যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের একশ দিন উদযাপন করেছেন। মিশিগানে রাখা এক বক্তব্যে নিজের অর্জন তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়েও সমালোচনা করেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা তার একশ দিনকে ‘বড় ব্যর্থতা’ হিসেবেই দেখছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের সংখ্যা কিছুটা কমাতে পেরেছেন ট্রাম্প। তবে দেশটির অর্থনীতি তার পদক্ষেপের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্বের একাধিক পর্যবেক্ষক। তারা বলছেন, শুল্ক আরোপসহ তার নানাবিধ পদক্ষেপের কারণে বিশ্বে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য মনে করছেন, এখনো তিনি কিছুই করতে পারেননি।
গত মঙ্গলবার মিশিগানের ডেট্রয়টে বক্তব্য রাখার সময় বলেন, ‘আমরা মাত্র শুরু করেছি। আপনারা এখনো কিছুই দেখেননি।’ সমর্থকদের ভিড়কে উদ্দেশ করে ট্রাম্প জানান, তিনি প্রেসিডেন্সি ব্যবহার করে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরও সমালোচনা করেন। বক্তব্য রাখার সময় উপস্থিতদের কাছে জানতে চান, তারা বাইডেনকে কোন নামে ডাকতে পছন্দ করেন। এ ছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেন নয়, তিনিই প্রকৃত বিজয়ী এমনটাও দাবি করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের সমালোচনার শিকার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জেরেমি পাওয়েলও। তিনি এর আগে বলেছিলেন যে ট্রাম্প ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
মিশিগানকে ধরা হয় যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িশিল্পের কেন্দ্র হিসেবে। ট্রাম্প সেখানে বক্তব্য রাখার সময় জানান, গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ওই অঙ্গরাজ্যে কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য লাইন ধরে আছে।
এদিকে জরিপ বলছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। এটি ক্রমাগত কমছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের তথ্যানুসারে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা একশ দিনের মাথায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর কোনো প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা প্রথম একশ দিনে এত কমেনি।
তবে ট্রাম্প তা মানতে নারাজ। একশ দিনের উদযাপন বক্তব্যে বিষয়টিকে খারিজ করে দেন তিনি। ট্রাম্প মঙ্গলবারের সমাবেশে সাফ জানিয়ে দেন, মতামত জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমার যে কথা বলা হচ্ছে, তা বানোয়াট।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, রিপাবলিকান ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ এখনো ট্রাম্পকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এখন ভোট টানতে কষ্ট হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের একশ দিন উদযাপনে নীরব থাকেনি ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি)।
ডিএনসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম একশ দিন আসলে ‘বড় এক ব্যর্থতা’। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প দায়ী। মার্কিনিদের জন্য এখন অবসরে যাওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং ‘ট্রাম্প মন্দা’ এখন দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। সূত্র: বিবিসি