অন্যবারের মতো এবারও কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছেন বিভিন্ন মার্কিন তারকা, ধনকুবের। তাদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশও করতে দেখা যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এবার কে কাকে সমর্থন দিচ্ছেন-
ইলন মাস্ক
মার্কিন শতকোটিপতি ও ধনকুবের ইলন মাস্ক এবার সমর্থন দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। শুধু মৌখিক সমর্থন নয়, তিনি অর্থও খরচ করছেন ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের পেছনে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করে এমন এক গ্রুপকে তিনি শুধু অক্টোবরের প্রথমার্ধেই দিয়েছেন ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর আগে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই একই গ্রুপে তিনি দিয়েছেন ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
নির্বাচনের আগ দিয়ে ট্রাম্প সমাবেশ করেন নিউইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে। সাধারণত ওই অনুষ্ঠানস্থলে বিলি জোয়েলের মতো খ্যাতনামা সংগীতশিল্পীরা গান গেয়ে থাকেন। সেখানে মঞ্চে উপস্থিত হতে দেখা যায় ইলন মাস্ককে। তিনি সরাসরি ট্রাম্পের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।
বিল গেটস
মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস কখনই কোনো নির্বাচনে কাকে সমর্থন করছেন, তা জানান না। বিষয়টি গোপনই রাখেন। তবে এবারের নির্বাচনে যে তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন না, সে বিষয়টি স্পষ্ট।
নির্বাচনের আগে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, বিল গেটস তার মৌনতা ভেঙে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করছে এরকম এক গ্রুপে অর্থ দিয়েছেন। অঙ্কের দিক থেকেও কম না- ৫ কোটি ডলার! আরও জানা যায়, ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিষয়ে যে অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প, সেগুলো নিয়ে আপত্তি রয়েছে গেটসের।
তবে বিল গেটস বলেছেন, যে-ই জিতুক না কেন, তার সঙ্গেই কাজ করতে পারবেন তিনি।
টেইলর সুইফট
মার্কিন সংগীতশিল্পী পপ তারকা টেইলর সুইফট সমর্থন দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে কমলা হ্যারিস জিতে যাওয়ার পর পরই সুইফটের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে কমলাকে সমর্থন দেওয়ার।
টেইলর সুইফটের বহু ভক্ত রয়েছে। ফলে তার সমর্থনের প্রভাব যে ভক্তদের ওপরও পড়বে তা সহজেই অনুমেয়।
হাল্ক হোগান
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন এক সময়ের রেসলার হাল্ক হোগান। তিনি এর আগেও ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন হোগানও। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে বর্ণবাদিতার অভিযোগ তোলা হয়, সেটিরও বিরোধিতা করেন তিনি।
সর্বশেষ সমাবেশে কমলা হ্যারিসকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আপত্তিকর কিছু মন্তব্যও করে বসেন হোগান। কমলা হ্যারিসের বর্ণ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও
অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও সমর্থন করছেন কমলা হ্যারিসকে। পরিবেশবাদী হিসেবে পরিচিত ডিক্যাপ্রিও যে কমলাকে সমর্থন দেবেন তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। কারণ ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তনকে আমলে নেন না।
ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও পোস্ট করে কমলাকে সমর্থন দেন ডিক্যাপ্রিও। তিনি বলেন, হেলেন ও মিল্টনের মতো যে ঘূর্ণিঝড়গুলো যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষয়ক্ষতি করেছে, সেগুলো অস্বাভাবিক এবং এই ঘূর্ণিঝড়গুলো হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।
ডিক্যাপ্রিও ভিডিওতে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সত্য স্বীকার করেন না। তিনি এখনো বিজ্ঞানকে অস্বীকার করেন। যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও বের করে এনেছেন তিনি। পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষার জন্য নেওয়া জরুরি পদক্ষেপগুলোও তার কারণে পিছিয়ে গেছে। তিনি এখন তেল ও গ্যাস শিল্পকে কথা দিয়েছেন যে ১০০ কোটি ডলার দানের বিনিময়ে তিনি যেকোনো নিয়মনীতি উপেক্ষা করবেন।
মার্কিন এ তারকা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে। আমাদের অর্থনীতি, বিশ্ব ও আমাদের বাঁচানোর জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্যই আমি কমলা হ্যারিসকে ভোট দেব।
ব্রুস স্প্রিংস্টিন
বিখ্যাত মার্কিন সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন সমর্থন দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে। তিনি সরাসরিই বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন স্বৈরশাসক হওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন।
কমলার সঙ্গে এক সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন স্প্রিংস্টিন। সেখানে তিনি বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) এ দেশকে বোঝেন না। গভীরভাবে মার্কিনি হতে কী লাগে, সে ধারণা নেই তার।’ কেন কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিচ্ছেন, সেটিও তুলে ধরেন স্প্রিংস্টিন।
তিনি বলেন, ‘আমি এমন একজন প্রেসিডেন্ট চাই, যিনি সংবিধানকে ধারণ করবেন, এটিকে হুমকির মুখে ফেলবেন না, আমাদের মহান গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখবেন ও নির্দেশিত পথে নিয়ে যাবেন, যিনি আইনের শাসনে ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তরে বিশ্বাস করেন, যিনি নারীদের অধিকারে সম্মতি দেবেন এবং যিনি মধ্যবিত্তের অর্থনীতি তৈরি করবেন যা আমাদের নাগরিকদের সহায়তা করবেন। এই নির্বাচনে শুধু একজন প্রার্থী রয়েছেন, যিনি এসব নীতিতে বিশ্বাস করেন।’ সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন, ভ্যারাইটি