ইরানের পারমাণবিক শক্তিকে ধ্বংস এবং বিমান হামলার মাধ্যমে সামরিক নেতৃত্বকে ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েল। ফলে একেবারে দুর্বল অবস্থায় পড়া তেহরানের কাছে এখন প্রতিশোধ নেওয়ার সীমিত উপায় ছাড়া আর কিছুই নেই। সীমিত এই উপায়ের মধ্যে একটি হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ, যার জন্য ইরান প্রস্তুত নয় এবং যেখানে তাদের জয়ের সম্ভাবনাও কম।
রয়েটার্সের তথ্যমতে, ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৭তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতীক হিসেবে একটি বোমার ছবি দেখিয়ে তাতে একটি লাল রেখার দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন।
রয়টার্স জানায়, শুক্রবার রাতেও ইসরায়েলের বিমান হামলার ফলে দুই চিরশত্রু রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বছরের পর বছর ধরে চলা গোপন যুদ্ধ ২০২৩ সালে হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, গাজা-যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল বিভিন্নভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং সামরিক নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে ইরানের পক্ষে একই ধরনের পাল্টা হামলা চালানোর সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা আইআরএনএ জানায়, শুক্রবার ইরান প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের দিকে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ১০০-এর কম এবং অধিকাংশই প্রতিহত করা হয়েছে অথবা নিজ থেকেই ব্যর্থ হয়েছে।
ইসরায়েল জানায়, এই হামলায় এখন পর্যন্ত তাদের দুইজন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য ইসরায়েল বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করে আসছে। এই প্রস্তুতির মধ্যে ছিল- ইরানের ভেতরে একটি গোপন ড্রোন ঘাঁটি স্থাপন, নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থাপনা তৈরি এবং গোপনে ইরানের ভেতরে ইসরায়েলের কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন করা।
‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে পরিচিত ইসরায়েলের এই অভিযান ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং গোয়েন্দাসংস্থা মোসাদের মধ্যকার একটি সুচিন্তিত সমন্বয়ের ফলাফল।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানায়, মোসাদ তেহরানের কাছাকাছি একটি গোপন ড্রোন ঘাঁটি স্থাপন করে। টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, এই ড্রোনগুলো ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ছোড়া ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোকে নিশানা করে প্রতিরোধ করে।
এছাড়া ছদ্মবেশী যানবাহন ব্যবহার করে ইরানে ইসরায়েল অস্ত্র পাচার করে। এই অস্ত্রগুলো ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে, যার ফলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের আকাশসীমায় বাধাহীনভাবে প্রবেশ করতে পারে।
শনিবার সকালে মোসাদ ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলার ভিডিও প্রকাশ করে। এই গোপন অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্য ইরানে বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ঘাঁটির কাছে মোসাদ কমান্ডোরা নির্ভুলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই পুরো অভিযানকে বর্ণনা করেছেন ‘উদ্ভাবনী ও উন্নত কৌশল, সাহসী পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার যেখানে ইসরায়েলের অভিজাত বাহিনী এবং ইরানের অভ্যন্তরে মোতায়েন গোপন অ্যাজেন্টদের সমন্বয়ে কাজ করা হয়েছে। এর ফলে ইরানি গোয়েন্দাদের নজর এড়ানো সম্ভব হয়েছে।’ সূত্র: দ্য হিন্দুস্থান টাইমস
সুমন/অমিয়/