ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়ামস এবং তার সহকারী ব্যারি উইলমোর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছেন। এর মধ্যেই কিছুদিন আগে সুনিতার রুগ্ন শরীরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গুরুতর অসুস্থ সুনিতা।’ তবে এ বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন সুনিতা। তিনি এক ভিডিও বার্তায় তার ওজন কমার বিষয়কে ‘গুজব’ বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এই লাইভ ভিডিওটি প্রকাশ করে।

ভিডিও বার্তায় সুনিতা জানান, তার ওজন কমার বিষয়টি গুজব। মহাকাশে যাওয়ার সময় তার ওজন যা ছিল, এখনো তাই আছে। তার পরিবর্তিত চেহারা মূলত ফ্লুইড শিফটের কারণে হয়েছে। মহাকাশে মনে হয় সবকিছু একদিকে চলে যাচ্ছে। আর এটি হয়ে থাকে মূলত ফ্লুইড শিফটের কারণে।
মহাকাশে থাকার সময় আমাদের শরীরে রক্ত এবং তরল পদার্থ নিচ থেকে উপরের অংশে স্থানান্তরিত হয়। যার কারণে প্রায়ই মুখ ফুলে যায় এবং পা থেকে পেট চিকন দেখায়। এ ছাড়া মহাকাশে অবস্থানের সময় শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়।
এদিকে সুনিতাকে নিয়ে অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ ড. ভিনায় গুপ্ত ডেইলি মেইলকে জানান, সুনিতার গাল খুব শুকিয়ে গেছে। যা দ্রুত ওজন কমার লক্ষণ হতে পারে।
তবে নাসা জানিয়েছে, সুনিতা ও উইলমোরের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। দুজনেই সুস্থ আছেন।

সুনিতা উইলিয়ামস জানান, তিনি ভালো আছেন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলছেন। তিনি একটি তুর্কি মাছের স্টু ও জলপাইয়ের তৈরি খাবার খাচ্ছেন। তবে তিনি দৈনিক কী পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।
এ বছরের ৫ জুন মহাকাশে পাড়ি দেন সুনিতা ও উইলমোর। ৬ জুন আইএসএসে পৌঁছান তারা। তাদের মিশনটি আট দিনের হলেও বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানের ত্রুটির কারণে তাদের পৃথিবীতে ফিরে আসার পরিকল্পনা বদলে যায়। এতে সুনিতা এবং উইলমোকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে নাসা।
১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আটকে আছেন সুনিতা ও উইলমোর। এর মধ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সুনিতার একটি ছবি তোলা হয়। ছবিতে সুনিতার শরীরের বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় এবং এটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এদিকে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মহাকাশে পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীরে বেশি চাপ পড়ে।
২০১৪ সালে নাসার পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, নারীদের রক্তের প্লাজমার পরিমাণ পুরুষদের তুলনায় বেশি হ্রাস পায়। এতে নারীদের মেটাবলিক রেট সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেও সুনিতার ওজন কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাকাশে নারীদের পেশি কমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। যা সম্প্রসারিত স্পেসফ্লাইটের সময় শারীরিক চাপের কারণে ঘটে থাকে।
তবে বর্তমানে সুনিতা উইলিয়ামসের স্বাস্থ্যবিষয়ক কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি। পৃথিবীতে ফেরার আগ পর্যন্ত তার স্বাস্থ্যের অবস্থা কোথায় যাবে তা সময়ই বলে দেবে। সূত্র: ডেইলি মেইল
তাওফিক/পপি/অমিয়/