ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বেশ দোদুল্যমান। তিনি প্রথমে ছিলেন ইসরায়েলের পক্ষে। পরে তিনি কিছুটা দূরে সরে আসেন। এখন আবার তিনি কথা বলছেন ইসরায়েলের পক্ষে।
মূলত গোটা বিষয়টি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, সেটিই ফুটে উঠেছে তার এ ভূমিকার মধ্য দিয়ে। কানাডায় জি৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখান থেকে ট্রাম্প অনেকটা তড়িঘড়ি করেই বিদায় নিয়েছেন। যাওয়ার আগে জানিয়ে গেছেন, ওয়াশিংটনে ‘বড় কাজ’ রয়েছে তার।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনার জন্যই কানাডা থেকে এত দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুদ্ধবিরতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
ট্রাম্পের এসব কর্মকাণ্ডের আগেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোপুরিভাবে সমন্বয় করে এ হামলাগুলো করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আসলে ট্রাম্পের সামনে কোন পথগুলো খোলা রয়েছে।
১. নেতানিয়াহুর চাপে নতিস্বীকার
বর্তমান পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপের সামনে নতিস্বীকার করতে পারেন এবং সামগ্রিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে।
ট্রাম্প এরই মধ্যে তেহরানের নেতৃস্থানীয়কে হুমকি দিয়েছেন যে মার্কিন বোমা দিয়ে ইসরায়েল ইরানে আরও ভয়ানক হামলা চালাতে পারবে।
ট্রাম্পের মনোভাবও কারও অজানা নেই। তিনিও নেতানিয়াহুর মতোই চান যে ইরানের কোনো পারমাণবিক বোমা না থাকুক। তবে গোটা পরিস্থিতিকে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সামাল দিতে চান। কখনো নরম সুরে, আবার কখনো হুমকি দিয়ে ট্রাম্প এতদিন চেষ্টা করেছেন সবকিছু সামাল দিতে।
তবে এখন তিনি কোন পথে হাঁটবেন, সেটিই দেখার বিষয়। ট্রাম্পের কয়েকজন উপদেষ্টা ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের পক্ষে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুও ক্রমশ ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন।
ইসরায়েল হয়তো পর্দার আড়ালে চাপ আরও বৃদ্ধি করছে। কারণ তারা যা শুরু করেছে, তা শেষ করার সক্ষমতা তাদের নেই। ট্রাম্পের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা, যারা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের শাসক বদলাতে চাইছেন।
২. বর্তমান অবস্থান ধরে রাখা
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প বলছেন, ইসরায়েলের আক্রমণের সঙ্গে জড়িত নয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষায় পরোক্ষভাবে হলেও সহায়তা করছে তারা। ফলে পুরো বিষয়টি আরও বড় হওয়ার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। তবে ট্রাম্পের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপদেষ্টাদের মধ্যে অনেকে চান না যে ইসরায়েলকে এ বিষয়ে কোনো সহায়তা করা হোক।
এমনকি নেতানিয়াহু চাইছেন সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা করলেই পুরো বিষয়টি থেমে যাবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওই পরিকল্পনায় সায় দেননি। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছেন, এটির বিরুদ্ধে তিনি।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থানও ধরে রাখতে পারেন।
৩. মাগা সমর্থকদের কথা শুনতে পারেন
ট্রাম্পের দলের অনেকের ইসরায়েলের প্রতি তীব্র সমর্থন থাকলেও তার ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা মতাদর্শের সমর্থকরা কিন্তু এর বিপক্ষে।
ট্রাম্প তাদের সামনে আগেই বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে এসেছেন। এখন তাদের কথা হলো- কেন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে সময় নষ্ট করছে? যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের এখন নিজেকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা।
ট্রাম্প সমর্থকখ্যাত সাংবাদিক টাকার কার্লসনও এ বিষয় নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, প্রশাসনের উচিত এখন ইসরায়েলের সঙ্গ ত্যাগ করা। মাগা সমর্থকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহু ও তার যুদ্ধের জন্য ক্ষুধার্ত মন্ত্রিসভা দিনশেষে মার্কিন সেনাদেরকে টেনে নিয়ে যুদ্ধের মধ্যে ফেলবে।
কার্লসন সরাসরি বলেছেন, এতে জড়ানো মানে লাখ লাখ ভোটারকে উপেক্ষা করা। যারা এমন সরকারের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছিল যে কি না যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেবে।’
যেহেতু এ বিষয়টিও তার ওপর চাপ তৈরি করছে, ট্রাম্পকে এ পথেও হাঁটতে দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প মার্কিন স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে না। সূত্র: বিবিসি