ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্মৃতির ভেতর অন্ধকারের গান প্রেমের এলিজি রেকর্ড থেকে ৫ কদম দূরে দিবু মার্তিনেস সমাজবোধ ও জীবনবীক্ষা জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের

হার্ভার্ডের কাছেই গোপনে চলছিল যৌনপল্লি, গ্রেপ্তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৫, ১২:১২ পিএম
আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
হার্ভার্ডের কাছেই গোপনে চলছিল যৌনপল্লি, গ্রেপ্তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী
কেমব্রিজ ব্রথেল কেস’ প্রকাশ্যে আসার পর অনুরাগ গ্রেপ্তার হন। সম্প্রতি প্রকাশিত আদালতের নথিতে অনুরাগের পাশাপাশি আরও কয়েক জন সিইওর নাম রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

হার্ভার্ডের কাছেই গোপনে চলছিল একটি যৌনপল্লি। আর তার তদন্তে নেমে অবৈধ যৌনপল্লিতে যাতায়াতের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী অনুরাগ বাজপেয়ীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

‘দ্য কেমব্রিজ ব্রথেল হিয়ারিংস’ নামে পরিচিত এই মামলায় ৩০ জনেরও বেশি বিশিষ্টজনের বিরুদ্ধে ম্যাসাচুসেটসে অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টে অবৈধভাবে চলা যৌনপল্লিতে মোটা অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজে একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টে অবৈধভাবে চলা এই যৌনপল্লিতে সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ, চিকিৎসক এবং আইনজীবী-সহ অভিজাত গ্রাহকদের যৌন পরিষেবা দেওয়া হতো।

আর যে নারীরা সেখানে যৌন পরিষেবা দিতেন, তাদের অনেককেই এশিয়া থেকে আমেরিকায় পাচার করে এ কাজে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

এই ঘটনায় বস্টন এলাকায় পুলিশের স্টিং অপারেশন ২০২৫ সালের শুরুতে অনুরাগ গ্রেপ্তার হন। তবে তখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত আদালতের নথিতে অনুরাগের পাশাপাশি আরও কয়েক জন সিইওর নাম রয়েছে। 

তবে ‘কেমব্রিজ ব্রথেল কেস’ প্রকাশ্যে আসার পর ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী অনুরাগকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি হইচই পড়ে যায়।

আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর এবং পরে গবেষণার কাজ শেষ করেন অনুরাগ। শিল্পে পানি বিশুদ্ধকরণ এবং পরিশোধন নিয়ে গবেষণার কাজ করতেন অনুরাগ। ২০১৩ সালে এমআইটিতে পড়ার সময় গ্র্যাডিয়েন্ট প্রতিষ্ঠা করেন।

পানিশোধনের বিশেষ এক কৌশল আবিষ্কার করে রাতারাতি জনপ্রিয় হন অনুরাগ। এমনকি ‘বিশ্বের শীর্ষ ১০ ভাবনা’র তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত হয় সেই কৌশল!

অনুরাগের হাত ধরে ‘গ্র্যাডিয়েন্ট’ এখন শত কোটি ডলারের সংস্থায় পরিণত হয়েছে। ২৫টিরও বেশি দেশে কাজ করছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাপী আড়াই হাজারেরও বেশি কার্যালয় রয়েছে তাদের।

সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, খনিজশিল্প এবং খাদ্য ও পানীয়ের মতো শিল্পে পানি শোধনের পরিষেবা দেয় ‘গ্র্যাডিয়েন্ট’। সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

দিনা/অমিয়/

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে
কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে। ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে।

শুক্রবার (১৯ জুন) কাতারের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ চলাকালীন গোড়ালির এক ভয়াবহ চোটের শিকার হন তিনি। যার ফলে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব সাসুওলোতে খেলা এই মিডফিল্ডারের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। এই চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে তার অন্তত তিন মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে এই ফুটবল মহোৎসবের বাকি অংশ কেবল দর্শক হয়েই কাটাতে হবে তাকে।

ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর এক মারাত্মক ট্যাকেলের শিকার হন কোনে। ফাউলটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে রেফারি মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। চোট পাওয়ার পর মাঠে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখা যায় কোনেকে। পরবর্তীতে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তিনি।

কোণের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নাথান সালিবা। মাঠে নেমেই এক দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন তিনি, যা চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ফ্রি-কিক গোল। গোলটি করার পর সালিবা কোণের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি সম্মান ও এই গোলটি তাঁকে উৎসর্গ করেন।

ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানান, কাতারের খেলোয়াড় মাদিবো ম্যাচ শেষে কানাডার ড্রেসিংরুমে এসে কোণের কাছে তার এই মারাত্মক ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। 

পাপ্পু/নাঈম

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি একপ্রকার মুছে গিয়েছিল। তবে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর আবারও এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। সম্প্রতি চীনে তৈরি পাকিস্তানের নতুন ‘হাঙ্গর-ক্লাস’ সাবমেরিন করাচিতে পৌঁছেছে। এই সাবমেরিন মোতায়েনের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে ইসলামাবাদ। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তানের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের নতুন এই সাবমেরিনের নাম রাখা হয়েছে পিএনএস হাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের তৎকালীন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ সাবমেরিনটি ভারতের ‘আইএনএস খুকরি’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে সেটিই ছিল প্রথম কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনা। যুদ্ধে পাকিস্তান পরাজিত হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তবে সেই ঘটনার ঐতিহাসিক প্রতীকী গুরুত্বকে সামনে রেখেই নতুন এই সাবমেরিন বহরের নামকরণ করা হয়েছে। পাকিস্তান মোট ৮টি হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে প্রথমটি গত সপ্তাহে করাচিতে এসে পৌঁছায়।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের ফ্লোটিলা এসকর্ট কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানান, এই নতুন হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিনটি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বহুদূর বাড়িয়ে দেবে। এটি পাকিস্তানকে নিজের উপকূলীয় আরব সাগর ছাড়িয়ে দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরেও নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখার শক্তি জোগাবে। এই সাবমেরিনগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রোপালশন’ প্রযুক্তি। এর ফলে সাবমেরিনগুলো ব্যাটারি চার্জ করার জন্য বারবার পানির ওপরে না উঠে, দীর্ঘ সময় পানির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে এদের সহজে ট্র্যাক করা বা শনাক্ত করা যায় না। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সাবমেরিনগুলোকে পাকিস্তানের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

পাকিস্তানের এই বঙ্গোপসাগরীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক দশক পর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের একটি যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে আসে। ১৯৭১ সালের পর এটিই ছিল বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের প্রথম আগমন।

পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২০ থেকে ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশের বিমান বাহিনীপ্রধান চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফর করে দেশটির তৈরি জেএফ-১৭ ফাইটার জেট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশ যৌথ নৌ মহড়া ‘আমান-২৫’-এ অংশ নেয়। এ ছাড়া করাচি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলও শুরু হয়েছে। সূত্রমতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ মহড়ার বিষয়গুলো রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই তৎপরতা ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের পূর্ব নৌ কমান্ড এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগতভাবে ভারতের একটি শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গেও ঢাকার সম্পর্কের নতুন উষ্ণতা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নৌবাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, যার কাছে রয়েছে পারমাণবিক সাবমেরিন এবং দুটি বিমানবাহী রণতরি। ফলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরের সার্বিক সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও, ভারতের কৌশলগত আঙিনায় তাদের এই নিয়মিত উপস্থিতি দিল্লির জন্য একটি স্থায়ী অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ন্যাটোর যেসব মিত্র দেশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না, তাদের জন্য মার্কিন তহবিল আটকে দেওয়া হতে পারে। এই মিত্রদের তিনি ‘ফ্রি রাইডার’ বা বিনা পয়সায় সুবিধাভোগী হিসেবে আখ্যা দেন।

ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এক বৈঠকে হেগসেথ এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যালোচনা প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ ছয় মাস চলবে। এ সময়ে মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। কারণ ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর সর্বনিম্ন সংখ্যা কত হবে, তা কংগ্রেসে আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত। হেগসেথ সরাসরি বলেননি এ পর্যালোচনার কারণে ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানো হবে কি না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর মূল লক্ষ্য ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষায় আরও বেশি জোর দেওয়া।

হেগসেথ বলেন, ‘ইউরোপ যাতে দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে ন্যাটোর নেতৃত্বে আসে, তা নিশ্চিত করার জন্যই এ পর্যালোচনা করা। কেননা, ইউরোপের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ইউরোপকেই নিতে হবে।’ পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় যেসব মিত্র দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেনি, হেগসেথ তাদের তীব্র সমালোচনা করেন। ওই যুদ্ধের সময় কিছু দেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি জানান, এ পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে মার্কিন বাহিনীর জন্য যেসব দেশের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করা হবে’।

তার এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো নিজেদের জরুরি সংকটকালীন বাহিনীর ঘাটতি পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। ওয়াশিংটন ন্যাটোর জরুরি বাহিনীতে নিজেদের সৈন্য কমানোর সিদ্ধান্তের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি দেখছেন এক ব্যক্তি। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গতকাল বৃহস্পতিবার একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তিতে সই করে ওয়াশিংটন ও তেহরান। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। 

লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাফার তেবনিত শহরে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এর আগে নিহতের সংখ্যা একজন বলে জানানো হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থাটি আরও জানায়, এর পাশাপাশি জেবদিন শহরে ইসরায়েলি হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।

লেবাননে গত ২ মার্চ থেকে চালানো ইসরায়েলি হামলায় শত শত শিশু, নারী, চিকিৎসক এবং জরুরি সেবাকর্মীসহ ৩ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেক লেবানিজ নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। গত বুধবার সমঝোতা স্মারকটি ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তা এখন কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে উভয় দেশ। তবে চুক্তি হলেও অমীমাংসিত রয়ে গেছে গুরুপ্তপূর্ণ বিষয়গুলো। 

এদিকে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের দেওয়া এক নতুন তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। বিশেষ করে ইরান যাতে ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে; এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

যদিও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি নিশ্চিত করে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র কিনবে না, তৈরি করবে না বা উৎপাদন করবে না। কিন্তু এই চুক্তির খসড়া সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এখন আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হচ্ছে। এই দুই মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একটি স্থায়ী পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। অথচ ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি করতে ওবামা প্রশাসনের প্রায় ২০ মাস আলোচনা করতে হয়েছিল। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প প্রশাসন কি মাত্র দুই মাসে সেই কঠিন কাজটি করতে পারবে?

এদিকে চুক্তির খসড়ায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরান শুধু তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে রাজি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এটিকে ইরানের ‘গুরুত্বপূর্ণ ছাড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে কীভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আবার ইরানকে কোনো অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে না বলে পুনরায় জানিয়েছেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালে ওবামা প্রশাসনের ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচক ছিলেন তিনি। তাই অর্থের বিষয়টি বর্তমান চুক্তিতেও ট্রাম্পের জন্য একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পুনর্গঠনের জন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চূড়ান্ত ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে এক পয়সাও দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি ওয়াশিংটন। চুক্তির ভাষা বেশ অস্পষ্ট। ফলে ভবিষ্যতে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা অর্থ প্রদানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলেই মনে করছেন তিনি।

এই চুক্তির পর পরই ট্রাম্পের নিজ রাজনৈতিক দলসহ অনেকেই তার সমালোচনা শুরু করেছেন। এ ছাড়া কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা এই চুক্তি এবং এর সঙ্গে জড়িত অনিশ্চয়তাগুলো সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ব্রিফিং ও তথ্য দাবি করছেন। অনেক রিপাবলিকান এই চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। একজন বিশিষ্ট রিপাবলিকান সিনেটর এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়েছেন এবং বিনিময়ে যথেষ্ট পাননি। এদিকে লুইজিয়ানার বিদায়ী সিনেটর বিল ক্যাসিডি এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমন করা যায়নি। তারা শিখেছে যে হরমুজ প্রণালিকে হুমকি দেওয়া আসলে কার্যকর এবং নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে তারা এটিকে কাজে লাগাবে। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তিটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল। 

যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরান যেন মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে, বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে অর্থ ও সহায়তা দিতে না পারে। ইসরায়েলেরও বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল এটি। তাই ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে এই যুদ্ধে অংশ নেয় এবং লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযান চালায়। বর্তমান চুক্তির আওতায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতও বন্ধ থাকবে। তবে চুক্তিতে গোষ্ঠীটির বিষয়ে আর তেমন কোনো উল্লেখ নেই। পরবর্তী দফার আলোচনায় ইরানকে হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে চাপ দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গত বুধবার প্রকাশিত চুক্তির খসড়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত কোনো উল্লেখ নেই। অথচ যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটিকে অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাই জেনেভায় স্বাক্ষরিত চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সমঝোতায় রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: বিবিসি