প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জীবনেও যেন অন্ধকার নেমে আসে। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানে কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রথা বেড়ে গেছে।
এই অঞ্চলে বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, গত বছর ওই প্রদেশের একটি গ্রামেই ১৮ বছরের কম বয়সী ৪৫টি শিশুর বিয়ে দেওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই আবার মেয়ে শিশু, তবে কিছু ছেলেও রয়েছে।
সেখানে অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়া অনেক পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছে। কিন্তু এটি মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যতকে মারাত্মক অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এই এলাকার বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ধ্বংস, ফসল ভেসে যাওয়া এবং জীবিকা নির্বাহ থেমে যাওয়ার কারণে এখানে বাল্যবিবাহের প্রথা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে গেছে। এর পেছনের একটি বড় কারণ হচ্ছে, এখানকার পুরুষরা ৯ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে করার বিনিময়ে মেয়ের পরিবারকে বড় অংকের অর্থ দেয়।
বিবাহিত জীবনের পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝে ওঠার আগেই এই শিশুদের জীবনের মোড় ঘুরে যায়। বিয়ের আগের কয়েকটা দিন তারা নতুন পোশাক, চকচকে গয়না এবং গ্রামের বড় মেয়েদের কাছ থেকে শোনা উৎসবের কথা ভেবে সময় কাটায়। বিয়ে মানেই যেন উপহার, মেকআপ এবং নতুন পোশাক।
আবার পরিবারের ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে বাধ্য হয়ে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক বাবা-মাকেই হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। কখনও বা তাদের এই উপায়হীনতার মর্মপীড়া সবসময় তাড়া করে বেড়ায়।
সিন্ধু প্রদেশের দাদু জেলা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে একটি। যেখানে দেশটির প্রায় এক তৃতীয়াংশ জলমগ্ন ছিল। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির তিন কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৯২৯ সালের পাকিস্তানের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ছেলেদের বিয়ের বয়স ১৮ এবং মেয়েদের ১৬ বছর নির্ধারণ করা হয়। ২০১৪ সালের এপ্রিলে সিন্ধু পরিষদে সিন্ধু বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন গৃহীত হয়। এই আইনে মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের জন্যই বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর করা হয়।
গত কয়েক দশকজুড়ে পাকিস্তানে বন্যা, খরা এবং তাপপ্রবাহ বেড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকারি প্যানেল (আইপিসিসি) সতর্ক করে জানায়, পাকিস্তান সবচেয়ে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। যেখানে কৃষি, পানির প্রাপ্যতা এবং খাদ্য সরবরাহে বন্যার ক্রমবর্ধমান প্রভাব দেশটির দারিদ্র্য এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। সূত্র: আল জাজিরা
দিনা/সুমন/অমিয়/