সিরিয়ার বিদ্রোহীগোষ্ঠী দামেস্ক দখলে নেওয়ার পর অভিনন্দন জানিয়েছে তুর্কি। অন্যদিকে দেশটির রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব নিতে চায় কাতার।
রবিবার (৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে আল-জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
দুই দশক যাবত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধীতা করেছে আঙ্কারা। রবিবার ভোরে প্রেসিডেন্ট পালিয়ে যাওয়ার পর বিরোধীগোষ্ঠীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে তুর্কি সরকার।
তবে অঞ্চলটির বেশ কিছু অংশ সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএস) দখলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে তুর্কি। কুর্দি সমর্থিত এই সশস্ত্র সংগঠনকে দেশের সামরিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা।
আসাদ সরকারের পতনের মাধ্যমে তুর্কিতে আশ্রিত সিরিয়ার শরণার্থীদের ঘরে ফেরার পথ খুলেছে বলে প্রত্যাশা আঙ্কারার।
বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ সিরিয়ার শরণার্থী অবস্থান করছে। বিশ্বের কোথাও এত শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার নজির নেই।
নতুন সরকার গঠিত হলে সিরিয়ার নাগরিকররা ঘরে ফিরে যাওয়ার সাহস পাবেন, বিবৃতিতে জানায় তুর্কি সরকার।
এদিকে সিরিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা নিশ্চিত করতে সমঝোতাকারীর দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কাতার।
জাতিসংঘের ২২৫৪ সিকিওরিটি কাউন্সিল রেজ্যুলেশনের অধীনে সিরিয়ায় সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে স্থির রাজনৈতিক পরিবেশ গঠনে সহায়তা করতে চায় দেশটি।
দোহা ফোরামে দেওয়ার এক বক্তৃতায় কাতারের পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আব্দুলআজিজ আল-খুলাইফি বলেন, ‘সিরিয়ার আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থার দ্রুত সমাধানের পথে যেকোনো ধরণের সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত।’
এ ছাড়া সিরিয়ার জনগণের সঙ্গে কাতার বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিদ্বেষপূর্ণ সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে অভিনন্দন জানিয়ে দোহায় অবস্থিত সিরিয়ার দূতাবাস বিবৃতিতে জানায়, ‘সিরিয়ায় স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে বিশ্ব আজ স্বাধীনতার নতুন সূর্যোদয় দেখলো।’
এ ছাড়া সামনে অনেক কঠিন পথ থাকলেও সিরিয়ার জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে মনযোগী হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে এই বিবৃতিতে।
আসাদ-পরবর্তী আমলে সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সূদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। সূত্র: আল-জাজিরা
নাইমুর/অমিয়/