যুক্তরাষ্ট্রে যৌন অপরাধের জন্য জ্যাকলিন মা নামের এক স্কুলশিক্ষিকাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত।
প্রসিকিউটররা বলেন, জ্যাকলিন ১২ বছর বয়সী এক ছেলেকে ১০ মাস ধরে যৌন নির্যাতন করেছেন। ছেলেটিকে এই শিক্ষিকা এ সময় প্রেমপত্র এবং বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ টেক্সট পাঠিয়েছেন। এরপর ছেলেটির মা স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
সাজা ঘোষণার সময় লিংকন একার্স প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরিচ্যুত এই শিক্ষিকা অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ নিয়ে তিনি খুবই লজ্জিত।‘
৩৬ বছর বয়সী জ্যাকলিন এর আগে সান দিয়েগো কাউন্টির শিক্ষক ছিলেন। সান দিয়েগো ইউনিয়ন ট্রিবিউনের মতে, প্রসিকিউটররা জানান, মা ১২ বছর বয়সী দুটি ছেলেকে লালন-পালন করতেন এবং একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক শুরু করেন। যার ফলে ছেলেটির মা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বাধ্য হন।
প্রসিকিউটররা আরও বলেন, মা ১২ বছর বয়সী ছেলেটিকে তিন মাস ধরে তার শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করতেন। অথচ তখন তার বাবা-মাকে জানানো হয় যে, তার সন্তান স্কুল-পরবর্তী বাস্কেটবল প্রোগ্রামে আছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন ,মা ১১ বছর বয়সী একটি ছেলেকে উপহার, খাবার দিয়ে তার বিশেষ মনোযোগ কেড়ে নিতেন। এমনকি তাদেরকে কাছে টানতে এই শিকিকা শিশুটির হোমওয়ার্কও সম্পন্ন করে দিতেন।
সান ডিয়েগো কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একটি শিশুর উপর জোরপূর্বক অশ্লীল আচরণের দুটি অভিযোগসহ শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী রাখার অভিযোগ প্রমাণিত।
জেলা অ্যাটর্নি সামার স্টিফান আরও বলেন, ‘এই আসামি তার ছাত্রদের ওপর তাদের বিশ্বাসকে মর্মান্তিকভাবে লঙ্ঘন করেছেন এবং তার কর্মকাণ্ড ঘৃণ্য। ভুক্তভোগীদের সারাজীবন এর নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি হতে হবে। এ কারণে তার ৩০ বছর কারাদণ্ড যথাযথ।’
সাজা ঘোষণার সময় জ্যাকলিন বলেন, তিনি খুবই লজ্জিত এবং শিশুদের ভরসা কেড়ে নেওয়ার জন্য ক্ষমা চান। এছাড়া তার কর্মকাণ্ডের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তা স্বীকার করেন।
আদালতে হাতকড়া পরা অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে এই শিক্ষিকা বলেন, ‘আমি আমার কর্তৃত্বের অপব্যবহার করেছি, তাদের ওপর আমার ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করেছি, এবং তাদের সাথে প্রতারণা করেছি। এই বয়সের ছেলেদের বাইরে খেলা করা উচিত, চিন্তামুক্ত থাকা উচিত ...কিন্তু আমি তাদের শৈশব কেড়ে নিয়েছি। একজন শিক্ষকের পথ অনুসরণ করার পরিবর্তে আমি আমার স্বার্থপরতাকে ছেলেদের সর্বোত্তম স্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আমি যাদের আঘাত করেছি তাদের জন্য প্রার্থনা করছি। আমি খুবই দুঃখিত।’ সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
সুলতানা দিনা/অমিয়/