পারমাণবিক অস্ত্র প্রশ্নে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ‘সতর্কসীমা’ জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনকে যদি দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করা হয়, তা হলে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে জবাব দেওয়ার কথা ভাববে।
পশ্চিমের অনেকে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, পুতিন কী আসলেই হুমকি দিয়েছেন? যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করছে এ প্রশ্নের উত্তরের ওপর। পুতিন বানোয়াট কথা বলেছেন বলে মনে করছে ইউক্রেন ও মিত্ররা। কিয়েভের এ মনোভাব সত্যি বলে প্রমাণিত হলে ইউক্রেনকে সামরিক সমর্থন দিতে পশ্চিমের কোনো বাধা থাকবে না।
আর পুতিন যদি সত্যি সত্যিই হুমকি দিয়ে থাকেন, তাহলে এ নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে। ইউক্রেনকে পশ্চিমের অস্ত্র সহায়তা দেওয়া থেকে পুরো বিষয়টি মোড় নিতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, গত বুধবার পুতিন কোন কোন ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে, সে তালিকা বড় করেছেন। সাবেক সোভিয়েত (রাশিয়া) কূটনীতিক নিকোলাই সোকোভ বলেছেন, ‘এটি অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা, ভুল করবেন না। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের অর্থ হলো পারমাণবিক যুদ্ধ।’
লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাংক হেনরি জ্যাকসন সোসাইটির বাহরাম ঘিয়াসে জানান, পুতিন এমন একটি সময়ে এ হুমকি দিয়েছেন, যখন পশ্চিমের কাছে দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র চাচ্ছে ইউক্রেন।
পুতিনের এ হুমকির জবাব দিতে দেরি করেনি কিয়েভ। জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ পুতিনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলেছেন।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা অ্যান্টন গেরাশচেনকো বলেছেন, ‘আমার মতামত বলে, এটি আরেকটি ধাপ্পা এবং পুতিনের দুর্বলতার পরিচয়। তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে সাহস করবেন না কারণ তা তাকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, পুতিনের সতর্কবার্তা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং খুব বাজে সময়ে করে। এবারই প্রথম যে সে পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দিয়েছে তা নয়।
অন্যদিতে সুইডিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস আমল্যান্ড বলেছেন, পুতিন মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এটি মনস্তাত্ত্বিক পিআর অপারেশন, যা ক্রেমলিন খেলছে। এটি তৈরিই করা হয়েছে যাতে নেতারা ভয় পান এবং ইউক্রেনকে সমর্থনদাতা দেশগুলো ভয় পায়।’
অসলোর প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা সহায়তাকারী ফাবিয়ান হফম্যান বলেছেন, ‘তিনি পুতিনের এ মন্তব্য বিশ্বাস করেন না। তবে এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাটা গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার পারমাণবিক ব্যবহার তাৎক্ষণিক কিছু নয়। উদ্বেগ শুধু তখনই নিশ্চিত যখন রাশিয়া আসল প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিবে।’
হফম্যান বলেন, এটির পরবর্তী পদক্ষেপ হবে স্টোরেজ থেকে ওয়ারহেড বের করা এবং সেগুলো কৌশলগত আক্রমণের জন্য সরবরাহ করা। সূত্র: রয়টার্স