যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টেসলা-স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের মধ্যে সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইলন মাস্ককে তার জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তিনি বিবেচনায় নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মাস্ককে দেশ ছাড়া করার বিষয়টি দেখছি। এ ব্যাপারে ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) আমাদের সাহায্য করবে। এটি (ডিওজিই) সেই দানব যা ইলনকে খেয়ে ফেলবে।’
ডিওজিই হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন গঠিত একটি দপ্তর, যার কাজ হলো সরকারি ব্যয় কমানো। শুরুতে এই দপ্তরের প্রধান করা হয়েছিল ইলন মাস্ককে। তবে কিছুদিন পর তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন এবং ট্রাম্পের বাজেট ও ট্যাক্স বিলের সমালোচনা শুরু করেন। এরপর থেকেই দুজনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইলনের কোম্পানিগুলো (বিশেষ করে স্পেসএক্স ও টেসলা) সরকারের কাছ থেকে বিপুল ভর্তুকি পায়। ভর্তুকি ছাড়া ইলনের ব্যবসা চলা কঠিন।’ জবাবে মাস্ক বলেন, ‘তিনি চান সরকার সব ভর্তুকি বন্ধ করে দিক।’
মাস্ক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রিপাবলিকানদের মধ্যে যারা ট্রাম্পের বাজেট বিলকে সমর্থন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনে প্রচার চালাবেন তিনি।
পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আরও কড়া ভাষায় লেখেন, ‘ভর্তুকি ছাড়া ইলনকে সব ব্যবসা গুটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হবে। স্পেসএক্সের আর কোনো রকেট বা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হবে না, টেসলার গাড়িও তৈরি হবে না।’
নতুন দল গঠনের কথা মাস্কের মুখে
ইলন মাস্কের ওজর-আপত্তি কানে না তুলে নিজের ‘বিগ, বিউটিফুল’ বিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসবের মধ্যেই মাস্ক আবার ট্রাম্পের জোরালো সমালোচনা শুরু করেছেন এবং নিজের নতুন দল গঠনের কথা নতুন করে বলতে শুরু করেছেন।
ট্রাম্পের ৯৪০ পৃষ্ঠার ‘বিগ, বিউটিফুল’ বিলে কর রেয়াতের প্রস্তাব করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাত ও খাদ্য কর্মসূচিতে খরচ কমানোর কথা বলা হয়েছে। বিলটি নিয়ে যে ইলন একা সমালোচনা করছেন, তা নয়। ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতারাও সমালোচনায় মুখর হয়েছেন এই বিল নিয়ে।
গত সোমবার নতুন করে আবার বিলটি নিয়ে সমালোচনা করেন মাস্ক। তিনি বলেন, সময় এসেছে নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে তোলার, যা আসলেই জনসাধারণের কথা চিন্তা করবে। তবে ইলন মাস্ক আদৌ নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে তুলবেন কি-না বা মার্কিন কংগ্রেসের ওপর তার কতটা প্রভাব রয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের ‘বিগ, বিউটিফুল বিল’ সিনেটে পাস
সামান্য ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটে গতকাল পাস হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিগ, বিউটিফুল’ বিল। এর মাধ্যমে প্রস্তাবিত এ বিলটি আরেকটি বড় প্রতিবন্ধকতা পার করল।
এখন বিলটি আবারও আইনসভার নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে যাবে। যেখানে বিলটি আরও বাধার মুখে পড়বে। এর আগে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানের প্রতিনিধিরা মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে পাস করে সিনেটে পাঠিয়েছিলেন।
ট্রাম্প রিপাবলিকানদের আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। এর মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করে তার কাছে পাঠাতে বলেছেন, যেন এতে স্বাক্ষর করে দ্রুত এটি আইনে পরিণত করতে পারেন।
আজকে সিনেটে ভোটের জন্য তোলা হলে বিলটির পক্ষে ৫০ আর বিপক্ষে ৫০ জন ভোট দেন। তখন টাই- ব্রেকিং পাওয়ার ব্যবহার করে এটি পাস করান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি, এনবিসি নিউজ