও মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা বাড়তে পারে।

 

সবুজ শাকসবজি

পালং শাক, কলমি শাক ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন কে, ফলেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কুমড়ার বীজ

কুমড়ার বীজে জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন পাওয়া যায়। এসব খনিজ উপাদান মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক।

ডার্ক চকলেট

পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট খেলে এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও ক্যাফেইন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে মনোযোগ ও সতর্কতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

ওটস

ওটসে জটিল শর্করা থাকে, যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

দই

দইয়ে থাকা প্রোটিন ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা মানসিক কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কমলালেবু

কমলালেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে এবং বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি

পানি সরাসরি খাবার না হলেও মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে মনোযোগ কমে যেতে পারে এবং ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।

অন্য কারণে ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হলে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
অন্য কারণে ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হলে
ছবি এআই

ডায়াবেটিক রোগী অসুস্থ হলে (যেমন- জ্বর, সর্দি, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি) রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। তাই এ সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

অসুস্থতার দিনের (Sick Day) ঝুঁকিসমূহ

হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া)
হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া)
ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস
পানিশূন্যতা

অসুস্থতার দিনের করণীয়

১। ইনসুলিন ও অন্যান্য ডায়াবেটিসের ওষুধসমূহ চালিয়ে যাওয়া 
বমি বা পাতলা পায়খানা হলে ইনসুলিন এবং সালফোনাইলইউরিয়া গ্লিটিনাইড গ্রুপের ওষুধ সেবনকারী রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এসব ওষুধের মাত্রা কমিয়ে গ্রহণ করতে হবে এবং মেটফরমিন নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

২। ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ও প্রস্রাবে কিটোনের উপস্থিতি পরীক্ষা
চার ঘণ্টা পরপর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি <৪ মিলিমোল/লি অথবা কিটোনের উপস্থিতি থাকে, তবে ২ ঘণ্টা পরপর বা আরও ঘন ঘন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে

৩। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে
ডায়াবেটিস রোগীর পরিচর্যাকারীর অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে এবং রোগীকে কখন চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে সে ব্যাপারে জানতে হবে।

৪। পর্যাপ্ত পানি ও শর্করা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে
পানিশূন্যতা রোধে প্রতি ঘণ্টায় ১২৫-১৫০ মিলি পানি পান করতে হবে। শর্করাজাতীয় খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে কারণ এটা হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ করে এবং রোগীকে শক্তি জোগায়।

৫। অসুস্থতা দিনের ব্যবস্থাপনার যথাযথ নির্দেশনা প্রদান ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে
ডায়াবেটিস রোগীকে এবং রোগীর সহায়তাকারীকে অবশ্যই অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে হবে এবং ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি রাখতে হবে।

৬। মূল অসুস্থতার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

৭। হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যদি ৬ ঘণ্টার বেশি বমি বা পাতলা পায়খানা ভালো না হয়।
২ দিন ধরে অসুস্থ থাকেন এবং ভালো না হন।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ১৫ মিলি মোল/লির বেশি হয়।
চিকিৎসার পরও প্রস্রাবের সঙ্গে কিটোন যাওয়া বন্ধ না হয়।
কিটোএসিডোসিস, অতিরিক্ত দ্রুত ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস (হাইপারভেন্টিলেশন), পেটে ব্যথা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে।
রোগী যদি শিশু বা বৃদ্ধ হয়
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
ডায়াবেটিসের সঙ্গে আরও অন্য অসুখ (Co-morbidity) থাকে।
যদি অসুস্থতার কারণে রোগী খাবার ও পানি গ্রহণে অসমর্থ হন।

লেখিকা: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ, চেম্বার: আলোক হাসপাতাল লিমিটেড, মিরপুর-৬, ঢাকা

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস মাথাব্যথা থেকে মৃত্যুঝুঁকি ঠেকাতে সতর্কতা জরুরি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
মাথাব্যথা থেকে মৃত্যুঝুঁকি ঠেকাতে সতর্কতা জরুরি
ব্রেইন টিউমার হলো মস্তিষ্কের ভেতরে বা আশপাশের কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কাজ ব্যাহত করে।

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস প্রতি বছর ৮ জুন পালিত হয়। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্রেইন টিউমার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক লক্ষণ চেনানো এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব বোঝানো।
ব্রেইন টিউমার একটি জটিল স্নায়বিক রোগ, যা মস্তিষ্কের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে সৃষ্টি হয়। এটি নারী, পুরুষ ও শিশু–সব বয়সের মানুষের হতে পারে। দেরিতে শনাক্ত হলে এটি প্রাণঘাতী জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

ব্রেইন টিউমার কী?

ব্রেইন টিউমার হলো মস্তিষ্কের ভেতরে বা আশপাশের কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কাজ ব্যাহত করে। এটি দুই ধরনের হতে পারে–
বিনাইন: এটি ক্যানসার নয়, তবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে
ম্যালিগন্যান্ট: এটি ক্যানসারজনিত এবং দ্রুত ছড়াতে পারে

পরিসংখ্যান 

বিশ্ব পরিসংখ্যান: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে ৪ লাখ ৫০ হাজার ব্রেইন ও স্নায়ুতন্ত্র টিউমার রোগী শনাক্ত হয়। গড়ে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৪-৬ জন আক্রান্ত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫-২০ শতাংশ ক্যানসার রোগ ব্রেইন টিউমার।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান: বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট জাতীয় রেজিস্ট্রি সীমিত হলেও হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার মানুষ ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়। বছরে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার সার্জারি করা হয়। অনেক টিউমার দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে।
পুরুষ ও নারীর আক্রান্তের হার প্রায় সমান, তবে নারীদের মধ্যে মেনিনজিওমা বেশি। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে গ্লিওব্লাস্টোমা বেশি। শিশুদের মধ্যে মেডুলোব্লাস্টোমা বেশি দেখা যায়।

 

কারণ 

ব্রেইন টিউমারের নির্দিষ্ট কারণ নেই, তবে কিছু কাজ ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন–
বংশগত বা জেনেটিক সমস্যা
অতিরিক্ত রেডিয়েশন 
দীর্ঘদিন রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল
বয়স বৃদ্ধি (বিশেষ করে ৫০ বছরের পর ঝুঁকি বেশি)
কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

লক্ষণ

ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ ধীরে ধীরে দেখা দেয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে বোঝা যায় না। টিউমারের অবস্থান ও আকারভেদে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো–
দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা (বিশেষ করে সকালে বেশি)
বমি বা বমি বমি ভাব
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া বা ডাবল দেখা
খিঁচুনি
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা হওয়া
হাঁটাচলায় ভারসাম্য হারানো বা মাথা ঘোরা
আচরণ ও ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন
অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা ক্লান্তি
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা কানে শব্দ শোনা
মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া
হাত-পায়ের সমন্বয়হীনতা
এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রকারভেদ 

গ্লিওমা: সবচেয়ে সাধারণ
মেনিনজিওমা: ধীরে বৃদ্ধি পায়
পিটুইটারি টিউমার: হরমোন সমস্যা সৃষ্টি করে
মেডুলোব্লাস্টোমা: শিশুদের বেশি হয়
অ্যাকোস্টিক নিউরোমা: শ্রবণশক্তিতে প্রভাব ফেলে

জটিলতা

চিকিৎসা না নিলে হতে পারে–
স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি
স্মৃতিভ্রংশ 
অন্ধত্ব বা শ্রবণশক্তি হ্রাস
পক্ষাঘাত 
মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন
মৃত্যুঝুঁকি

রোগ নির্ণয় 

আধুনিক চিকিৎসায় দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। যেসব পরীক্ষা করা হয়, তার মধ্যে আছে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, বায়োপসি বা টিস্যু পরীক্ষা এবং স্নায়বিক পরীক্ষা

সচেতনতা ও করণীয়

দীর্ঘদিন মাথাব্যথা অবহেলা করা যাবে না
খিঁচুনি হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে
শিশুদের আচরণগত পরিবর্তন খেয়াল করতে হবে
সময়মতো এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করানো জরুরি
ভুয়া চিকিৎসা বা গুজব এড়িয়ে চলতে হবে

পরিশেষে বলতে চাই, ব্রেইন টিউমার একটি জটিল রোগ। তবে সময়মতো শনাক্ত করলে অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হলেও সচেতনতার অভাবে অনেকেই দেরিতে চিকিৎসা নেন। তাই পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সুস্থ মস্তিষ্কই সুস্থ জীবনের ভিত্তি। সচেতন থাকুন, সময়মতো চিকিৎসা নিন।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক