ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল হিজাববিষয়ক বিতর্কিত একটি আইন স্থগিত করেছে। আইনটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। আইনটি ‘অস্পষ্ট এবং তা সংস্কারের প্রয়োজন’ বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, প্রস্তাবিত নতুন আইনে নারী ও মেয়েদের চুল, হাতের বাহু ও পায়ের নিচের অংশ দেখা গেলে কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছিল। ইরানের অধিকারকর্মীরা আইনটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। নারীদের পোশাকসংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে দেশটিতে অতীতে অনেক বিক্ষোভের জন্ম হয়েছিল।
নারীদের পোশাকসংক্রান্ত নতুন আইনে অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে এবং কেউ যদি নিয়ম-কানুনকে উপহাস করে, তা হলে তাকে বড় জরিমানা এবং ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইন নিয়ে তাদের শঙ্কার কথা বলে আসছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, দমন-পীড়নের দমবন্ধ করা প্রক্রিয়াকে ইরানের কর্তৃপক্ষ আরও সুরক্ষিত করতে চাইছে।
পেজেশকিয়ান জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী থাকাকালেই হিজাব ইস্যুতে ইরানের নারীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়, তার সমালোচনা করেছিলেন। কারও ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকারও করেছিলেন তিনি। বহু ইরানি নাগরিকের প্রত্যাশাও তাই, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের।
ইরানের নতুন আইনের সমালোচনা করেছেন নারী ও পরিবারবিষয়ক সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসৌমে এবতেকার। হিজাব বিতর্ক ইরানের পিছু ছাড়ছেই না। গত সপ্তাহে দেশটিতে পারাসতো আহমাদির নামে এক সংগীতশিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হিজাব না পরেই ইউটিউবে ভার্চুয়াল কনসার্ট করেছিলেন। মানুষের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অবশ্য একদিন পরই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে পুলিশি হেফাজতে মাশা আমিনির মৃত্যু ঘটনার পর থেকেই দেশটিতে হিজাব ইস্যুতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পোশাকবিধি না মানার অভিযোগে আমিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়। এর জেরে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। ইরানের পুলিশ অবশ্য দাবি করে যে মাশা আমিনির ওপর নির্যাতন হয়নি, তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।
নতুন হিজাব আইন নারীদের আইন ভঙ্গ করা ঠেকাতে পারবে না বলেই বিশ্বাস করেন পেজেশকিয়ান সমর্থকরা। তারা মনে করেন, এটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে। সূত্র: বিবিসি