বড়দিনেও রেহাই পায়নি ইউক্রেন। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানী ও বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া । এ ছাড়া দেশটির জ্বালানিব্যবস্থাকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী ও স্থানীয় কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানিয়েছেন।
ইউক্রেন সাধারণত রাশিয়ার মতো জুলিয়ান ক্যালেন্ডার মেনে জানুয়ারির ৭ তারিখে বড়দিন উদযাপন করত। কিন্তু ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বড়দিন উদযাপনের দিন-তারিখ বদলে ফেলে দেশটি। উদযাপন চলে আসে ডিসেম্বরের ২৫ তারিখে। জেলেনস্কি মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) বলেন, ‘দ্বিতীয়বারের মতো আমরা একই দিনে একটি বড় পরিবার ও এক দেশ হিসেবে বড়দিন উদযাপন করছি।’
আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ বলেছেন, খারকিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্যানুসারে, খারকিভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, এতে বেসামরিক অনাবাসিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পৃথকভাবে দিনিপ্রোপেত্রোভস্কের গভর্নর সেরহি লিসাক টেলিগ্রামে বলেছেন, ‘সকাল থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী দিনিপ্রো অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে। তারা ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে।’
ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশচেনকো ফেসবুকে বলেছেন, রাশিয়া শক্তি খাতে বড় মাপের আক্রমণ চালিয়েছে। প্রভাবের হাত থেকে বাঁচতে বিদ্যুৎ সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে ২০২৪ সালের বসন্তে রাশিয়া আক্রমণ চালিয়ে আসছে। দেশটির মোট উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেক কমে গেছে এসব হামলার কারণে। দেশজুড়ে প্রায়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। বুধবার রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময়টিতে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী পুরো ইউক্রেনেই সতর্কসংকেত বাজিয়েছে।
ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় বেসামরিক বিদ্যুৎ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, তাদের অবকাঠামোগুলো হামলার কবলে পড়েছে। বিভিন্ন সরঞ্জামের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। টেলিগ্রামে ডিটিইকে বলেছে, ‘চলতি বছরে ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎ খাতে ১৩তম বড় হামলা হলো। এর মধ্যে ডিটিইকের অবকাঠামোতে এ নিয়ে ১০ বারের মতো হামলা হয়েছে।’
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিমানবাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেনের পূর্ব, মধ্য, দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গেছে। এর আগে নভেম্বরের ১৭ তারিখ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। সেবার ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯০টি ড্রোন ব্যবহার করেছিল তারা। ওই হামলায় সাতজন প্রাণ হারান এবং দেশের বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। সূত্র: রয়টার্স