যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে সদ্য আসীন ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকমহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি ডেনর্মাকের মালিকানাধীন দ্বীপ গ্রীনল্যান্ড দখলের হুমকির পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাড়িয়েছেন এই রিপাবলিকান নেতা। এদিকে পশ্চিমা সামরিকজোট ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহার, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান, পানামা খালের আধিপত্য পুনরুদ্ধারসহ বেশ কিছু বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) ট্রাম্পের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের দিনে তার সম্ভাব্য পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সম্প্রতি ট্রাম্প ন্যাটোর নীতিমালা সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
জোটটির ইউরোপীয় সদস্যদের কাছে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ‘প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমান সামরিক সহায়তার’ যতটা সম্ভব ফেরত চেয়েছেন তিনি।
সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে বার্ষিক জিডিপির অন্তত দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যায়ের নির্দেশ দিয়েছে ন্যাটো। তবে ট্রাম্প চাইছেন ব্যায়ের পরিমান অন্তত পাঁচ শতাংশ করা হোক।
এদিকে ক্ষমতা গ্রহনের আগেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের সমাধানে পৌছানোর ঘোষণা দিলেও এই জটিলতা কাটতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে বলে স্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার কিছু অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে গ্রীনল্যান্ড কেনার বিষয়টি ট্রাম্পের নীতিতে সর্বাধিক প্রাধান্য পাবে ,ধারণা বিশেষজ্ঞদের। প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প এই দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত করতে চেয়েছিলেন। তবে এবারের মতো আগেবারও ডেনমার্ক গ্রীনল্যান্ড হাতছাড়া করতে অস্বীকৃতি জানায়।
তবে হাল ছাড়তে রাজি না ট্রাম্প। এই অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মন্তব্য করে তিনি জানান, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
পানামা খাল দখলের বিষয়েও আগ্রাসী ট্রাম্প। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক অঞ্চলে যাতায়তের বিনিময়ে পানামা ‘অতিরিক্ত ফি’ আদায় করে জানিয়ে খালে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কায়েম করতে আগ্রাসী সামরিক নীতি গ্রহণ করতেও প্রস্তুত তিনি।
এদিকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের খুব একটা সহিষ্ণু মনোভাব এখনো লক্ষ্য করা যায়নি। যেকোনো বৈদেশিক পণ্য আমদানীতে তিনি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। চীনা পণ্যের ক্ষেত্রে এই পরিমান ৬০ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনের ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ নামে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশের জমি বাণিজ্য থেকে চীনকে পুরোপুরি সরাতে চান তিনি।
অস্ত্র তৈরিতে কার্যকর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে তাইওয়ানের আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাখাতে ‘পর্যাপ্ত সহায়তা’ না করায় খেপেছেন ট্রাম্প।
মেক্সিকো ও কানাডার জন্যেও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছেন তিনি। দুই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ও মাদকের আগমন না কমলে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ৭৮ বছর বয়সী এই নেতা।
মেক্সিকোর মাদক চোরাচালান চক্রকে জঙ্গী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের দমন করতে বিশেষ সামরিক দল গঠনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের অবস্থানে শঙ্কিত পরিবেশবাদীরা। প্যারিস চুক্তি থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেবেন বলেই ধারণা তাদের।
এদিকে মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য নিশ্চিত করতে ‘আয়রন ডোম’ নামে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিষয়ে জানিয়েছেন তিনি।
উদ্ভূত এ পরিস্থিতি অস্বস্তির ঢোক গিলছেন অনেকেই। তবে ট্রাম্পের শাসন আমল আদতে বিশ্বকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করায় তা সময়ই বলে দেবে। সূত্র: রয়টার্স
নাইমুর/