ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রেকর্ড থেকে ৫ কদম দূরে দিবু মার্তিনেস সমাজবোধ ও জীবনবীক্ষা জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ

ইরানকে পূর্ণ সমর্থন পাকিস্তানের, মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যের আহ্বান

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৫, ০৯:১০ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৫, ০৪:১৯ পিএম
ইরানকে পূর্ণ সমর্থন পাকিস্তানের, মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যের আহ্বান
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ

ইরানের ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ইরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

শনিবার (১৪ জুন) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা ইরানের পাশে আছি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল ইরান, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এখন যদি মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ না হয়, তবে একে একে সবাই একই পরিণতির শিকার হবে।’

খাজা আসিফ সব মুসলিম দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান এবং বলেন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) যেন দ্রুত জরুরি বৈঠক ডেকে একটি যৌথ কৌশল নির্ধারণ করে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং ইসলামাবাদ এই কঠিন সময়ে তেহরানের পাশে আছে।

এদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক ডার ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলাকে ‘ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও ইরান ৭৫০ কিলোমিটার (৪৬৬ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে, যা পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম ও ইরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। সূত্র: আল জাজিরা

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে
কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে। ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে।

শুক্রবার (১৯ জুন) কাতারের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ চলাকালীন গোড়ালির এক ভয়াবহ চোটের শিকার হন তিনি। যার ফলে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব সাসুওলোতে খেলা এই মিডফিল্ডারের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। এই চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে তার অন্তত তিন মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে এই ফুটবল মহোৎসবের বাকি অংশ কেবল দর্শক হয়েই কাটাতে হবে তাকে।

ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর এক মারাত্মক ট্যাকেলের শিকার হন কোনে। ফাউলটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে রেফারি মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। চোট পাওয়ার পর মাঠে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখা যায় কোনেকে। পরবর্তীতে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তিনি।

কোণের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নাথান সালিবা। মাঠে নেমেই এক দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন তিনি, যা চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ফ্রি-কিক গোল। গোলটি করার পর সালিবা কোণের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি সম্মান ও এই গোলটি তাঁকে উৎসর্গ করেন।

ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানান, কাতারের খেলোয়াড় মাদিবো ম্যাচ শেষে কানাডার ড্রেসিংরুমে এসে কোণের কাছে তার এই মারাত্মক ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। 

পাপ্পু/নাঈম

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি একপ্রকার মুছে গিয়েছিল। তবে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর আবারও এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। সম্প্রতি চীনে তৈরি পাকিস্তানের নতুন ‘হাঙ্গর-ক্লাস’ সাবমেরিন করাচিতে পৌঁছেছে। এই সাবমেরিন মোতায়েনের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে ইসলামাবাদ। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তানের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের নতুন এই সাবমেরিনের নাম রাখা হয়েছে পিএনএস হাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের তৎকালীন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ সাবমেরিনটি ভারতের ‘আইএনএস খুকরি’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে সেটিই ছিল প্রথম কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনা। যুদ্ধে পাকিস্তান পরাজিত হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তবে সেই ঘটনার ঐতিহাসিক প্রতীকী গুরুত্বকে সামনে রেখেই নতুন এই সাবমেরিন বহরের নামকরণ করা হয়েছে। পাকিস্তান মোট ৮টি হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে প্রথমটি গত সপ্তাহে করাচিতে এসে পৌঁছায়।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের ফ্লোটিলা এসকর্ট কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানান, এই নতুন হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিনটি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বহুদূর বাড়িয়ে দেবে। এটি পাকিস্তানকে নিজের উপকূলীয় আরব সাগর ছাড়িয়ে দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরেও নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখার শক্তি জোগাবে। এই সাবমেরিনগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রোপালশন’ প্রযুক্তি। এর ফলে সাবমেরিনগুলো ব্যাটারি চার্জ করার জন্য বারবার পানির ওপরে না উঠে, দীর্ঘ সময় পানির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে এদের সহজে ট্র্যাক করা বা শনাক্ত করা যায় না। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সাবমেরিনগুলোকে পাকিস্তানের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

পাকিস্তানের এই বঙ্গোপসাগরীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক দশক পর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের একটি যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে আসে। ১৯৭১ সালের পর এটিই ছিল বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের প্রথম আগমন।

পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২০ থেকে ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশের বিমান বাহিনীপ্রধান চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফর করে দেশটির তৈরি জেএফ-১৭ ফাইটার জেট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশ যৌথ নৌ মহড়া ‘আমান-২৫’-এ অংশ নেয়। এ ছাড়া করাচি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলও শুরু হয়েছে। সূত্রমতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ মহড়ার বিষয়গুলো রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই তৎপরতা ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের পূর্ব নৌ কমান্ড এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগতভাবে ভারতের একটি শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গেও ঢাকার সম্পর্কের নতুন উষ্ণতা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নৌবাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, যার কাছে রয়েছে পারমাণবিক সাবমেরিন এবং দুটি বিমানবাহী রণতরি। ফলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরের সার্বিক সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও, ভারতের কৌশলগত আঙিনায় তাদের এই নিয়মিত উপস্থিতি দিল্লির জন্য একটি স্থায়ী অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ন্যাটোর যেসব মিত্র দেশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না, তাদের জন্য মার্কিন তহবিল আটকে দেওয়া হতে পারে। এই মিত্রদের তিনি ‘ফ্রি রাইডার’ বা বিনা পয়সায় সুবিধাভোগী হিসেবে আখ্যা দেন।

ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এক বৈঠকে হেগসেথ এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যালোচনা প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ ছয় মাস চলবে। এ সময়ে মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। কারণ ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর সর্বনিম্ন সংখ্যা কত হবে, তা কংগ্রেসে আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত। হেগসেথ সরাসরি বলেননি এ পর্যালোচনার কারণে ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানো হবে কি না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর মূল লক্ষ্য ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষায় আরও বেশি জোর দেওয়া।

হেগসেথ বলেন, ‘ইউরোপ যাতে দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে ন্যাটোর নেতৃত্বে আসে, তা নিশ্চিত করার জন্যই এ পর্যালোচনা করা। কেননা, ইউরোপের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ইউরোপকেই নিতে হবে।’ পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় যেসব মিত্র দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেনি, হেগসেথ তাদের তীব্র সমালোচনা করেন। ওই যুদ্ধের সময় কিছু দেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি জানান, এ পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে মার্কিন বাহিনীর জন্য যেসব দেশের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করা হবে’।

তার এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো নিজেদের জরুরি সংকটকালীন বাহিনীর ঘাটতি পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। ওয়াশিংটন ন্যাটোর জরুরি বাহিনীতে নিজেদের সৈন্য কমানোর সিদ্ধান্তের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি দেখছেন এক ব্যক্তি। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গতকাল বৃহস্পতিবার একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তিতে সই করে ওয়াশিংটন ও তেহরান। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। 

লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাফার তেবনিত শহরে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এর আগে নিহতের সংখ্যা একজন বলে জানানো হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থাটি আরও জানায়, এর পাশাপাশি জেবদিন শহরে ইসরায়েলি হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।

লেবাননে গত ২ মার্চ থেকে চালানো ইসরায়েলি হামলায় শত শত শিশু, নারী, চিকিৎসক এবং জরুরি সেবাকর্মীসহ ৩ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেক লেবানিজ নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের কথা জানানো হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বড় জয়’ বলে দাবি করেছেন। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য এই চুক্তিতে ইরানকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও আর্থিক ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একপ্রকার আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন।

কয়েক দিন আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে আক্রমণের হুমকি দিচ্ছিলেন। তবে গত বুধবার তার বক্তব্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর দেখা গেছে। তিনি বলেন, বেসামরিক ব্যবহারের জন্য ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মৌলিক অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কোনো চাপ দেবে না। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ সম্পদ এখন ফেরত দিতে হবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে ইসরায়েল এবং রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে। কট্টরপন্থিরা ট্রাম্পকে তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। অন্যদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম এই চুক্তিকে একটি ‘মহাবিজয়’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

বুধবার তেহরান থেকে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজ শুক্রবার জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই চুক্তি নিয়ে ভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার একটি দলিল। মানুষ এটি দেখবে ও বিচার করবে।

নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মতো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে ইরানের প্রতি এত কঠোর হননি। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তি না হলে বিশ্বব্যাপী এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হতো। তার মতে, চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালি কখনোই উন্মুক্ত হতো না। তিনি বলেন, মাথার ওপর যখন রকেট ওড়ে এবং চারদিকে মাইন ছড়ানো থাকে, তখন কেউ শত কোটি ডলারের জাহাজ সেখানে ভাসাতে চায় না।

মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখবে। ইরান তাদের ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে ফেলার বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। এই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব ছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই এই মজুত কমিয়ে ফেলার বিষয়ে তিনি সম্মত আছেন।

জি-সেভেন সম্মেলনের শেষে ট্রাম্প যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন মার্কিন কর্মকর্তারা এই ১৪ দফা পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত জানান। এটি মূলত একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি। আরও স্থায়ী শান্তি ও পারমাণবিক আলোচনার পথ তৈরি করতে মার্কিন প্রশাসন প্রথমে এই চুক্তির মূল পাঠ প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব করেছিল।

এই চুক্তির ফলে ইরান বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবে। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে। এ ছাড়া ইরান যাতে বিদেশে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারে, সেজন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থেকে সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও অবরুদ্ধ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থায়নে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও এই চুক্তিতে রয়েছে।

তবে এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্থ দেবে না বলে ট্রাম্প রাগান্বিতভাবে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই অর্থায়ন ইরানের ভালো আচরণের ওপর নির্ভর করবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘যে কেউ চাইলে বিনিয়োগ করতে পারে। আমি কি বলব যে কেউ বিনিয়োগ করতে পারবে না? তবে আমরা কোনো বিনিয়োগ করছি না। আমরা ১০ সেন্টও দিচ্ছি না।’

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ছিল ইরানের একটি অন্যতম প্রধান দাবি। এর ফলে ইসরায়েল লেবাননে কোনো সামরিক অভিযান চালাতে পারবে না। চুক্তিতে লেবাননের ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতা’ বজায় রাখার একটি ধারা রয়েছে। তবে এর ফলে ইসরায়েল লেবাননে তৈরি করা তাদের ‘বাফার জোন’ বা অন্তর্বর্তী অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে কি না, তা মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি।

এর বিনিময়ে ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহসহ তার আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয়েছে। ইরান পুনরায় নিশ্চিত করেছে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। চুক্তির অধীনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগামী ৬০ দিন বিনা টোলে বা বিনা মূল্যে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে ইরানের আলোচক গালিবাফ জানিয়েছেন, ৬০ দিন পার হওয়ার পর ইরান এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি আর যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে ও সেবামূলক কাজের জন্য আমরা অবশ্যই ফি নেব।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফরেন পলিসি প্রোগ্রামের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজান ম্যালোনি এই চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রশাসনের পক্ষে এত কম সময়ে পারমাণবিক বিষয়ের মতো জটিল ও বিস্তারিত চুক্তি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব। তিনি মন্তব্য করেন, এই চুক্তিতে ইরান শুরুতেই অনেক বেশি সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে। তারা নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই তেল রপ্তানি করতে পারবে, যা এই মুহূর্তে অবাস্তব মনে হচ্ছে। এর ফলে ইরান খুব দ্রুত প্রচুর অর্থ উপার্জন করবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান