ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন
Nagad desktop

ইরানে হামলা করে যুদ্ধে জড়াল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৫, ০৯:১৯ এএম
ইরানে হামলা করে যুদ্ধে জড়াল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

অনেক নাটকের পর শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে জড়াল যুক্তরাষ্ট্র।

রবিবার (২২ জুন) ভোররাতে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিডনাইট হ্যামার’। যেসব পরমাণু স্থাপনায় হামলা করা হয় সেগুলো হলো নাতাঞ্জ, ফোর্দো ও ইস্ফাহান। হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরান-ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের উত্তেজনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। ইরান এই হামলার কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। 

দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘আমেরিকানদের তাদের আগ্রাসনের জবাব অবশ্যই পেতে হবে। হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক জ্ঞান ‘ধ্বংস করা যাবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি। হামলার পরই ইরান ইসরায়েলে স্মরণকালের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে ৮৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলও ইরানের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে গতকাল রাতে হামলা চালিয়েছে। 

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করায় সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ‘বড় ধরনের ঝুঁকি’ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা। ইরানি পার্লামেন্টে এই প্রণালি বন্ধের ব্যাপারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করার বিষয়ে ইরানকে রাজি করানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ‘দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে’ জড়ানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আগ্রহ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শান্তি নিশ্চিত করার জন্যই শনিবার রাতে ইরানে সীমিত পরিসরে হামলা চালানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

হামলার পর এক সংক্ষিপ্ত টেলিভিশন ভাষণে ইরানকে উদ্দেশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এখনো অনেক টার্গেট বাকি। সেগুলোর মধ্যে আজ শনিবার রাতের (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রবিবার ভোর) টার্গেট ছিল সবচেয়ে ব্যাপক আর সম্ভবত সবচেয়ে প্রাণঘাতী। যদি দ্রুত শান্তি না আসে, আমরা নির্ভুল নিশানা, গতি ও দক্ষতায় অন্য লক্ষ্যগুলোতেও আঘাত করব।’ 

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি এবং সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’ 

তবে বিবিসি নিউজ চ্যানেলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাজনীতি ও সামরিকবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট বলেছেন, ‘এসব স্থাপনা চিরতরে ধ্বংস হয়েছে, এমনটি বলার সুযোগ নেই।’ অন্য একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একে ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং বিশ্বের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ইরানকে এখন এই যুদ্ধ শেষ করতে রাজি হতে হবে।’

মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএসকে নিশ্চিত করেছেন, হামলায় ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি) ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুর জন্য দুটি করে বোমা ফেলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার পরিকল্পনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণ সমন্বয়’ করে করেছেন।

হামলার পর স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা এলাকায় ছয়টি নতুন গর্ত দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পরই এই গর্তগুলো সৃষ্টি হয়েছে। তবে হামলার পর এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়নি বলেও জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে হামলার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অসাধারণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ শক্তি ইতিহাস বদলে দেবে।’ ট্রাম্প ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘গভীর ভূগর্ভস্থ ফোর্দো স্থাপনায় পাঁচ থেকে ছয়টি ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা ফেলা হয়েছে। অন্যান্য পারমাণবিক স্থাপনায় নিক্ষেপ করা হয় ৩০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলো সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন বি-টু বোমারু বিমান হামলায় জড়িত ছিল। গতকাল সকালে এমন খবর পাওয়া যায় যে বি-টু বোমারু বিমান, যা তথাকথিত ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা বহনে সক্ষম, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাচ্ছিল।

সংবাদদাতারা বলছেন, মার্কিন হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন বড় ধরনের দাবানলের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজা ও লেবাননে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইসরায়েল তার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। আইডিএফ সারা দেশে জননিরাপত্তা বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে ‘শিক্ষা কার্যক্রম, জমায়েত এবং কর্মস্থলে যাওয়া’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ইরানে মার্কিন হামলার পর পরই কার্যকর হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার কূটনৈতিকভাবে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা বিমান হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তারা ‘সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা’ করছে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসির মার্কিন সহযোগী গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। এখন সম্ভাবনা রয়েছে ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে টার্গেট করতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই গত ১৩ জুন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েল। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, ‘এই হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’ শুধু ইরানই নয়, বরং আমেরিকার জনগণের সঙ্গেও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন তিনি। মাত্র দুই দিন আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি ইরানকে অর্থবহ আলোচনায় বসার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেবেন, তারপর হামলা করবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক ছোট হয়ে গেল।

এদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। ইরানের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার।

তিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা 

যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত করেছে। এসব স্থাপনা হলো ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্ফাহান। ফোর্দো হলো ইরানে পাহাড়ের ভেতরে লুকানো স্থাপনা যা তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত। ধারণা করা হয়, এর অবস্থান ভূপৃষ্ঠের এত গভীরে যে এটি যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সকে যুক্ত করা চ্যানেল টানেলের চেয়েও নিচে। 

ফোর্দোর এই পারমাণবিক স্থাপনা ভূপৃষ্ঠ থেকে এতটা গভীরে থাকার কারণে ইসরায়েলের অস্ত্র দিয়ে এটি ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই কেবল ‘বাংকার বাস্টার’ নামে এমন একটি বড় ও শক্তিশালী বোমা আছে যা ফোর্দো ধ্বংস করতে পারে। 

এই মার্কিন বোমার নাম জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি)। এর ওজন ১৩ হাজার কেজি এবং এটি বিস্ফোরণের আগে প্রায় ১৮ মিটার কংক্রিট বা ৬১ মিটার মাটি ভেদ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ফোর্দোর টানেলগুলো মাটি থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মিটার গভীরে বলে ধারণা করা হয়। এমওপি তাই সফল হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তবে এটাই একমাত্র বোমা যা এতটা গভীরে পৌঁছাতে পারে।

হামলায় বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমানের ব্যবহার

ইরানে হওয়া হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান ছিল বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা। মাটির নিচে ৬০ মিটার গভীরে অবস্থিত স্থাপনায় আঘাত করতে সক্ষম ৩০ হাজার পাউন্ডের বোমা জিবিইউ ৫৭ শুধু এই বিমানই নিক্ষেপ করতে পারে। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চার হাজার কিলোমিটারের মধ্যে থাকা একটি বিমানঘাঁটিতে এই ধরনের কয়েকটি বিমান নিয়ে রেখেছিল। তবে দুই দিন আগে এই ধরনের কয়েকটি বিমান ইরান থেকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কিলোমিটার দূরের বিমানঘাঁটিতে নিয়ে রাখা হয়।

ইরান যেভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল এরই মধ্যে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোয় আঘাত হেনে তাদের যথেষ্ট দুর্বল করে ফেলেছে। ইরানের আঞ্চলিক মিত্র যেমন লেবাননের হিজবুল্লাহ, সেই সঙ্গে সিরিয়া এবং গাজায় হামাসকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে। তবুও ইরান এখনো বড় ধরনের ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে।

ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে না জড়াতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন তাতে ‘অশেষ ক্ষতি’ হবে এবং এই অঞ্চলে ‘পূর্ণ যুদ্ধের’ ঝুঁকি তৈরি হবে। ইরান হুমকি দিয়েছে তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করবে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে; যেমন বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। সবচেয়ে স্পষ্ট টার্গেটগুলোর একটি হলো মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর, যেটি বাহরাইনের মিনা সালমানে অবস্থিত। একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটেও ইরান আঘাত করতে পারে যার নাম হরমুজ প্রণালি। এতে যুদ্ধ গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব পেতে হবে

ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন যে আমেরিকাকে তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ‘প্রতিক্রিয়া পেতে হবে’। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘আমেরিকানদের তাদের আগ্রাসনের জবাব অবশ্যই পেতে হবে। ইরানের সরকারি আইআরএনএ সংবাদ সংস্থা এ খবর জানায়।

কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট এককভাবে কোনো দেশে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন না। শুধু কংগ্রেস অর্থাৎ নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সিনেটে নির্বাচিত আইনপ্রণেতারাই তা করতে পারেন। তবে আইনে বলা আছে, প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বা কমান্ডার ইন চিফ। এর অর্থ হচ্ছে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করেও সেনা মোতায়েন ও সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। ২০১৭ সালে ট্রাম্প সিরিয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিমান হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই। 

ওয়াশিংটন অনুশোচনা করবে: আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, তারা ওয়াশিংটনকে এমনভাবে পাল্টা জবাব দেবে যে তারা অনুশোচনা করতে বাধ্য হবে। তারা দাবি করেছে, আমেরিকার ওই হামলা ‘প্রকাশ্য অপরাধ’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘আমেরিকার আগ্রাসী আচরণ ইরানকে এমন পথে ঠেলে দিয়েছে যার ফলে ইরানকে বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে অন্যদের চিন্তা ও আক্রমণকারীদের হিসাবের বাইরে বিকল্প বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।’ 

জরুরি বৈঠক ডেকেছে আইএইএ

ইরানে মার্কিন হামলার পর আজ সোমবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ। ইরানে সৃষ্ট জরুরি পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে আইএইএ প্রধান এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলাম আইএইএকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, তেহরান চায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে তদন্ত হোক।

রাশিয়া গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গতকাল মস্কো গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আজ সোমবার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। 

সূত্র: বিবিসি,ডন,আল-জাজিরা ও সিএনএন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন এই খসড়া চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে।

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন কূটনীতিক এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই খসড়াটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রকৃত রূপ নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনাকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত নথিতে স্বাক্ষর করবেন। তার আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই খসড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই স্মারককে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে যে মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা এই নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

খসড়া চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে দুই দেশ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধ অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে শেষ হবে। দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় স্বাক্ষর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান মাইন অপসারণসহ সব প্রযুক্তিগত বাধা দূর করবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এ ছাড়া ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিশ্চিত করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে ইরান যাতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ওয়েভার ইস্যু করবে। একই সঙ্গে ইরানের ফ্রিজ বা আটকে থাকা সব তহবিল ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে এবং ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংক তা ব্যবহার করতে পারবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই খসড়ায় সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশই বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অর্থাৎ ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়াবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা ওই অঞ্চলে সেনা বাড়াবে না। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়নের পর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে। আগামীকাল এই স্মারক স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

 সূত্র: সিএনএন

ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননে আবারও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।

বুধবার (১৭ জুন) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ইরান সংঘাত এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মানবিক সংকটে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ‘বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সেখানে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে সহায়তা করা যায়।”

এটি চলমান সংঘাত শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে চীনের মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ। এর আগে মার্চ মাসেও বেইজিং তেহরানে সহায়তা পাঠিয়েছিল।

চীনের সহয়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩,৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে চীনের এমন পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাকে উপক্ষা করেই লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

তবে এর আগে তারা বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য হওয়া চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলেছে, ওই সমঝোতায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল "অনেক দিন ধরে" হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে "অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে।"

এসএন/

চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর বাস্তবায়নে তিনি সন্তুষ্ট না হলে আবারও ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবার গুলি চালাবো এবং তাদের ওপর বোমা ফেলবো।"

"তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বেঁ শহরে সোমবার শুরু হওয়া জি–৭ শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শেষ হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে তাঁরা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এসএন/

জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাঙালি মুসলমানদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, ঠেলে পাঠানো ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বাংলাদশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। এতে করে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো লাইন) আটকা পড়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত পহেলা জুন থেকে বিএসএফের ২১টি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ঠেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে যে বিজেপি সরকারের "ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট" নীতির আওতায় শত শত “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে” আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে "ফিরে যেতে" বাধ্য করা হয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাকশী গাঙ্গুলী বলেন, "মৌলিক মানবাধিকারকে উপেক্ষা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নির্মমভাবে পরিবারগুলোকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে"।

তিনি আরও বলেন যে ভারত সরকারের উচিত এই জোরপূর্বক বহিষ্কার বন্ধ করা, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা ও মুসলমানদের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ আচরণ বন্ধ করা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও জানায়, তারা এমন নয়জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে লোকজনকে সীমান্তে এনে কাঁটাতারের বেড়ার কাটা অংশ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি প্রবেশে বাধা দিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের আবার ফিরিয়ে নেয়।

এসএন/