গাজায় কয়েক হাজার ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। গত মার্চে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এ ধরনের কাজে হাত দেয় তারা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হাজার হাজার বেসামরিক ভবন পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে। চাঞ্চল্যকর এ তথ্য উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্র, যাচাই করা ভিডিও ফুটেজ ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি যাচাই করে এর সত্যতা পেয়েছে।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণে গত শুক্রবার ভোর থেকে অন্তত ৩০ জন মারা গেছেন। চিকিৎসা সূত্রগুলো আল-জাজিরাকে তথ্যটি জানিয়েছে।
গাজায় অনেক ক্ষেত্রে শহর ও শহরতলি একেবারে সমান করে ফেলা হয়েছে। একসময় সেসব স্থানে হাজার হাজার মানুষ বাস করতেন।
স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতেই এ ধ্বংসলীলা চলছে। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, পরিকল্পিতভাবেই এ কাজ করা হচ্ছে। আগে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এমন ভবন যেমন ভাঙা হচ্ছে, ঠিক একই গতিতে ভেঙে ফেলা হচ্ছে অক্ষত ভবনও।
বিবিসির হাতে এ-সংক্রান্ত একটি ফুটেজ এসেছে। তারা সেটি যাচাই করেছে। ওই ফুটেজে দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিতভাবে ভবন ধ্বংসের কাজ চলছে। এতে ধুলা ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ছে। এ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্কুলের মতো অবকাঠামোও। তারা মূলত সব অবকাঠামোই ভেঙে ফেলছে।
বিবিসিকে একাধিক আইন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ইসরায়েল যা করছে তা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ। জেনেভা কনভেনশনের নিয়ম অনুসারে, দখলদার বাহিনী এ রকম বড় পরিসরে সব ভেঙে ফেলতে পারে না।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেন, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সব করছেন। বেসামরিক এলাকায় হামাসের সামরিক সম্পদ ছিল। এ ধরনের সম্পদের ধ্বংস সামরিক প্রয়োজনীয়তা থেকেই করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি হামলায় এরই মধ্যে গোটা গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধসে পড়ার দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। তাদের হাতে প্রয়োজনীয় রসদ নেই। এমনকি হাসপাতাল চালু রাখার মতো জ্বালানিরও অভাব রয়েছে। তার পরও প্রতিদিনই তাদের প্রচুর আহত ব্যক্তির ঢল সামাল দিতে হচ্ছে। ওষুধ ও অন্যান্য রসদের স্বল্পতায় ডাক্তারদের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে– কাকে তারা চিকিৎসা দেবেন, কাকে দেবেন না।
আল-জাজিরার খবর বলছে, শুক্রবারের সর্বশেষ হামলায় ইসরায়েলি আক্রমণে গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় তিনজন মারা গেছেন। উত্তর গাজার জাবালিয়া আন-নাজলায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসিতেও হামলা হয়েছে। ওই এলাকাকে এর আগে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ বলে অভিহিত করেছিল ইসরায়েল। কিন্তু তাদের সর্বশেষ হামলায় সেখানে অন্তত পাঁচজন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু। আল-জাজিরার খবর বলছে, আল-মাওয়াসিতে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
এ ছাড়া ইসরায়েলের গুলিতে নিহত হয়েছেন সাত সহায়তাপ্রত্যাশীও। আল-জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেছেন, আহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। কয়েকজন আহতের ক্ষত দেখে মনে হয়েছে, তারা ড্রোন আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
মাহমুদ বলেছেন, ‘ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র পেরেক, লোহা ও শার্পনেলে বোঝাই থাকে। সেগুলো খুব দ্রুত গতিতে এসে বিস্ফোরিত হয়, এতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও দেখা দেয় আহতদের মধ্যে।’
মাহমুদ জানান, এ ধরনের আক্রমণ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ভিড়কে লক্ষ্য করে এ রকম আক্রমণ চালানো হয়। এদের অনেকেই বাজারে বা পানির জন্য লাইনে অপেক্ষারত অবস্থায় হামলার শিকার হন। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা