প্লাইস্টোসিন যুগের তুষার-সাদা ডায়ার নেকড়ে। এই বিলুপ্তপ্রাপ্ত প্রজাতিটি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হয় সম্ভবত এইচবিও চ্যানেলে সম্প্রচারিত গেম অব থ্রোনসের কারণে। ঘোস্ট, নাইমেরা, সামার আর লেডি নামের সাহসী নেকড়েদের গল্প আজও গেম অব থ্রোনস-প্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে।
বিলুপ্ত এই প্রজাতিটির অস্তিত্ব ছিল ১০ হাজার বছরেরও আগে। তখন এটি আমেরিকা জুড়েই বিচরণ করত। তবে এবার বাস্তবেই ফিরে এল সেই ভয়ঙ্কর ডায়ার নেকড়ে।
কলসাল বায়োসায়েন্স নামের একটি বায়োটেক ফার্ম প্রাচীন এই প্রাণীর ফসিলের স্কার্ল থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে ক্লোনিং এবং জিন-সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেমাস, রোমুলাস এবং খালেসি নামের তিনটি নেকড়ে ছানা সফলভাবে প্রজনন ঘটিয়েছে।
এই গবেষক দল জানান, তাদের তত্বাবধানে রেমাস, রোমুলাস এবং খালেসি নামের ধবধবে সাদা তিনটি নেকড়ে ছানা সংরক্ষিত একটি জায়গাতে বেড়ে ওঠছে। তারা নেকড়ে ছানাদের কয়েকটি ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে বরফের মধ্যে তাদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
গবেষকরা এটিকে অভূতপূর্ব বৈজ্ঞানিক সাফল্য হিসেবেই দেখছেন। এই গবেষক দলের দাবি সত্যি হলে আশা করা যায়, ডায়ার উলফের মতো বিলুপ্তপ্রাপ্ত বা বিলুপ্তির ঝুকিতে আছে এমন আরও অনেক প্রাণীকে অভূতপূর্ব এই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
যদিও আরেক দল বিশেষজ্ঞ বলছেন- রোমুলাস, রেমাস এবং খালেসি আসলে সেই ভয়ঙ্কর নেকড়ে নয়।
নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞানী ফিলিপ সেডন ব্যাখ্যা করেন, প্রাণীগুলো আসলে 'জিনগতভাবে পরিবর্তিত ধূসর নেকড়ে। বা এক ধরণের হাইব্রিড নেকড়ে।‘
এছাড়া বিশেষজ্ঞরা টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নেকড়ে এবং শেষ বরফযুগে ঘুরে বেড়ানো এবং শিকার করা ভয়ঙ্কর নেকড়েদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক পার্থক্যের দিকেও কিছু ইঙ্গিত করেন। সূত্র: সাইন্স ম্যাগাজিন, বিবিসি, টাইম ম্যাগাজিন
দিনা/অমিয়/