বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ভারতে এখন বইছে বাংলাদেশবিরোধী হাওয়া। গত কয়েক মাসে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়েছে। ভারতকে এড়িয়েই চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জন্য বাজেট বরাদ্দ কমাল না ভারত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ১২০ কোটি টাকা। এবারের বাজেটেও সেই অঙ্ক অপরিবর্তিতই রাখা হয়েছে।
গতকাল শনিবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেটে তিনি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের জন্য বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন।
এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বাংলাদেশের জন্য ভারতের বাজেট বরাদ্দ ছিল ১৫৭ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা। কিন্তু পরের বছর তা কমিয়ে করা হয় ১২০ কোটি টাকা, যা অপরিবর্তিত রাখা হলো এবারও। প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা, হিন্দুদের নির্যাতন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ- এ রকম একাধিক বিষয় নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। কিন্তু টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও মোদি সরকার বাজেট বরাদ্দ কমাল না।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে কূটনৈতিক চাল। আসলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে কাছে টানতে চাচ্ছে চীন ও পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে বাজেট বরাদ্দ না কমিয়ে ভারত এই বার্তাই দিতে চাচ্ছে যে দেশটি বাংলাদেশ প্রশাসনের ওপরে আস্থা রাখতে চাইছে। বর্তমান পরিস্থিতি যেমনই হোক, আগামী দিনে আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে- এই আশাই করছে নয়াদিল্লি।
এদিকে গত বাজেটের মতোই এবারের বাজেটেও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ভুটানের জন্য। এ বছর ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ভুটানের জন্য, গত বছর যা ছিল ২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা।
বাংলাদেশের মতোই কিছুদিন মালদ্বীপের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্কে চিড় ধরেছিল। পরে অবশ্য দূরত্ব মেটাতে উদ্যোগী হয় মালদ্বীপ সরকার। এবারের বাজেটে ওই দেশটির জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৪০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
তবে আফগানিস্তানের জন্য বরাদ্দ কমেছে এবারের বাজেটে। গত বছর আফগানিস্তানের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ২০০ কোটি টাকা। এ বছর তা কমে হয়েছে ১০০ কোটি।
২০২৪-২৫ সালের বাজেটে মায়ানমারের জন্য ২৫০ টাকা বরাদ্দ করেছিল ভারত। এবার সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩৫০ কোটি।
গত বছরের মতো এ বছরও নেপালের জন্য ৭০০ কোটি টাকাই বরাদ্দ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার অনুদানের পরিমাণ ২৪৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, সংবাদ প্রতিদিন