ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আনচেলত্তির সন্তুষ্টি, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরছেন নেইমার কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্কটল্যান্ড কোচ ক্লার্ক শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট-শপিংমল বন্ধ জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো অন্যতম চ্যালেঞ্জ প্যারাগুয়ে বনাম তুরস্ক ম্যাচে যে কারনে মিগুয়েল আলমিরনকে লাল কার্ড দেখানো হলো অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা জিতলেই নকআউটে জার্মানি গতির রাজা জর্ডান মরোক্কোর রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম গোল প্যারাগুয়ের ব্রাজিল ম্যাচের চেয়েও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলেছে মরক্কো: ওয়াহবি হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলের রাফিনহা ৯ বছরেও খোলেনি রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে সাগরিকায় ক্রিকেটের উন্মাদনা শ্রীমঙ্গলে হারমোনি ফেস্টিভ্যালের বর্ণিল উদ্বোধন ইসমাইল সাইবারিকে ছাড়িয়ে এবার ৬৪ সেকেন্ডে দ্রুততম গোল গ্যালারজারের দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত? ব্রেকে হাওয়া না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর পাড়ে ঝুলে পড়ল যাত্রীবাহী বাস আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ফিফায় আলজেরিয়ার অভিযোগ সিরিজ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৭ রানে নাটোরে ওড়না পেঁচিয়ে যুগলের আত্মহত্যা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৭

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৫, ১০:৪৪ এএম
পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৭
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের নশকি অঞ্চলে আধা সামরিক বাহিনীর দলকে উদ্দেশ করে সংঘটিত একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন।

রবিবারের (১৬ মার্চ) এই খবর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। নিহতদের মধ্যে তিনজন দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৪৩ জন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা বেলুচিস্তানে তৎপর স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই বোমা হামলার জন্য দায়ী।

পাকিস্তানের সেনা শাখার (আইএসপিআর) জানায়, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বিস্ফোরক দ্রব্যসহ একটি গাড়ি সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি দলের কাছাকাছি এনে সংঘর্ষ ঘটায়।

নশকি অঞ্চলের পুলিশ প্রধান হাশিম মোমান্দ এ প্রসঙ্গে জানান, হামলায় আহতদের মধ্যে ৩০জনই সামরিক সদস্য। এ ছাড়া স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে বেশ কয়েকজন সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।  

এদিকে হামলার পর অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে তিনজন নিহত হয়েছেন।

সম্প্রতি বেলুচিস্তানে ট্রেন হাইজ্যাক করে অন্তত ৩১ জনকে হত্যা করেছে বিএলএ। জবাবে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছেন বিএলএ’র ৩৩ সদস্য।

রবিবারের বোমা হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, ‘বেলুচিস্তানের শান্তি নিয়ে যারা ছেলেখেলা করছে, তাদের করুণ সমাপ্তি নিশ্চিত করা হবে।’

বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় সম্প্রতি সহিংসতায় ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। নিয়মিত অঞ্চলগুলোতে অতর্কিত হামলা পরিচালনা করা হচ্ছে। বিএলএ’র পাশাপাশি আরেক সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) অপতৎপরতায় অঞ্চলগুলোর নিরপত্তা ব্যবস্থা খুব নাজুক পরিস্থতিতে রয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

নাইমুর/

কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করেছেন, যেটিকে তিনি 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' বলে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের ঠিক বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে হ্যাঙ্গারের ভেতরে বিমানটি উন্মোচনের সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান উপহার পেয়ে উপসাগরীয় আমিরাতের প্রশংসা করেন তিনি।

তবে শত শত মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিমানটি উপহার দেওয়ায় নৈতিক, সাংবিধানিক এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, 'এই উপহার প্রত্যাখ্যান করা বোকামি। এটি যেকোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের চেয়ে বেশি দূরত্বে এবং দ্রুত গতিতে উড়তে পারে। বিমানটি আমার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করা হবে।'

এতে আরও উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

উল্লেখ্য, নতুন বিমানটি ৪ জুলাই ২৫০তম মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি ফ্লাইওভারে অংশ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রথম মেয়াদ থেকেই ১৯৯০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত এই বিমানগুলো প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে চরমভাবে ভেঙে পড়ল কূটনৈতিক সৌজন্যতা। সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক উন্মুক্ত শুনানিতে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। একপর্যায়ে জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তাকে কড়া ভাষায় ‘চুপ থাকার’ নির্দেশ দেন ইসরায়েলি দূত।

বৈঠকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, প্রমিলা প্যাটেনের তৈরি করা একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ড্যানন এই প্রতিবেদনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতি ইঙ্গিত করে ড্যানন বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য মহাসচিবের যে মায়াজাল রয়েছে, আপনি তার কাছে নতি স্বীকার করেছেন।’

ড্যাননের এমন মন্তব্যের পর বৈঠকে উপস্থিত জাতিসংঘের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা ভেনেসা ফ্রেজিয়ার তীব্র আপত্তি জানান। তিনি মূলত সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের প্রতিনিধি এবং আরেকটি পৃথক প্রতিবেদনের সংকলক (যেখানেও ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে)।

ফ্রেজিয়ার চিৎকার করে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ উত্থাপন করেন এবং ড্যাননকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার কাছে এর ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইসরায়েলি দূত ড্যানন ফ্রেজিয়ারকে সরাসরি চুপ থাকার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সদস্য রাষ্ট্র, আর আপনি জাতিসংঘের জন্য কাজ করেন। তাই এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি এবং আপনার লজ্জাজনক প্রতিবেদন- উভয়ই চুপ থাকবে।’

মাল্টার সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভেনেসা ফ্রেজিয়ার চলতি সপ্তাহে মহাসচিব গুতেরেসের পক্ষে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয় যে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও বৈশ্বিক কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদনের তথাকথিত 'লজ্জার তালিকা' অ্যানেক্সে স্থান পেয়েছে।

গত মাসে প্রমিলা প্যাটেনের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ড্যানন এটিকে জাতিসংঘের ‘নতুন পতন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের শেষে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের এই উভয় প্রতিবেদনেই ইসরায়েলের পাশাপাশি তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁট: মানবিক সংকটে রোহিঙ্গারা
ছবি: সংগৃহীত

জীবন বাঁচাতে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিবন্ধন না হওয়ায় নতুনরা প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য পাচ্ছেন না। ফলে তারা ক্যাম্পে থাকা স্বজনদের ওপর নির্ভর করছেন। তবে আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁটের কারণে সামগ্রিক ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী কমে যাওয়ায় ১০ লাখের বেশি মানুষের এই মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাটি এখন ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত একটি রোহিঙ্গা যুব সংগঠন। এই সংস্থাটি মূলত শরণার্থী ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গা তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে। 

গত বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে ‘ফ্রম অ্যারাইভাল টু সারভাইভাল: কন্ডিশনস অব নিউলি অ্যারাইভাল রোহিঙ্গা রিফিউজিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফরটিফাই রাইটস’-এর সহায়তায় তারা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। সেমিনারে আঞ্চলিক গবেষক, মানবাধিকার কর্মী ও ‘ফর্টিফাই রাইটস’-এর আইনি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে ফর্টিফাই রাইটসের পরিচালক পুত্তানি কাংকুন প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

বিদেশি সংস্থাগুলোর তৈরি করা গতানুগতিক প্রতিবেদনের বাইরে গিয়ে এই প্রতিবেদনে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর বাস্তব চিত্র এবং সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি প্রধান্য দেওয়া হয়েছে।

‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’র স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা উপদেষ্টা হ্যালি রিটসেমা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সব সময় অন্যরা রোহিঙ্গাদের পক্ষে এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে কথা বলে। কিন্তু প্রায়ই এই আলোচনাগুলো থেকে রোহিঙ্গাদেরই বাদ দেওয়া হয়।’

তিনি জানান, সম্প্রতি আসা নতুন শরণার্থীরা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তারা জীবনধারণের জন্য পুরোপুরি ক্যাম্পে আগে থেকে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের ব্যক্তিগত সহায়তার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে আন্তর্জাতিক তহবিল কাটছাঁটের কারণে ক্যাম্পে আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজেদেরই রেশন ও চিকিৎসাসামগ্রী কমে গেছে। ফলে নতুনদের সাহায্য করার এই অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি এখন ভেঙে পড়ার মুখে পড়েছে।

সেমিনারে আলোচকরা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নতুন শরণার্থীদের নিবন্ধনের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকায় এই সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে নীতিগত পরিবর্তন না আনলে নতুন আসা এই বিশাল জনগোষ্ঠী চরম দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে। 

ফর্টিফাই রাইটসের অপর পরিচালক জন কুইনলি বলেন, ‘বাংলাদেশে যে নতুন শরণার্থীরা আসছেন, তাদের সহজে নিবন্ধন করার এবং সেবা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।’ বিশ্বজুড়ে দাতাদের আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি মানুষকে টিকিয়ে রাখা মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাটি এখন ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘মানবিক সহায়তা ছাড়া শরণার্থীরা ক্যাম্পে বেঁচে থাকতে পারবে না।’ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী উভয় পক্ষকেই জরুরি ভিত্তিতে তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানান।

গবেষকদের মতে, এই সংকটকে কেবল সীমান্ত সুরক্ষার একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখলে ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটবে। ‘ইউথ কংগ্রেস রোহিঙ্গা’ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো নতুন আসা পরিবারগুলোর জন্য আইনি সুরক্ষা ও জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সরকার ও আন্তর্জাতিক দাতাদের দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

তারা জোর দিয়ে বলেন, মায়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গাদের ওপর চলা সামরিক সহিংসতা, নাগরিকত্বের অভাব এবং বাস্তুচ্যুতির মতো মূল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না করা পর্যন্ত এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

সূত্র: ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ/ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইসলামাবাদ স্মারককে একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে এ সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান।

জাতীয় পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘অনেক দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী এমন সম্মান অর্জনের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। আজ বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানের নাম সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে।’

তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের প্রশংসা করেন।

শেহবাজ বলেন, ‘তিনি দিন-রাত শান্তির জন্য কাজ করেছেন। এমন মুহূর্তও এসেছিল, যখন যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান সমাধানের পথ খুঁজতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।’ এ সময় উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির ভূমিকাও তিনি প্রশংসা করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, গত বৃহস্পতিবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সেই আলোচনা ছিল আন্তরিক ও ইতিবাচক।

শেহবাজ বলেন, পেজেশকিয়ান কঠিন সময়ে ইরানের পাশে থাকার জন্য পাকিস্তান ও দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানান এবং শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ইসলামাবাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্টকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। পেজেশকিয়ান পাকিস্তানকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

শেহবাজ শরিফ বলেন, এই চুক্তি পুরো অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে এবং জ্বালানির দাম কমাতে সহায়ক হবে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে এবং পাকিস্তানের জনগণ এর সুফল পাবে। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, শুক্রবারের মধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হবে।

শেহবাজ শরিফ কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, চীন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যিনি এই সমঝোতায় সহায়তা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পরে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা ঘোষণা দেন যে, চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

এই স্মারক অনুযায়ী ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস জলবিদ্যুৎ প্রকল্প/ ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের ইয়ারলুং স্যাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে চীন। জবাবে ভারতও অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিল্লি জানায়, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়ারলুং স্যাংপো নদীর নিম্নাংশে ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করেছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পটি অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বেইজিংয়ের এই উদ্যোগের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দিল্লি অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প (সাম্প) এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি।

দুই প্রকল্পের অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার মেডোগ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিপরীতে ভারতের সাম্প প্রকল্প এখনো প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি নির্মাণ-পূর্ব সমীক্ষার কাজও শুরু হয়নি।

ভারত এখন কৌশলগত প্রতিক্রিয়া জোরদার করার পাশাপাশি বিতর্কিত নদীটিতে বেইজিংয়ের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।তিব্বতের ইয়ারলুং স্যাংপো নদী ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয়। পরে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়ে অরুণাচল ও আসাম প্রদেশে প্রবেশ করে এবং লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে। এতে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে।

লোকসভায় দেওয়া লিখিত জবাবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ড সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিল্লি বরাবরই সীমান্তবর্তী নদীসংক্রান্ত সব প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং আগাম পরামর্শের জন্য বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সাম্প প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানে পানিপ্রবাহ পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডকে সুরক্ষা দেওয়া। এ কারণে প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বও অর্থনৈতিক গুরুত্বের সমান বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সময়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা জোরদার করার কাজও এগিয়ে নিচ্ছে দিল্লি। সূত্র: এনডিটিভি