ভারতের কেরালা রাজ্যের ওয়েনাড় আসনে লোকসভা উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি ৪ লাখ ৮ হাজার ভোট পেয়েছেন। এই প্রথম তিনি কোনো নির্বাচনে অংশ নিলেন। প্রথম নির্বাচনে জয় পাওয়াকে প্রিয়াঙ্কার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেসের জন্যও এটি বড় অর্জন।
এদিকে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে ঝাড়খন্ডে কংগ্রেস জোটের কাছে হেরেছে। আর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ছয়টি আসনের উপনির্বাচনে সবগুলোতেই জয়ী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা।
ওয়েনাড় থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। তিনি উত্তর প্রদেশের রায় বেরেলি আসন ধরে রাখার জন্য ওয়েনাড়ের আসন ছেড়ে দেন। ধারণা করা হয়েছিল, এতে ওয়েনাড়ের বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হবেন। তবে ঘটনা ভিন্ন রকম দেখা যায়। ওই আসন থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী উপনির্বাচনে লড়বেন- এমন ঘোষণা ইতিবাচকভাবেই নেন সেখানকার মানুষ। এবার সেটিরই প্রতিফলন দেখা গেল নির্বাচনে। ভোটের আগে ১৪ দিন ওই আসনে প্রচার চালিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। প্রতিবারই ব্যাপক জনসমাগম হতে দেখা গেছে।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কাছে ভোটের লড়াইয়ে টিকতে পারেনি কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই) এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সিপিআই প্রার্থী সত্যেন মোখেরি পেয়েছেন ২ লাখ ৯ হাজার ভোট। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী নব্য হরিদাস পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ভোট। মূলত এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পাকাপোক্ত করলেন প্রিয়াঙ্কা।
বিধানসভা
এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড ও মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে গতকাল শনিবার। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ছয়টি আসনের উপনির্বাচনে জয়ের দেখা পেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। আরজি কর-কাণ্ডের জেরে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জের বিধানসভা নির্বাচনে দেখা যাবে বলে মনে হলেও তা আর হয়নি।
বিধানসভার হাড়োয়া, নৈহাটি, মেদিনীপুর, মাদারিহাট, তালড্যাংরা ও সিতাইয়ের আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। দিন শেষে দেখা যায় সব কয়টি আসনেই বিজয়ী হয়েছে তৃণমূল।
অন্যদিকে ঝাড়খন্ডে সুবিধা করতে পারেনি ক্ষমতাসীন বিজেপি জোট। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছে হেমন্ত সেরোনের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। আনন্দবাজার পত্রিকার খবর বলছে, ঝাড়খন্ড বিধানসভার ৮১টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ৪১টি আসন। কংগ্রেস, আরজেডি ও বাম দল সিপিআইএমএলকে (লিবারেশন) সঙ্গে নিয়ে ৫২টি আসন দখলে নেন হেমন্ত। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ জয়ের দেখা পায় মাত্র ২৮টিতে।
মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের দেখা পেয়েছে শিবসেনা-বিজেপি-এনসিপি জোট। ওই রাজ্যে দুই ভাগে বিভক্ত শিবসেনা। এক ভাগ রয়েছে উদ্ধব ঠাকরের অধীনে মহাবিকাশ আঘাড়ি দলের নামে। তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে। অন্য অংশে রয়েছে একনাথ শিন্ডের অধীনে। একনাথ শিন্ডেই শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পেলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, ভোট গণনার সময়ই বিজেপি, শিবসেনা ও এনসিপির জোট ২৩০টি আসনে এগিয়ে ছিল। বিজেপিকেও এগিয়ে থাকতে দেখা যায় ১৩০টিরও বেশি আসনে। সব মিলিয়ে আসন ছিল ২৮৮টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৫টি আসনের। মহাবিকাশ আঘাড়ি, কংগ্রেস এবং শরদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি সেখানে পেয়েছে মাত্র ৫৩টি আসন।
এর আগে ভারতে গত লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। অন্য দলের সঙ্গে মিলে কেন্দ্রীয় জোট সরকার গঠন করতে হয়েছে তাদের। এরপর গত মাসে হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনে জয় পায় বিজেপি। সূত্র: আনন্দবাজার, এনডিটিভি