ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের প্রধান রনেন বারকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রবিবার (১৬ মার্চ) খবরটি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা সিএনএন।
চলতি সপ্তাহেই এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হবে বলে বারকে জানিয়ে রেখেছেন নেতানিয়াহু। সরকারপক্ষের বেশিরভাগই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকায় বারের দায়িত্বহরণ বাধার সম্মুখীন হবে না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ক্ষমতা ছাড়ার আগে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে জানিয়েছেন বার। ইসরায়েলের নাগরিকদের প্রতি নিজের দায়িত্ব পুণর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার কাছে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আনুগত্য আশা করেন। এটা নাগরিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
তবে ‘ভরসা করতে না পারায়’ বারকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘চলমান অস্তিত্বের লড়াইয়ে শিন বেটের প্রধানের প্রতি ভরসা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাম্য নয়।’
এ ছাড়া গাজায় ইসরায়েলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘বারের অব্যহতি জরুরি ছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণ সামলাতে না পারার দায় রয়েছে বারের ওপর। দেশটির আভ্যন্তরীণ তদন্তের দাবি, কাতারের আর্থিক সহায়তা ও শিন বেটের অবহেলা হামাসকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত।
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাতারের প্রভাব নিয়ে তদন্ত ঘোষণার পরপরই বারকে চাকরিচ্যুৎ করার সিদ্ধান্ত এসেছে।
তবে দেশটির উগ্র ডানপন্থি নেতারা নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। এ প্রসঙ্গে ডানপন্থি নেতা বেন গিভির বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত নেতাকে আক্রমণের কোনো সুযোগ নেই।’ সূত্র: সিএনএন
নাইমুর/