ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) নতুন করে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি মিসরের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ গাজার রাফা শহর থেকে গাজার বাকি অংশকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে আইডিএফ।
রাফা শহর ও খান ইউনিসের মধ্য দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে লাইন টেনে নতুন ‘মোরাগ করিডর’ নামে নতুন সামরিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে আইডিএফ। এর মাধ্যমে মূলত সামরিক অভিযান চালিয়ে রাফা থেকে উত্তরের খান ইউনিসকে আলাদা করা হবে। এর আগে মূল গাজা শহরকে দুই ভাগে বিভক্তকারী নেটজারিম করিডর তৈরি করার জন্য সামরিক অভিযান চালায়। কিন্তু হামাসের সঙ্গে স্থলযুদ্ধে সুবিধা করতে না পেরে অভিযান সফল করতে পারেনি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র গত শনিবার এক বিবৃতিতে নতুন সতর্কতা জারি করে। বিবৃতিতে খান ইউনিসের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। বলা হয়, তারা সরে না গেলে খুব দ্রুতই তীব্র হামলার শিকার হবেন। এর মধ্যেই ড্রোন ও আর্টিলারি হামলার শিকার হয়েছেন খান ইউনিসের বাসিন্দারা, নিহত হয়েছেন ২ জন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাদের কোথাও সরে যাওয়ার জায়গা নেই।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, মোরাগ করিডর রাফা শহর ইসরায়েলের নিরাপত্তা জোনে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি নেটজারিম করিডরের পরিধিও বাড়ানো হবে। তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুসারে গাজাবাসী যদি স্বেচ্ছায় গাজার বাইরে অন্য কোনো দেশে সরে যায় তাহলে স্বাগত জানানো হবে। অন্যথায়, কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ইসরায়েল কাটজ গাজাবাসীকে আহ্বান করে আরও বলেন, এটাই হামাসকে নির্মূল করার ও বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার শেষ সুযোগ। তা ছাড়া যুদ্ধ বন্ধ করার কোনো উপায় নেই। তা না হলে ইসরায়েল সামরিক অভিযানের পরিধি ও মাত্রা বৃদ্ধি করবে এবং গাজার অধিকাংশ দখল করবে।
এদিকে হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলের নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও তীব্র বিরোধিতার মধ্যেও নেতানিয়াহু প্রশাসন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে। আমাদের বার্তা পরিষ্কার, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার শর্তেই আমরা বন্দিদের মুক্তি দেব। বিশ্ববাসী এ প্রস্তাবে সম্মত হলেও নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করছে।
গত ১৮ মার্চে ইসরায়েল যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করে হামলা শুরু করে। এতে গাজার ২১ লাখ বাসিন্দা এক তৃতীয়াংশ জায়গায় আটকে পড়ে। তারপর থেকে গাজায় প্রবেশ করেনি কোনো ত্রাণ, খাবার, জ্বালানি, শিশুখাদ্য এমনকি জরুরি চিকিৎসা সহায়তা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, তারা গাজার মানুষের ওপর সর্বোচ্চ চাপ অব্যাহত রাখবেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ রূপ নেবে।
লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রবার্ট গিস্ট পিনফোল্ড আল-জাজিরাকে বলেন, মোরাগ করিডোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ইসরায়েল অভিযান শুরু করেছে। এর মাধ্যমে হামাসকে চাপে ফেলার কৌশল করছে ইসরায়েল। তা ছাড়া গাজাকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে ভবিষ্যতে গাজাকে নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা করছে আইডিএফ।
ইসরায়েলি-আমেরিকান বন্দির ভিডিও প্রকাশ
হামাসের হাতে বন্দি থাকা এক ইসরায়েলি-আমেরিকান বন্দির ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস। ইদান আলেকজেন্ডার নামের ওই সৈনিক ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে বন্দি হয়। সে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিল। ভিডিও বার্তায় আলেকজেন্ডার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছেন, তিনি কেন ৫৫১ দিন ধরে বন্দি আছেন। তিনি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তাকে মুক্ত করার আহ্বান জানান। ভিডিও প্রকাশের পর তার পরিবার তাকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলের সরকারকে।
হামাসের হাতে এখনো ৫৮ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে। এর আগে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইসরায়েল ৩৮ জনকে ছাড়িয়ে নেয়। কিন্তু বাকিদের ইসরায়েল ছাড়িয়ে না নিয়ে পুনরায় হামলা শুরু করে গাজায়। হামাস জানায়, যুদ্ধবিরতি ছাড়া আর কোনো বন্দিকে মুক্তি দেবে না। কিন্তু ইসরায়েল বলপ্রয়োগ করে তাদেরকে মুক্ত করতে চায়। পাশাপাশি গাজা থেকে হামাসের নিয়ন্ত্রণ সরাতে চায়। এ জন্য নেতানিয়াহু সরকার বন্দিদের ব্যাপারেও পাত্তা দিচ্ছে না। এমনকি বন্দিদের পরিবারের দাবিও আমলে নিচ্ছে না নেতানিয়াহু প্রশাসন। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স