ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ‘যুদ্ধ শুরু’ ঘোষণা করার এবং ইসরায়েলিদের প্রতি ‘কোনো দয়া না দেখানোর’ আহ্বান জানানোর পর ইরান ইসরায়েলে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের কিছুক্ষণ পরেই ইসরায়েলের বিশাল অংশ জুড়ে সাইরেন বাজতে শুরু করে। প্রথম আক্রমণে প্রায় ১৫টি প্রজেক্টাইল অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রায় ৪০ মিনিট পরে প্রায় ১০টি রকেটের পরবর্তী আক্রমণ শুরু হয়। এর ফলে মধ্য ইসরায়েল এবং পশ্চিম তীরের বেশ কয়েকটি বসতিতে সতর্কতা জারি করা হয়।
হামলার কয়েক মিনিট আগে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এসব হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মধ্য ইসরায়েলের একটি পার্কিং লটে আগুন লেগে অসংখ্য গাড়ি পুড়ে যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘ফাত্তাহ-১ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে গর্বিত অপারেশন অনেস্ট প্রমিজ ৩-এর ১১তম ধাপ’ পরিচালিত হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করে, ‘ইরানি বাহিনী ইসরায়েলের আকাশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।’
তাছাড়া, মঙ্গলবার রাতে সন্দেহভাজন ড্রোন অনুপ্রবেশের কারণে মৃত সাগরের আশেপাশে রাতভর সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয় এবং বুধবার সকাল ৬টার কিছু আগে উত্তরাঞ্চলেও সাইরেন বাজানো হয়। এর পর আইডিএফ জানায়, বিমান বাহিনী পূর্ব দিক থেকে একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে (পূর্ব দিক বলতে সামরিক বাহিনী পূর্বে ইরাক এবং ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলিকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়)।
মঙ্গলবার জুড়ে রাতারাতি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর বেশ কয়েকটি ছোট ছোট আক্রমণ চালায় ইরান। আইডিএফ জানায়, তারা বিশ্বাস করে যে ইসরায়েলি হামলার ফলে ইরানের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, তাই আক্রমণের পরিধিও কমে আসছে।
বুধবার ভোরে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর খামেনি তার ইংরেজি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘আমাদের অবশ্যই সন্ত্রাসী ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে হবে। আমরা ইহুদিবাদীদের প্রতি কোনও দয়া দেখাব না।’
তিনি হিব্রু ভাষায় একই রকম একটি টুইট এবং ফারসি ভাষায় একটি শিয়া-থিমযুক্ত পোস্ট প্রকাশ করেছেন যেখানে ‘যুদ্ধ শুরু হচ্ছে’ বলে উল্লেখ করা হয় এবং খায়বারে ফিরে আসার দাবি করা হয়। এই খয়বার শহর ৭ম শতাব্দীতে মুসলিম বাহিনী ইহুদিদের পরাজিত করে জয় করেছিল।
পোস্টটিতে একটি ছবি দেখানো হয়, যেখানে এক ব্যক্তি তরবারি হাতে দুর্গের মতো একটি গেটে প্রবেশ করছেন, যার উপরে আকাশে আগুনের রেখা রয়েছে।
এদিকে, আইডিএফ বুধবার তেহরানের ১৮ নম্বর জেলায় বসবাসকারীদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করে জানায়, ইসরায়েল সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই এলাকায় হামলা পরিচালনার পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
এর কিছুক্ষণ পরেই, সামরিক বাহিনী ঘোষণা করে যে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের রাজধানীতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ইসরায়েল পূর্ব তেহরানে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। তাছাড়া রাজধানীর কাছে এবং কারাজ শহরে খোজির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকেন্দ্রে বিস্ফোরণ হয়েছে। এখানে ইসরায়েল আগে একটি সেন্ট্রিফিউজ কারখানা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ দূর করার লক্ষ্যে ইরানে ইসরায়েলি অভিযান এখন ষষ্ঠ দিনে পৌঁছেছে।
ইসরায়েল বলেছে যে, ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাইট এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর তাদের ব্যাপক আক্রমণ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার জন্য প্রয়োজন। তারা ইহুদি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইরান ইসরায়েলে ৩৭০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত ড্রোন ছুঁড়ে প্রতিশোধ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে ২৪ জন নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ইরানে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২২৪ জন নিহত হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
অমিয়/