ইরাকের একটি গুহায় জঙ্গিদের হাতে নিহত সহকর্মীর দেহাবশেষ খুঁজতে গিয়ে বিষাক্ত মিথেন গ্যাসে ১২ তুর্কি সেনা নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে সিবিএস নিউজ এই তথ্য জানায়।
ইরাকি গুহায় জঙ্গিদের হাতে নিহত সহকর্মীর দেহাবশেষ খুঁজতে গিয়ে মিথেন গ্যাসে ১২ তুর্কি সেনার মৃত্যু হয়েছে। এই সেনারা কুর্দি জঙ্গিদের হাতে আগে নিহত এক সহকর্মীর দেহাবশেষের সন্ধান করছিল।
তুর্কি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেনারা যখন একটি পাহাড়ি গুহায় তল্লাশি চালাচ্ছিল তখন তাদের মধ্যে ১৯ জন গ্যাসের সংস্পর্শে আসে। এরপর অভিযানের সময় মিথেন গ্যাসের কারণে ১৯ সেনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গত রবিবার পাঁচজন সৈন্য বর্ণহীন, গন্ধহীন, দাহ্য এই গ্যাসে শ্বাসরোধ হওয়ার কারণে মারা যান এবং পরে সোমবার হাসপাতালে আরও সাতজন মারা যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
মিথেন সরাসরি বিষাক্ত গ্যাস না হলেও এটি ঘনবদ্ধ ও সংকীর্ণ স্থানে শ্বাসরোধকারী হয়ে উঠতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে। কিভাবে গুহায় এত বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন জমে ছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সোমবার নিহতদের মরদেহ দক্ষিণাঞ্চলীয় হাক্কারি প্রদেশের একটি বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠানের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় সেখানে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনাটি ‘ক্ল-লক অপারেশন অঞ্চলে’ ঘটেছে। এটি ২০২২ সালের এপ্রিলে উত্তর ইরাকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে-র বিরুদ্ধে শুরু হওয়া একটি অভিযানের অংশ।
পিকেকে তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের চোখে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। ১৯৮০-এর দশকে তুরস্ক থেকে স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্রের দাবিতে তারা সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করলেও পরে তারা স্বায়ত্তশাসন ও অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চালায়। চার দশকের এই সংঘাতে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
চলতি বছরের মার্চে পিকেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এরপর মে মাসে তারা সশস্ত্র সংগ্রামের পদ্ধতি পরিত্যাগ করে সংগঠনটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেয়। চলতি সপ্তাহেই তাদের কিছু যোদ্ধার ইরাকের কুর্দিস্তানে অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত মে মাসে পিকেকে এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করছি। তুর্কি-কুর্দি সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সময় এসেছে।
সংগঠনটি জানায়, এখন থেকে কুর্দি রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও একটি গণতান্ত্রিক কুর্দি জাতি গঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। পিকেকে তাদের ‘ঐতিহাসিক মিশন’ শেষ করেছে।
উল্লেখ্য, পিকেকে প্রধান আবদুল্লাহ ওজালান। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে তুরস্কে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক বিবৃতিতে সব সশস্ত্র গ্রুপকে ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় এলো এই বিলুপ্তির ঘোষণা।
সুলতানা দিনা/