দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনার যে ধরন এতদিন বিশ্ববাসী দেখে এসেছেন সেই ধারণা কার্যত ভেঙে গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভ্লাদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের পর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির এই বৈঠক কার্যত একটি বাকযুদ্ধে পরিণত হয়।
নজিরবিহীন এই বাগবিতণ্ডার ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়েই আলোচনা চলছে। এই ঘটনার জেরে জেলেনস্কিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুট।
আর এবার এই ঘটনায় সতর্ক বার্তা দিয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই জোটের মহাসচিব মার্ক রুট বলেন, জেলেনস্কিকে অবশ্যই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক সংশোধন করতে হবে। এমনকি তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলেও জানান।
ন্যাটো মহাসচিব শনিবার (১ মার্চ) বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক সংশোধনের একটি উপায় খুঁজে বের করা।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুট বলেন, হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর জেলেনস্কির সঙ্গে তিনি ফোনে দুবার কথা বলেছেন।
তবে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন উল্লেখ করে বলেন, ফোনালাপে কী আলোচনা হয়েছে তা বলার অনুমোদন তার নেই। ন্যাটো প্রধান আরও বলেন, তিনি জেলেনস্কিকে বলেছেন, ট্রাম্প এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য যা করেছেন সেটি সম্মান করা উচিত।
এ ছাড়াও মার্ক রুট জেলেনস্কি এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে টেলিফোন কথা বলার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
তারপর ন্যাটো প্রধান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প মার্কিন জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল সিস্টেম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিলেন। আর সেটিই ইউক্রেনকে রাশিয়ার হামলার জবাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে শক্তি যুগিয়েছিল।
সুলতানা দিনা/