ইরানে হামলার পর কিছুটা আড়াল হয়ে গেছে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা। তবে থেমে নেই ইসরায়েলি হামলায় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানি। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকায় আরও অন্তত ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
নিহতদের মধ্যে পূর্ববর্তী হামলায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা দু’জনের মরদেহও রয়েছে। একই সময়ে হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮২ জন।
নিহতদের মধ্যে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত খাদ্যসাহায্য বিতরণকেন্দ্রগুলোর কাছে ইসরায়েলি গুলিতে অন্তত ৩৪ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ত্রাণ নিতে গিয়ে এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা।
প্রতিদিনই ত্রাণ সংগ্রহের পথে ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। সহায়তার আশায় হাজারো মানুষ প্রতিদিনই যাচ্ছেন এসব কেন্দ্রের দিকে, যেগুলো পরিচালনা করছে বেসরকারি সংস্থা ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (GHF)।
GHF-এর রাফাহ কেন্দ্রের সামনে খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুই ফিলিস্তিনি, হেবা জুদা ও মোহাম্মদ আবেদ, জানিয়েছেন, রাত প্রায় ৪টার দিকে ফ্ল্যাগ রাউন্ডআবাউটে ইসরায়েলি সেনারা জনতার ওপর গুলি ছোড়ে। একই স্থানে এর আগেও বহুবার গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মাসে GHF-এর ত্রাণকেন্দ্রগুলো চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত এবং কয়েক শতাধিক আহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চলমান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের আরোপিত ত্রাণ প্রবেশে কড়াকড়ির কারণে গাজার ২৩ লাখ মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই রাফাহ শহরের কাছে অবস্থিত GHF কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন। তবে খান ইউনুস শহরের উপকণ্ঠে নতুন খোলা একটি বিতরণকেন্দ্রের পথেও কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৪৩২ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ২৮ হাজার ৯২৩ জন।
গত মার্চ মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করার পর থেকে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ১৩৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং আহত করেছে আরও ১৬ হাজার ৮৮২ জনকে। সূত্র: আল জাজিরা