অনেক নাটকের পর শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে জড়াল যুক্তরাষ্ট্র।
রবিবার (২২ জুন) ভোররাতে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিডনাইট হ্যামার’। যেসব পরমাণু স্থাপনায় হামলা করা হয় সেগুলো হলো নাতাঞ্জ, ফোর্দো ও ইস্ফাহান। হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরান-ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের উত্তেজনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। ইরান এই হামলার কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘আমেরিকানদের তাদের আগ্রাসনের জবাব অবশ্যই পেতে হবে। হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক জ্ঞান ‘ধ্বংস করা যাবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি। হামলার পরই ইরান ইসরায়েলে স্মরণকালের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে ৮৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলও ইরানের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে গতকাল রাতে হামলা চালিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করায় সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ‘বড় ধরনের ঝুঁকি’ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা। ইরানি পার্লামেন্টে এই প্রণালি বন্ধের ব্যাপারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করার বিষয়ে ইরানকে রাজি করানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ‘দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে’ জড়ানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আগ্রহ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শান্তি নিশ্চিত করার জন্যই শনিবার রাতে ইরানে সীমিত পরিসরে হামলা চালানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
হামলার পর এক সংক্ষিপ্ত টেলিভিশন ভাষণে ইরানকে উদ্দেশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এখনো অনেক টার্গেট বাকি। সেগুলোর মধ্যে আজ শনিবার রাতের (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রবিবার ভোর) টার্গেট ছিল সবচেয়ে ব্যাপক আর সম্ভবত সবচেয়ে প্রাণঘাতী। যদি দ্রুত শান্তি না আসে, আমরা নির্ভুল নিশানা, গতি ও দক্ষতায় অন্য লক্ষ্যগুলোতেও আঘাত করব।’
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি এবং সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’
তবে বিবিসি নিউজ চ্যানেলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাজনীতি ও সামরিকবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট বলেছেন, ‘এসব স্থাপনা চিরতরে ধ্বংস হয়েছে, এমনটি বলার সুযোগ নেই।’ অন্য একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একে ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং বিশ্বের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ইরানকে এখন এই যুদ্ধ শেষ করতে রাজি হতে হবে।’
মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএসকে নিশ্চিত করেছেন, হামলায় ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি) ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুর জন্য দুটি করে বোমা ফেলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার পরিকল্পনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণ সমন্বয়’ করে করেছেন।
হামলার পর স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা এলাকায় ছয়টি নতুন গর্ত দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পরই এই গর্তগুলো সৃষ্টি হয়েছে। তবে হামলার পর এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়নি বলেও জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে হামলার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অসাধারণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ শক্তি ইতিহাস বদলে দেবে।’ ট্রাম্প ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘গভীর ভূগর্ভস্থ ফোর্দো স্থাপনায় পাঁচ থেকে ছয়টি ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা ফেলা হয়েছে। অন্যান্য পারমাণবিক স্থাপনায় নিক্ষেপ করা হয় ৩০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলো সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন বি-টু বোমারু বিমান হামলায় জড়িত ছিল। গতকাল সকালে এমন খবর পাওয়া যায় যে বি-টু বোমারু বিমান, যা তথাকথিত ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা বহনে সক্ষম, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাচ্ছিল।
সংবাদদাতারা বলছেন, মার্কিন হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন বড় ধরনের দাবানলের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজা ও লেবাননে ভয়াবহ সংঘাত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইসরায়েল তার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। আইডিএফ সারা দেশে জননিরাপত্তা বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে ‘শিক্ষা কার্যক্রম, জমায়েত এবং কর্মস্থলে যাওয়া’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ইরানে মার্কিন হামলার পর পরই কার্যকর হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার কূটনৈতিকভাবে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা বিমান হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তারা ‘সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা’ করছে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসির মার্কিন সহযোগী গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। এখন সম্ভাবনা রয়েছে ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে টার্গেট করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই গত ১৩ জুন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েল। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, ‘এই হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’ শুধু ইরানই নয়, বরং আমেরিকার জনগণের সঙ্গেও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন তিনি। মাত্র দুই দিন আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি ইরানকে অর্থবহ আলোচনায় বসার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেবেন, তারপর হামলা করবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক ছোট হয়ে গেল।
এদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। ইরানের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার।
তিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা
যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত করেছে। এসব স্থাপনা হলো ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্ফাহান। ফোর্দো হলো ইরানে পাহাড়ের ভেতরে লুকানো স্থাপনা যা তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত। ধারণা করা হয়, এর অবস্থান ভূপৃষ্ঠের এত গভীরে যে এটি যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সকে যুক্ত করা চ্যানেল টানেলের চেয়েও নিচে।
ফোর্দোর এই পারমাণবিক স্থাপনা ভূপৃষ্ঠ থেকে এতটা গভীরে থাকার কারণে ইসরায়েলের অস্ত্র দিয়ে এটি ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই কেবল ‘বাংকার বাস্টার’ নামে এমন একটি বড় ও শক্তিশালী বোমা আছে যা ফোর্দো ধ্বংস করতে পারে।
এই মার্কিন বোমার নাম জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি)। এর ওজন ১৩ হাজার কেজি এবং এটি বিস্ফোরণের আগে প্রায় ১৮ মিটার কংক্রিট বা ৬১ মিটার মাটি ভেদ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ফোর্দোর টানেলগুলো মাটি থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মিটার গভীরে বলে ধারণা করা হয়। এমওপি তাই সফল হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তবে এটাই একমাত্র বোমা যা এতটা গভীরে পৌঁছাতে পারে।
হামলায় বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমানের ব্যবহার
ইরানে হওয়া হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান ছিল বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা। মাটির নিচে ৬০ মিটার গভীরে অবস্থিত স্থাপনায় আঘাত করতে সক্ষম ৩০ হাজার পাউন্ডের বোমা জিবিইউ ৫৭ শুধু এই বিমানই নিক্ষেপ করতে পারে। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চার হাজার কিলোমিটারের মধ্যে থাকা একটি বিমানঘাঁটিতে এই ধরনের কয়েকটি বিমান নিয়ে রেখেছিল। তবে দুই দিন আগে এই ধরনের কয়েকটি বিমান ইরান থেকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কিলোমিটার দূরের বিমানঘাঁটিতে নিয়ে রাখা হয়।
ইরান যেভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল এরই মধ্যে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোয় আঘাত হেনে তাদের যথেষ্ট দুর্বল করে ফেলেছে। ইরানের আঞ্চলিক মিত্র যেমন লেবাননের হিজবুল্লাহ, সেই সঙ্গে সিরিয়া এবং গাজায় হামাসকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে। তবুও ইরান এখনো বড় ধরনের ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে।
ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে না জড়াতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন তাতে ‘অশেষ ক্ষতি’ হবে এবং এই অঞ্চলে ‘পূর্ণ যুদ্ধের’ ঝুঁকি তৈরি হবে। ইরান হুমকি দিয়েছে তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করবে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে; যেমন বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। সবচেয়ে স্পষ্ট টার্গেটগুলোর একটি হলো মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর, যেটি বাহরাইনের মিনা সালমানে অবস্থিত। একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটেও ইরান আঘাত করতে পারে যার নাম হরমুজ প্রণালি। এতে যুদ্ধ গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব পেতে হবে
ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন যে আমেরিকাকে তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ‘প্রতিক্রিয়া পেতে হবে’। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘আমেরিকানদের তাদের আগ্রাসনের জবাব অবশ্যই পেতে হবে। ইরানের সরকারি আইআরএনএ সংবাদ সংস্থা এ খবর জানায়।
কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট এককভাবে কোনো দেশে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন না। শুধু কংগ্রেস অর্থাৎ নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সিনেটে নির্বাচিত আইনপ্রণেতারাই তা করতে পারেন। তবে আইনে বলা আছে, প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বা কমান্ডার ইন চিফ। এর অর্থ হচ্ছে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করেও সেনা মোতায়েন ও সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। ২০১৭ সালে ট্রাম্প সিরিয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিমান হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই।
ওয়াশিংটন অনুশোচনা করবে: আইআরজিসি
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, তারা ওয়াশিংটনকে এমনভাবে পাল্টা জবাব দেবে যে তারা অনুশোচনা করতে বাধ্য হবে। তারা দাবি করেছে, আমেরিকার ওই হামলা ‘প্রকাশ্য অপরাধ’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘আমেরিকার আগ্রাসী আচরণ ইরানকে এমন পথে ঠেলে দিয়েছে যার ফলে ইরানকে বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে অন্যদের চিন্তা ও আক্রমণকারীদের হিসাবের বাইরে বিকল্প বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।’
জরুরি বৈঠক ডেকেছে আইএইএ
ইরানে মার্কিন হামলার পর আজ সোমবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ। ইরানে সৃষ্ট জরুরি পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে আইএইএ প্রধান এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলাম আইএইএকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, তেহরান চায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে তদন্ত হোক।
রাশিয়া গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গতকাল মস্কো গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আজ সোমবার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি,ডন,আল-জাজিরা ও সিএনএন।