কানাডার প্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল পার্টির নেতা জাস্টিন ট্রুডো পদত্যাগ করতে পারেন।
রবিবার (৫ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এই খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসলেও স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালেই ট্রুডো পদত্যাগ ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গেছে।
ট্রুডো পদত্যাগ করলে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি বিপাকে পড়বেন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। পার্লামেন্টের বিরোধীদল কনসার্ভেটিভ পার্টির তুলনায় ক্ষমতাসীন এই দলের গ্রহণযোগ্যতা কম বলেই সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে।
তাই অক্টোবরে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত লিবারেল আইনপ্রণেতারা।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার (৮ জানুয়ারি) লিবারেল পার্টি জরুরি আলোচনাসভা ঘোষণা করেছে।
এই আলোচনার আগেই ট্রুডো পদত্যাগ করবেন বলে ধারণা করছেন দলটির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও সোমবার কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ক্যাবিনেট সদস্যদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় ট্রুডো সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে গত নির্বাচনে প্রায় নিশ্চিত কয়েকটি আসনে হার ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য কমে যাওয়ায় ট্রুডোর ওপর ক্ষেপেছেন দলটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।
গেল ডিসেম্বরে অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ট্রুডোর সঙ্গে বিরোধের জেরে পদত্যাগের পর সমালোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
প্রধানমন্ত্রী ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ ধরতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন ফ্রিল্যান্ড।
ট্রুডো পদত্যাগ করলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক কানাডার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
এর আগে ২০১৩ সালে ট্রুডো লিবারেল পার্টির প্রধান হওয়ার পর ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় লাভ করে দলটি।
জনমনে সংস্কার ও প্রগতির প্রত্যাশা জন্মালেও কোভিড মহামারি , মুদ্রাস্ফীতি ও আবাসন সঙ্কট সামলাতে গিয়ে তার গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে এসে ঠেকেছে।
ট্রুডো পদত্যাগ করলে দেশে স্থির সরকারব্যবস্থা মোতায়েনের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স
নাইমুর/